মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা ব্যক্তির নিজের উপর নির্ভর করে যেভাবে

সালমা তালুকদার 
অনেকেই জিজ্ঞেস করেন, আমি সব সময় ভালো থাকি কি করে! অনেকে আবার নিজেরাই তাদের পর্যবেক্ষণ শক্তি দিয়ে খুঁজে নেন, আমার ভালো থাকার রহস্য। সেখানে কোনো কিছুর অভাব নেই। নেই কোনো দুঃখ। শুধু সুখ আর শান্তি। আমার জীবন জুড়ে শুধুই পূর্ণতা।
তারা একবারও ভাবেন না,একজন মানুষের জীবনে শুধু ভালোটাই কি করে থাকে! ভালো মন্দ, সুখ দুঃখ নিয়েই যেখানে জীবন। সে যাই ই হোক,বলছিলাম ভালো থাকা নিয়ে।
পৃথিবীতে এক একজন মানুষ একেক রকম। কারো সাথে কারো মিল নেই। তবে চেহারা বলি আর মনের মিল বলি,মাঝে মাঝে একজন আরেকজনের সাথে মিলে যায়। সেক্ষেত্রে চেহারার মিলের চাইতে সবাই মনের মিলটাকেই প্রাধান্য দেয় বেশি। কারণ আজকাল মনের মতো বন্ধু পাওয়াটা মুশকিল। তাই এমন কাউকে যদি পাওয়া যায়,যার সাথে কথা বলে শান্তি পাওয়া যায়। তাহলে সেই মানুষটিকেই পরম আপন মনে হয়।
বলছিলাম মানুষের ভালো থাকা নিয়ে। ভালো থাকা আসলে নির্ভর করে ব্যক্তির নিজের উপর। মনের মতো মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল বলেই মানুষ কারুকে বিশ্বাস করতে পারে না। মনের কথা বলতে পারে না। অথবা বলে ফেললে কখনো হয়তো বিপদে পরে। আর তাই নিজেকে ধীরে ধীরে গুটিয়ে ফেলে। পরিচিত গন্ডীটা অনেক ছোট করে নিয়ে আসে। ভালো থাকার একটা বড় মাধ্যম হলো মানুষের সাথে মেশা। আড্ডা গল্পে কিছুটা সময় পার করা। কিন্তু এই জায়গাটায় ধাক্কা খাওয়া মানে ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থহানি ঘটা। যেখানে মনই ভালো থাকে না, সেখানে শরীর কি করে ভালো থাকে।
 মিশবেন না করেও, কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সাথে,বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিবেশীর সাথে, আত্মীয় স্বজনের সাথে মিশতেই হয়। আর মিশতে গেলেই কষ্ট পেতে হয়। কষ্ট পাওয়ার কারণ স্পষ্ট। কারো হয়তো কথা বলার ভঙ্গী ভালো না। কেউ হয়তো জানেই না কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয়। আবার অনেকের মানসিকতা এতই নেগেটিভ যে, আপনি ভালোর জন্য কোনো কথা বলবেন। সেটাই আপনার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। মোট কথা বিভিন্নরকম মানুষের সাথে মিশতে গিয়ে ধাক্কা খেতে খেতে অনেকে মেশাই বন্ধ করে দেন। ঐ যে বললাম, নিজেকে গুটিয়ে নেন।
এটা এক অর্থে ভুল। অন্য অর্থে সঠিক। সঠিক তাদের জন্য,যারা বেশি টেনশান করেন। অথবা যারা অন্যের আচরণে কষ্ট পেয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরেন। আর ভুল তাদের জন্য, যারা মানসিকভাবে অনেক শক্ত। যারা অন্যের বাজে সমালোচনাকে খুব বেশি গুরুত্ব সহকারে নেন না। যারা ভাবেন লোকের কথায় কান দিলে নিজেরই ক্ষতি। তারা কখনো নিজেকে লোক সমাগম থেকে গুটিয়ে নেন না। নেয়া উচিৎ ও না। এত বড় একটা পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষের কোটি কোটি আচরণের ভীরে অবশ্যই ভালো কিছু আচরণের মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে। মনের মতো মানুষও অনেক আছে। যাকে খুঁজে নিতে হবে।
আগের কথায় আসি। আমি কেন ভালো থাকি। আমার ভালো থাকার রহস্য যদি ছোট করে বলি,তাহলে বলতে হয় আমি নেগেটিভ মানসিকতার মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকি। চলার পথে হয়তো কারো সাথে আমার বেঁধে গেলো। দোষ যদি আমার হয়,তাহলে অবশ্যই শুধরে নেব। আর দোষ যদি আমার না হয় তাহলে,যে মানুষটা আমাকে কষ্ট দিলো। অথবা যার খারাপ আচরণ বা মিথ্যা অপবাদের জন্য আমার রাতের ঘুম হারাম হলো সেসব মানুষকে আমি আমার জীবনে রাখার প্রয়োজন মনে করি না।
কারণ মানবের ধর্ম হওয়া উচিৎ, প্রতিনিয়ত নিজেকে শোধরানো। আমরা মুখে বলি ভালো খারাপ মিলিয়ে মানুষ। কিন্তু আমরা কয়জন ভালো হওয়ার চেষ্টা করি। নিজেদের ভুল গুলো শোধরানোর পেছনে সময় ব্যায় করলে, অন্যের দোষ ধরার জন্য আমাদের কাছে সময়ই থাকতো না। আর যারা প্রতিনিয়ত নিজের ভুলগুলো নিয়ে কাজ করেন, তারা যদি বুঝতে পারেন যে মিথ্যা অপবাদের স্বীকার হয়েছেন। অথবা কেউ তাকে অযথাই কথা দিয়ে, আচরণ দিয়ে ঘায়েল করার চেষ্টা করছেন, তাহলে তিনি ঐসব মানুষ থেকে দূরে থাকেন। কারণ সুস্থ ও সুন্দরভাবে জীবন পার করতে হলে, অসুস্থ ও বিকারগস্ত মানুষের সঙ্গ পরিত্যাগ করতে হবে। যার কাছ থেকে কিছু শেখার নেই অথবা যাকে শেখালে সে শিখবে না তার থেকে দূরে অবস্থান করাই শ্রেয়।
শেষ কথা হচ্ছে, ভালো থাকতে হলে নিজেকে ভালোবাসতে হবে। আর নিজেকে ভালোবাসলে মন খারাপের কারণ গুলো শনাক্ত করতে হবে। আর সেই অনাকাঙ্ক্ষিত কারণ গুলোর সাথে যদি কোনো কাছের অথবা স্বল্প পরিচিত মানুষের সংস্পর্শ থাকে তাহলে তার সঙ্গ পরিত্যাগ করতে হবে। ভালো থাকার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি কারণ হচ্ছে,”সৎ সঙ্গ।”ধন্যবাদ।
লেখকঃ
স্পেশাল এডুকেটর
প্রয়াস,যশোর অঞ্চল
যশোর সেনানিবাস
যশোর
আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.