জ্ঞানীর নিজস্বতা

আরেফিন আল ইমরান

১) সত্যিকার জ্ঞানচর্চা অত্যন্ত কঠিন ও শ্রমসাধ্য একটি বিষয়। জীবনভর লেগে থাকার মত সংযম ও অধ্যবসায় এখানে অনিবার্য। রাতারাতি কেউ জ্ঞান কিংবা নির্বাণ লাভ করেনা।

২) প্রচুর পড়াশোনা আবশ্যক। কিন্তু কেবল বই পড়া বিদ্যা দিয়ে জ্ঞানী হওয়া অসম্ভব। এর জন্য নিজস্ব অন্তর্দৃষ্টি ও বিশ্লেষণ শক্তি থাকা অপরিহার্য।

৩) জ্ঞান-বিজ্ঞান একটি ক্রমধারা মেনে চলে। পূর্বের মণিষীদের তত্ত্ব এবং বর্তমান পৃথিবীর তত্ত্ব : উভয়ধারাকে জেনে-বুঝেই এই রাজ্যে সচল ও সক্রিয় থাকতে হয়।

৪) মোল্লাতন্ত্র-পুরোহিততন্ত্র এসব দ্বারা প্রভাবিত সংকীর্ণ চিন্তার মানুষরা জ্ঞানীর ছদ্মবেশ ধারণ করতেই পারেন, তবে তার সাথে সত্যিকার জ্ঞানের কোনো সম্পর্ক নেই।

৫) জ্ঞানী সময় থেকে এগিয়ে থাকেন। সত্য ও জ্ঞানের স্বার্থে সম্ভাব্য সব ধরণের ঝুঁকি গ্রহন করার শক্তি রাখেন। নিন্দা বা সমালোচনা দিয়ে তার উত্থান রোধ করা যায়না।

৬) জ্ঞানের জন্য অহংকার প্রকাশ করা প্রত্যেক ব্যক্তিই দিনশেষে আত্মপূজারী। প্রকৃত জ্ঞানী নিজের জানাকে যথেষ্ট ভাবেন না। প্রজ্ঞার ক্রমাগত উৎকর্ষ সাধনেই তার জীবন অতিবাহিত হয়।

৭) জ্ঞানী ব্যক্তি যে সব সময় সততা ও ন্যায়ের পক্ষে থাকবেন, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। প্রবৃত্তির দাসত্ব কিংবা নিজস্ব পক্ষপাত তাকেও বিপথগামী করতে পারে।

৮) জগতে সকল জ্ঞানীর তত্ত্ব ও উদ্ভাবন এজন্যই উপকারী নয়। সেখান থেকে ভালোটা বাছাই করে, মন্দটা পরিহার করাই উৎকৃষ্ট জ্ঞানীর লক্ষণ।

৯) সত্যিকারের জ্ঞানী পুরস্কার ও জনপ্রিয়তার মোহে বশীভূত হননা। মানবতার সামগ্রিক কল্যাণ ও সৃষ্টিকর্তার সন্তোষ উৎপাদনই তার মূল লক্ষ্য হয়ে থাকে।

১০) তিনি জ্ঞানের উত্তরাধিকার সৃষ্টিতে সচেষ্ট থাকেন। স্বার্থপরের মত নিজের গণ্ডীতে আবর্তন করা তার বৈশিষ্ট্য নয়।

১১) সমাজ ও সভ্যতার অজস্র ব্যাধি ও ক্ষত দূর করতে করতেই তার জীবনকাল অতিবাহিত হয়। প্রকৃতপক্ষে জ্ঞানীর জীবনমাত্রই হারানোর মিছিল। নিজেকে বিসর্জন না দিয়ে, তিনি অন্ধকারে আলো জ্বালতে পারেননা।

১২) মৃত্যুর পরও তিনি আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে থাকেন। নিন্দুকের সমালোচনায় অথবা পরবর্তী জ্ঞানীদের বিচার-বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে জগতে তার বিচরণ থেকেই যায়। মহাকালের কোনো এক পর্যায়ে তিনি অবশ্যই মূল্যায়িত হন।

লেখকঃ সাহিত্যিক ও সঙ্গীত পরিচালক

আরও পড়ুন