আল মাহমুদ

 

১৯৩৬ থেকে ২০১৯ এ বছর গুলো যারা বাংলার মাটিতে অতিক্রম করেছেন তাঁরা সবকিছুই দেখেছেন। দেশভাগ,পাকিস্তানীদের শোষন, আমাদের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ নিজের চোখে দেখা ভাষা সাহিত্যিক হাতে গোনা। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো তথাকথিত কোলকাতার বুদ্ধিজীবীদের মুসলমান বাংলা সাহিত্যিকদের প্রতি একধরনের হীন মানসিকতা পোষন। আলমাহমুদ একদম খাঁটি মুসলমান ঘরানার সাহিত্যিক হয়ে আধুনিক বাংলা সাহিত্যকে ভিন্ন এক মাত্রায় উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী, মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ যোদ্ধা এজন্য তাঁর বিরুদ্ধে কোনো রকমের বিরুদ্ধ বাঙালিয়ানার অভিযোগ কোনদিন তোলাও সম্ভব হয়নি। আল মাহমুদের কবিতা সম্ভার বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ সম্পদ। বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ সময় কে তিনি কবিতায় বাঙময় করে তুলেছেন, এ বিষয়ে সন্দেহ করার মতো বিদগ্ধ পাঠক খুব কম পাওয়া যাবে।
আমি আসলে কবিতার বিষয়টি শিকায় তুলে রেখে উপন্যাস আর গল্পের দিকে সামান্য আলোকপাত করতে চাইছি। আল মাহমুদের উপন্যাস কালজয়ী তো হয়েছেই বরং গল্প নিয়ে যাবে পাঠককে অদ্ভুত এক সীমাহীন আনন্দের জগতে। বার বার একটি গল্প পড়েও তৃষ্ণা মেটেনা এরকম এক ভালো লাগা তৈরী করেছেন আল-মাহমুদ । তাঁর গল্প সমগ্র বিষয়ে তৎকালীন ভাষা সাহিত্যিকেরা চমকে গিয়েছিলেন। কিরে কবি আল মাহমুদ উপন্যাস আর গল্প ও লেখেন! অদ্ভুত সৃজনশীল মানুষ ছিলেন। ধীরে ধীরে গল্প লিখতেন।
তাঁর “পানকৌড়ির রক্ত” কিযে সিরিয়াস সৃষ্টি তা বলাই বাহুল্য । আমি আজ তাঁর একটিমাত্র গল্পের কথা বলবো-
“জলবেশ্যা” আল-মাহমুদের একটি অনন্য গল্প। বাংলাদেশের মাটি, জল,নদী,প্রকৃতি,মানুষের শারীরিক চাহিদা,প্রেম-ভালোবাসা কি নেই গল্পটিতে। এখানেই আল- মাহমুদের মুন্সিয়ানা। দারুন এক কলমবাজ। একদম মানুষের ভেতরে ঢুকে এর নির্যাস বের করে নিয়ে আসেন। তিনি নিজেই বার বার বলেছেন আমি নর-নারীর শারীরিক চাহিদা আগে দেখি আর সৃষ্টির জয়গান গাই। কিন্তু মানুষের যাপিত জীবনের সংকীর্ণতা আর দূর্বলতা, আনন্দও তো বাদ যায়নি তাঁর লেখায়। তিনি পাওয়া না পাওয়ার বেদনাও তাঁর একটি পল্পে ধারন করেছেন। কেউ যদি কিছু না পড়ে আল-মাহমুদের শুধু “” গল্পটি একবার পড়েন তবে আধুনিক বাংলা গল্পের নতুন এক দ্বার পাঠকের কাছে উন্মোচিত হবে।
সালাম বস আল-মাহমুদ, যেখানেই থাকুন সুন্দর থাকুন নিয়ত এ কামনা আপনার জন্য আজ আর প্রতিদিন।

 

নূরে আলম মুকতা- কবিও সাহিত্যিক

আরও পড়ুন