ডিপ্রেশন ও কিছু কথা 

আজফার মুস্তাফিজ

| আজ যে ঘটনাটার জন্য কষ্ট পেয়ে তুমি কাঁদছ, কয়েক মাস কিংবা কয়েক বছর পর পিছন ফিরে ঐ একই ঘটনার কথা মনে পড়লে খেয়াল করবে, ‘তোমার আর কান্না পাচ্ছে না।’

| কোন কোন ক্ষেত্রে পিছনের ঐ কান্নার ঘটনার কথা মনে করলে তুমি হেসে ফেলবে আর ভাববে “কতটা বোকাই না ছিলাম!”

| তুমি বিশ্বাস করো আর নাই করো, “সময়” নামের জিনিসটা সবকিছু বদলে দেয়। মানুষের মন, মানসিক অবস্থা, সহনশীলতা সবকিছু।

| আর হ্যাঁ ভালোবাসাও সবকিছু বদলে দেয়, ভেতরটাকে সে নতুন করে সাজায়! প্রিয় মানুষকে ভালোবাসো। মা বাবাকে সময় দাও। ছোট ভাই-বোনদের সাথে মজা করো।

| আজ তোমার কাছে যেটা অনেক বেশি “মূল্যবান”, কাল কিংবা পরশু ঐটাই “মূল্যহীন” হয়ে যেতে পারে।

| অনেকেই মাঝে মাঝে প্রশ্ন করে, ‘আমি অমুক এর থেকে কষ্ট পেয়েছি ভুলতে পারছি না, আমার আর বাঁচতে ইচ্ছে করে না, ডিপ্রেসড লাগে, আমি কি করবো?’

| আমি সবাইকেই বলি, “TIME is a Great HEALER।” এটা আমার না গুনিজনের কথা। তাই সময়কে সময় দাও। সময়ের হাতে কষ্টগুলো তুলে দাও। সময় নিজেই সেবার মাধ্যমে সব মনোরোগ সারিয়ে তুলবে।

| ছোটবেলায় আমার একটা খেলনা হেলিকপ্টার ছিল, লাল, নিল আলো জ্বলতো৷ আমার খুব প্রিয় ছিল ওটা। কিন্তু একদিন সেটা ভেঙে গেল। নষ্ট হয়ে গেল সব লাইট গুলো। সেটি আর চলতো না। তার ধ্বংস হয়ে যাওয়া দেহবসেস নিয়ে আমি খুব কাঁদতাম। সবার এমন একটা গল্প আছে হয়তো। তাই ধ্বংস হয়ে যাওয়া গল্প বাঁচিয়ে রাখবে না। স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকা বোকামি। আরো বোকামি স্মৃতি ভেবে কষ্ট পাওয়া।

| ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়ে কতবার কেঁদেছ?
ছুলে গেছে পিচ রাস্তায় হাটু?
সাইকেল চালানো শিখতে কতবার পড়েছ?
রাস্তায় ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলে তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়িয়ে আবার হাঁটা শুরু করো, সাইকেলটা তুলে আবার প্যাডেলে চাপ দাও, তাই না?
মানুষও তো দুই চাকার সাইকেল। আবার প্যাডেলে চাপ দাও। তোমার জন্য অপেক্ষায় কাতর সোনালী গন্তব্য। দেরী করো না।

| একটু সময় নিয়ে কষ্ট সহ্য করো, এক সময় হয় কষ্টটা ভুলে যাবে অথবা কষ্টটা আর গায়ে লাগবে না কিংবা তুমি এই কষ্টটার কথা মনে করে হাসবে!সবথেকে ভালো হয় স্মৃতি গুলো সুখের মনে করা। দেখবে অনেক ভালো মুহুর্ত কাটিয়েছ। সেগুলো অনেক সুন্দর তাই না? দেখেছ তোমার জীবনে সে মুহুর্ত এসেছে। তুমি অনেক ভাগ্যবান। এমন আরও অনেক মুহুর্ত আসবে, নিজেকে তৈরী করে ফেল সেগুলো উপভোগের জন্য।

| চোখ থেকে না হয় দু ফোঁটা অশ্রু পড়ল, হাত বাড়িয়ে ঘুমের ওষুধটা নিয়ে ঢক করে পানি দিয়ে গিলে খাওয়ার, চেয়ে হাতের আঙুল দিয়ে বরং অশ্রুটুকু মুছে ফেলা সহজ নয় কী? ট্রাস্ট মি, সব বদলে যাবে এক সময়।
✍️। আর আজকাল একটা জেনারেশনের ছেলে মেয়ে ডিপ্রেশনের অর্থও বোঝে না। তবুও তারা ডিপ্রেশনের ভুগছে। জিগ্গেস করলেই বলবে ডিপ্রেশনের আছি, কিছুই ভালো লাগছে না। এটাকে তারা একধরনের ফ্যাশন বানিয়ে ফেলেছে। (ফ্রি ফেসবুক অফ, ডিপ্রেশনের আছি।) ডিপ্রেশন কখনোই হতাশা নয়! দুটো আলাদা। জীবনের বেঁচে থাকার আর কোনো অর্থ না থাকলে তখন মস্তিষ্কে যে ভাবনা আসে সেটাকে ডিপ্রেশনের বলা যায়।

পরিশেষে একটা কবিতা লিখছি, এটাই আমার আসল কাজ।

“প্রতিবার ভেঙে গড়ি
আবার খুলে পড়ি।
মনের গভীরে ডুবে যায়
দেখি কী খুঁজে পাই!
ফিরে দেখলাম নজরে
ওয়াক্ত শুরু ফজরে।
আবার দিলাম দৌড়
আনব সেরা ভোর।”

লেখকঃ কলামিস্ট  ও মোটিভেশনাল লেখক 

আরও পড়ুন