বেকারত্ব নিরসনে বেকারদের প্রতি কয়েকটি পরামর্শ

কাজী কাওছার সুইট
ভাই একটা চাকরি দরকার, খুবই দরকার।পড়াশোনা শেষ, বেকার হয়ে গেছি। বাড়ি থেকে অনেক চাপ দিচ্ছে। কোনরকম একটা কাজ হলেই চলবে। শুধুমাত্র আপনি নেক নজর দিলেই হবে। আপনারা তো অনেক বড় বড় মানুষের সাথে ওঠা বসা করেন, চাইলেই পারবেন। এটা কোন ব্যাপারই না। ছোট ভাইদের জন্য যদি না করেন তাহলে কার জন্য করবেন?
এমন অনেক অনুরোধ নিত্যদিনই শুনতে হয়। কেউ কেউ এমনভাবে বলেন যেন প্রতিষ্ঠান আমার নিজের। আমি চাইলে যা খুশি করতে পারি। বাস্তবতা ভিন্ন। আমরা চাইলেই কিছু পারি না।
এমন অতি উৎসাহীদের কে বলছি। আপনার যেমনটা মনে করেন প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি তেমন নয়। আমরা যারা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করি আমাদের প্রতিনিয়ত শঙ্কার মধ্যে কাজ করতে হয়। কাল সকালে এসে চাকরিটা অক্ষত পাবো কি না? এই শঙ্কা। আশেপাশের অনেককেই দেখি প্রতিষ্ঠান থেকে একটা সময় দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। কেউ কেউ আগেভাগে সময় থাকতে অন্য কোথাও জব খুজে চলে যায়।
প্রাইভেট চাকরি মানে আপনার দুটি হাতের সাথে অদৃশ্য আরো দশ থেকে বারোটি হাত থাকতে হবে। যা দিয়ে আপনি কমপক্ষে বারো রকমের কাজ করে দিতে পারবেন। বর্তমান সময়ে শুধুমাত্র একটা কাজ দিয়ে ম্যানেজমেন্টকে খুশি রাখা দুরুহ ব্যাপার। আপনাকে যেমন সোর্স করতে হবে, তেমনি সেল করতে হবে, ডেভেলপমেন্ট করতে হবে, প্লান করতে হবে, টার্গেট নিতে হবে, টার্গেট এসিভ করতে হবে, নতুন নতুন আইডিয়া জেনারেট করতে হবে। আরো কত কি। এক কথায় One Man Army.
মজার ব্যাপার হলো এসব কাজের জন্য আপনার আশেপাশে যারা থাকবে তারা কেউ কেউ নিজেদের এমন পন্ডিত মনে করে যে, তারা যেটা বলে সেটাই ঠিক, এর বাইরে আর কিছু নাই। অথচ তারা কম্পিটিটর কি করছে সেটাও দেখেও না, বিন্দুমাত্র পড়াশোনাও করে না, নতুন করে কোন আইডিয়াও জেনারেট করে না। বস যা বলবে তাই। বস যদি বলে হ্যাঁ তাহলে সেটা হ্যাঁ আর না বললে না। তাদের জানার আগ্রহও নাই আর নিজেকে বাঁচাতে প্রধান হাতিয়ার কপি-পেস্ট। এসব করে বস্তুত নিজের ক্যারিয়ার বেশিদুর নিয়ে যাওয়া কঠিন। তাই প্রতিনিয়ত শিখতে হবে। হবেই হবে।
যারা চাকরি প্রার্থী আছেন তাদেরকে বলছি, আপনার পরিচিত, ক্যাম্পাসের বড় ভাই, আত্মীয়, কাছের মানুষ তারা চাইলেই অনেক কিছু করে দিতে পারে না। তারা যথেষ্ট চেষ্টা করে বিনিময়ে আপনারা তাদের ভুল বোঝেন। আপনার কথা কাউকে বলে যাতে ব্যর্থ হতে না হয় তাই নিচের পয়েন্টগুলো ভালোভাবে লক্ষ্য করুন। আপনার পছন্দের চাকরি পেতে কি ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
১. তথ্য-প্রযুক্তির যুগে আপনাকে অবশ্যই কম্পিউটার চালনায় পারদর্শী হতে হবে।
২. ইন্টারনেট চালনায় দক্ষ হতে হবে।
৩. আপনি যে সেক্টরে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশে কারা সেসব নিয়ে কাজ করছে তা খোজখবর রাখতে হবে।
৪. বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই এসব নিয়ে কাজ করতে হবে।
৫. শুধুমাত্র সেরা রেজাল্ট দিয়ে কিছু হবে না, তাই নিজেকে সামাজিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
৬. শুদ্ধ ভাষায় কথা বলার দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
৭. বিনয়ী এবং ভদ্র হওয়া বাধ্যতামূলক কারণ যারা বেয়াদব তারা কখনো ভালো কিছু করতে পারে না।
৮. দক্ষতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন সংগঠনের ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করা যেতে পারে।
উপরের সবই আপনি আপনার বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে পড়াকালীন সময়ে করতে পারবেন। হয়ত দুপুরে ঘুম হবে না, বন্ধুদের সাথে আড্ডা হবে না, পার্টিতে যাওয়া হবে না। তবে একটা সময় আপনিই ভালো থাকবেন, আর যারা পার্টি করত, আড্ডা দিত ননস্টপ, দক্ষতা অর্জনের কোন চেষ্টাই করত না তারাই একসময় ঘুরবে চাকরির জন্য।
আর হ্যাঁ বেতন যাই হোক একবার যদি চাকরির সুযোগ এসে যায় সেটা হাত ছাড়া না করাই ভালো। কারণ কাজ করতে গিয়ে মানুষ যা শেখে তা কখনোই ভুলে যায় না।
তাই চেষ্টা চলতে থাকুক, সফলতা আসবেই, নিজের গল্প পাল্টাতে হবে নিজেকেই…..

লেখকঃ সহকারী ব্যবস্থাপক,  বিজনেস ডেভেলপমেন্ট,  অথবা ডটকম (www.othoba.com)

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.