নারীরা পুরুষের চেয়ে পিছিয়ে পড়ার কারণ

ডা. তারাকী হাসান মেহেদী

প্রত্যেক মানুষই ইউনিক, স্বতন্ত্র । সবার ভেতর স্পেশাল কিছু না কিছু আছেই। কিন্তু আমরা সেটা আবিষ্কার করতে পারি না।

এর কারণ হল, বেশিরভাগ মানুষই নিজেকে চিনে না, জানে না, বুঝে না ।আমরা যতটা না নিজেকে জানার চেষ্টা করি, তার চেয়ে বেশি অন্যদের জানার চেষ্টা করি…

লোকে কি ভাবছে? তারা কি করছে? উনি এতো বড়লোক কেন? সে এতো সুন্দর কেন? এসবের পেছনেই আমরা সময় নষ্ট করি। নিজের ভেতর যে সুপ্ত প্রতিভা, শক্তি, সৌন্দর্য আছে, সেটা আর চোখে পরে না। পৃথিবীতে পুরুষ নারী একই সময়ে এসেছে । অথচ এখন পর্যন্ত নারীরা পুরুষদের চেয়ে পিছিয়ে কেন?

কারণ তারা নিজেদের চেয়ে অন্যের ব্যাপারেই সময় ব্যয় বেশি করে । কে কেমন ড্রেস পড়ল, পাশের ফ্ল্যাটের ভাবী বা তার মেয়েরা কেমন, পার্টিতে কে কি রকম গহনা পড়ল, যাকে পছন্দ হয় তার সুনাম, যাকে দেখতে পায় না তার বদনাম- এসব নিয়েই ব্যস্ত থাকে বেশি । প্রয়োজন নেই, এরপরেও কোন এক লোকের চোদ্দ গুষ্ঠির গল্প তুলে ঘণ্টার পর ঘন্টা কেটে দিবে ।

আর যেসব নারী এসবের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে নিজের প্রতি সময় দেয়, তারাই সফল হয়। আর বাকিরা কন্যা হয়ে জন্মে, বউ হয়ে যৌবন পার করে, মা হয়ে মারা যায় । এর বাহিরে নিজের আর কোন পরিচয়ই থাকে না তাদের।

বেশিরভাগ লোকের কাছেই সফলতা মানে হল ধনী হওয়া, গাড়ি বাড়ির মালিক হওয়া । ছোট বেলা থেকেই আমাদের মনে এটা এমন গভীরভাবে ঢুকে দেওয়া হয় যে, জীবনে যদি গাড়ি বাড়ির মালিক না হতে পারি, তাহলে আমরা নিজেদের ব্যর্থ ভাবা শুরু করি। আমার কাছে সফলতার সংজ্ঞা একটু ভিন্ন রকম ।  আমার মতে, নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানো হলই সফলতা । সে লক্ষ্য যেটাই হোক না কেন ।

সফলতা- ব্যর্থতা মিলেই মানুষের জীবন । সমস্যা হল, সফলতা আমরা খুব কমই দেখার চেষ্টা করি । শুধু ব্যর্থতাকে আমরা খুঁজে বের করি । অথচ একজন মানুষ তার ব্যক্তি জীবনে ব্যর্থতার চেয়ে সফলতাই বেশি থাকে । ক্লাস ওয়ান পড়ুয়া কোন এক বাচ্চার ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টু তে উঠাই একটা সফলতা । অথচ সেটা না দেখে আমরা খুজি তার ব্যর্থতা । তার রোল কত হল, সে ক্লাসে ফার্স্ট হল কি না । এসবের আড়ালে তার সেই সফলতাকে হারিয়ে ফেলি।

কত লোক প্রতিদিন মারা যাচ্ছে । আজকেও কয়েক হাজার লোক সারা পৃথিবীতে মারা গেছে । এর মাঝে আমি যে এখনো বেঁচে আছি, এটাও আমার জন্য একটা সফলতা । কত লোক না খেয়ে আছে, আর আমি যে তিনবেলা খাবার খেতে পারছি, সেটাও আমার সফলতা।

দুজন বন্ধুকে চিনতাম । দুজনই ছাত্র । একজন কোন মতে এ গ্রেড পেয়ে পাশ করতে পারলেই খুশি । আরেকজন গোল্ডেন ছাড়া আর কিছু পেতে নারাজ। রেজাল্টের পর দেখা গেল যে যেরকম চেয়েছিল, তেমনই পেয়েছে । তারা নিজের কাছে সফল । অথচ সমাজ একজনকে বানিয়ে দিল সফল, অন্যজনকে বানলো ব্যর্থ । কারণ সমাজের কাছে সফলতার সংজ্ঞা হল এ প্লাস।

আসলে, যা কিছু হোক না কেন, সব সময় নিজের লক্ষ্যের উপর স্থির থাকা উচিত । কে কি ভাবল তাতে কিছু যায় আসে না । আপনার কোন কিছুতে ভুল ধরার সময় আশেপাশে ঠিকই বহু লোক খুঁজে পাবেন, কিন্তু বিপদে পড়লে একজনকেও সাহায্যর জন্য পাশে পাবেন না ।  দুনিয়ার সবাইকে একসাথে কখনো খুশি করতে পারবেন না ।  সে চেষ্টাও করা উচিত না । হিটলারকে সারা দুনিয়ার লোকেরা অপছন্দ করত, কিন্তু তার দেশের লোকেরা ঠিকই পছন্দ করত ।

অন্যকে খুশি করার আগে নিজেকে খুশি করা প্রয়োজন ।  কি করলে আপনার ভাল হবে, কিসে আপনার ভাল লাগে, সেটা আপনি নিজেই সবচেয়ে ভাল জানেন । অন্যরা হয়তো বড়জোর পরামর্শ দিতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে হবে নিজেকেই ।

নেগেটিভ চিন্তার মানুষকে সবসময় এড়িয়ে চলা উচিত । আমার মনে হয়, ব্যক্তিজীবনে যারা ব্যর্থ, তারাই নেগেটিভ মনের হয় । আর ব্যর্থদের কখনো অনুসরণ করতে হয় না । তাদের কখনো আদর্শও মানতে হয় না ।

আমরা বেশিরভাগ লোক অন্যকে অনুসরণ করতে পছন্দ করি, কিন্তু নিজে অনুসরিত হতে নয় । যেদিন আপনি অন্যের অনুসরিত হতে পারবেন, সেদিনই বুঝবেন আপনি সফল । মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হওয়া উচিত নিজের জন্য বিনিয়োগ করা ।  আর, নিজের জন্য সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হল নিজেকে জানার জন্য সময় ব্যয় করা । যে যত বেশি নিজেকে জানতে পারে, সে তত বেশি সফল হয় জীবনে ।

 

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.