Ads

ইসলাম এবং একমাত্র গন্তব্য ।। ১ম পর্ব

।। জুবাইদা পারভীন লিপি ।।

আপনি কি মুসলিম? আল্লাহ এবং তাঁর নবী সম্পর্কে নিশ্চয় জানেন এবং মানেন? হ্যাঁ একজন মুসলিম হিসেবে আপনাকে বিশ্বাস করতেই হবে যে আল্লাহ আছেন। আমি জানি আপনি মনে প্রাণে তা বিশ্বাস করেন। কারণ সেই কোন ছোট বেলায় বাড়িতে কিংবা মক্তবে ভাইবোন অথবা সমবয়সী কিংবা বয়সে কিছু ছোট বড় বন্ধুদের সাথে একত্রে বসে কায়দা, আমপারা পড়া শিখেছেন! পরবর্তিতে হয়ত বাড়িতে কুরআন শিক্ষা করেছেন। এখন বলেন তো কে আপনাকে মক্তবে পাঠিয়েছিল? কে’বা কুরআন শেখানোর জন্য শিক্ষক রেখেছিল? উত্তর হচ্ছে মা বাবা।অর্থাৎ মুসলিম মা বাবা তার সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই ধর্ম মেনে চলার বিষয়ে শিক্ষা দেন। ওই যে আপনার মা, তিনি তো ছোটবেলায় আপনাকে ঘুম পাড়াতে গিয়ে ছোট ছোট সূরা দোয়া দরুদ পড়ে শোনাতেন এবং শেখাতেনও, তাই না? ওভাবে কানে শুনতে শুনতে একদিন আপনিও বেশ কতগুলো দোয়া শিখে ফেললেন। দারুন ব্যাপার!

এটাই হচ্ছে ইসলাম ধর্মের সৌন্দর্য! আরো কিছুটা বড় হবার পর ধীরে ধীরে কুরআনের বড় সূরাগুলো আপনি মুখস্ত করে ফেললেন। শুধু কি তাই! আযান শুনে মায়ের সাথে রীতিমত নামাজ পড়া শুরু করলেন। আহা কতই না সুন্দর সেই দৃশ্য! অথচ আফসোসের বিষয় কি জানেন, সেই আপনি যখন স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে গেলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেন, তখন আপনার ব্যাপক পরিবর্তন হওয়া শুরু হলো। অবশ্য সবাইকে এক কাতারে ফেলতে রাজি নই আমি। তবে বেশির ভাগই ক্যামন যেন বদলে যায়। নামাজে গাফিলতি চলে আসে। আযান কানে গেলেও না শোনার ভান করে থাকেন।

আরও পড়ুন-

ইসলাম বিরোধী মেডিয়া যাদের মুসলিম বানালো !

অথচ আপনি জানেন, আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নামাজের ঘর আছে। কোথায় যেন রবের সাথে একটা লুকোচুরি খেলা শুরু হয় আপনার! আপনি সেটা খুব ভালো ভাবে বুঝতে পারেন। আসলে কি জানেন, আপনার সাথে আপনার রবের দূরত্ব বাড়াতে চাইছে শয়তান। যদি আপনি নামাজ পড়েন, আপনার রবকে স্মরণ করেন তাহলে শয়তান কিন্তু হেরে যায়। এটা জানেন? অবশ্যই জানেন কারণ আপনি একজন মুসলিম। আপনাকে বিভ্রান্ত করার জন্য শয়তান আদাজল খেয়ে আপনাকে ভুল পথে চালিত করে। এজন্য সে আপনার পেছন ছাড়ে না। এখন এই শয়তানের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে কি করবেন? প্রথমে যেটা করবেন তা হলো নিয়ম করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। কারণ একজন মুসলিমকে নামাজরত অবস্থায় দেখলে শয়তানের গা পিত্তি জ্বলে যায়। ওদিকে নামাজে দাঁড়ানো অবস্থায় আপনার রব যখন দেখেন আপনাকে, তখন তিনি তাঁর ফেরেশতাদেরকে বড়ই আনন্দের সাথে তা দেখান এবং গর্ব করেন। এখন আপনি বলুন কাকে খুশি করতে চান, আপনার রবকে নাকি শয়তানকে?

চলবে…..

লেখকঃ কবি ও সাহিত্যিক ও বাংলাদেশ বেতারের ঘোষক

…………………………………………………………………………………………………………………………

মহীয়সীর প্রিয় পাঠক ! সামাজিক পারিবারিক নানা বিষয়ে লেখা আর্টিকেল ,আত্মউন্নয়নমূলক অসাধারণ লেখা, গল্প  ও কবিতা  পড়তে মহীয়সীর ফেসবুক পেজ মহীয়সী / Mohioshi  তে লাইক দিয়ে মহীয়সীর সাথে সংযুক্ত থাকুন। আর হা মহীয়সীর সম্মানিত প্রিয় লেখক! আপনি আপনার পছন্দের লেখা পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইলে-  [email protected]  ও  [email protected] ; মনে রাখবেন,”জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও উত্তম ।” মহীয়সীর লেখক ও পাঠকদের মেলবন্ধনের জন্য রয়েছে  আমাদের ফেসবুক গ্রুপ মহীয়সী লেখক ও পাঠক ফোরাম ; আজই আপনিও যুক্ত হয়ে যান এই গ্রুপে ।  আসুন  ইসলামী মূূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রজন্ম গঠনের মাধ্যমে সুস্থ,সুন্দর পরিবার ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখি । আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা সৎ কাজে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে চলো ।” (সূরা বাকারা-১৪৮) । আসুন আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখতে সচেষ্ট হই । আল্লাহ আমাদের সমস্ত নেক আমল কবুল করুন, আমিন ।

ফেসবুকে লেখক জুবাইদা পারভীন লিপি

আরও পড়ুন