ঈদে মিলাদুন্নবী ও করণীয়

উম্মে তাহমীদ (নূরজাহান নূরী)

অনেকে জিজ্ঞেস করেন ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা কি ঠিক?
মিলাদ অর্থ জন্মদিন ঈদে মিলাদুন্নবীর অর্থ হলো “নবীজীর জন্মদিনে খুশি”।
নবীজীর জন্মতারিখ আর মৃত্যু তারিখ তো একই তারিখে এখন জন্মদিন পালন করবেন, না কি মৃত্যুদিবস পালন করবেন?
আজ পর্যন্ত কেউ কোন দলিল দিতে পারেন নি যে, নবীজী (সঃ) উনার জন্মদিন, সাহাবীদের জন্মদিন, পরিবারের সদস্যদের জন্মদিন, মৃত্যুদিবস পালন করেছেন।

অনেকে বলেন নবীজী (সঃ) তো রোযা রেখেছেন, নবীজী (সঃ) জন্ম তারিখে রোযা রাখেন নি, রেখেছেন জন্মবারে। জন্ম তারিখে রোযা রাখলে তা বছরে একবার হইত কিন্তু নবীজী মুহাম্মদ(সঃ) রোযা রেখেছেন প্রতি সোমবার এবং বৃহস্পতিবার। জন্মবার আর জন্ম তারিখকে আমরা এক করে গোলমাল করে ফেলেছি।

যারা দ্বীনের মাঝে নতুন সংযোজন করে তাদের ব্যাপারে কি বলা হয়েছে?এই জন্মদিন এটি রাসূলুল্লাহ(সঃ) কিংবা তাঁর খলীফাদের সুন্নাত ছিল না। ফলে এটি একটি নিষিদ্ধ নব উদ্ভাবন, কেননা নবীজী(সঃ) বলেছেন: “আমি তোমাদেরকে আমার এবং আমার পরবর্তী সঠিক পথপ্রাপ্ত খলীফাদের অনুসরণের ব্যাপারে তাগিদ দিচ্ছি; তোমরা একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাক। [দ্বীনের মধ্যে] নব উদ্ভাবিত বিষয় সম্পর্কে সাবধান হও, কেননা প্রতিটি নবোদ্ভাবিত বিষয়ই বিদাত, এবং প্রতিটি বিদাতই হচ্ছে পথভ্রষ্টতা।” (আহমাদ, তিরমিযী)।
মিলাদুন্নবী একটি বিদাত যা মুসলিমদের দ্বীনকে নষ্ট করার জন্য ফাতিমীয় শিয়ারা চালু করেছিল। নবী আমাদের জন্য দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে রেখেছেন।
(সূরা আল মায়েদাহ:৩) – আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।

মিলাদুন্নবী উদযাপনের দ্বারা খ্রীস্টানদের অনুসরণ করা হয়, কেননা তারা মসীহের(আঃ) জন্মদিন পালন করে। আর তাদের অনুসরণ করা চূড়ান্ত হারাম কাজ। হাদীসে আমাদেরকে কাফিরদের অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং তাদের থেকে ভিন্ন হতে আদেশ করা হয়েছে। নবীজী(সঃ) বলেছেন: “যে কেউই কোন জাতির অনুসরণ করে, সে তাদেরই একজন হিসেবে পরিগণিত।”(আহমদ, আবু দাঊদ) এবং তিনি বলেন: “মুশরিকদের থেকে ভিন্ন হও।”(মুসলিম)- বিশেষত এই নির্দেশ সেসব বিষয়ের ক্ষেত্রে যা তাদের ধর্মীয় নিদর্শন এবং আচার অনুষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত।

আমাদের নবীজী(সঃ) তাঁর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে আমাদেরকে নিষেধ করেছেন, পাছে না আমাদের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার ঘটে, যা তাদের ক্ষেত্রে ঘটেছে, তাই তিনি(সঃ) বলেছেন: “অতিরঞ্জনের ব্যাপারে সাবধান! কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা অতিরঞ্জনের কারণেই ধ্বংস হয়েছিল।” (নাসাঈ, আলবানী কর্তৃক সহীহ হিসেবে স্বীকৃত)।

মিলাদুন্নবীর এই বিদাত উদযাপন অন্যান্য বিদাতের দ্বারকে উন্মুক্ত করে এবং সুন্নাত থেকে বিমুখ করে দেয়, এমনকি অনেক ফরয নিয়ে ও এরা চিন্তিত নয়। নামাজ, পর্দা, সৎ পথের আহ্বান যে ফরয কাজ। এসব নিয়ে এদের কোন মাথা ব্যথা নয়, যতটা উনারা বিদাতে উতসাহী । তাই বিদাতপন্থীদেরকে দেখা যায় বিদাতের ক্ষেত্রে খুব উৎসাহী আর সুন্নাত এবং ফরয পালনের ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা; তারা একে অন্যকে ঘৃণা করে এবং সুন্নাতের অনুসারীদেরকে শত্রুজ্ঞান করে, শেষ পর্যন্ত তাদের গোটা ধর্মই পরিণত হয় বাৎসরিক বিদাতী অনুষ্ঠানাদি এবং মিলাদের সমষ্টিতে।

আল্লাহ আমাদেরকে সব ফরয এবং সহীহ সুন্নত পালনের তৌফিক দান করুন, আর মুসলমান জাতিকে এক উম্মাহ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার হিম্মত ও মন মানসিকতা দান করুন। আমীন

আরও পড়ুন