জনৈক মহিলা ও তার পুত্রের ইসলাম গ্রহণের কাহিনী

হাফেজ মাওলানা নুরুল হক

হযরত আবু বকর (রা) বর্ণনা করেন, মক্কা থেকে হিযরত করে মদীনা যাওয়ার পথে আমরা একটি গোত্রের বস্তিতে পৌঁছে এক কুটিরে অবতরণ করলাম। তখন সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। ঐ কুটিরে এক মহিলা অবস্থান করতেন। সন্ধ্যায় তার পুত্র মেষপাল নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসল। তার মা তাকে একটি ছুরি দিয়ে বললেন- এই ছুরি ও একটি মেষ নিয়ে পথিক মুসাফিরদের নিকট গিয়ে বল, আপনারা এই মেষটি জবাই করে নিজেদের খাওয়ার ব্যবস্থা করুন আর আমাদেরকেও দিন। মহিলার পুত্র মেষটি নিয়ে তাদের নিকট পৌঁছলে নবীজি (সা) ছুরিটি ফেরত দিয়ে বললেন, দুধ দহনের জন্য পাত্র নিয়ে আস। ছেলেটি বলল, মেষটি কম বয়সের। এখনও পাঁঠার সংস্পর্শে আসেনি। (অর্থাৎ, দুধ দেয়ার সম্ভাবনা নেই) রাসূল (সা) বললেন, তুমি গিয়ে পাত্র নিয়ে আস। সে গিয়ে পাত্র নিয়ে আসল। রাসূল (সা) মেষটির স্তনে হাত বুলিয়ে দিয়ে দুধ দোহাতে শুরু করলেন। পাত্রটি দুধে পূর্ণ হয়ে গেলে তা বালকের মায়ের জন্য পাঠিয়ে দিলেন। সে তৃপ্তি সহকারে পান করলে রাসূল (সা) পূনরায় দুধ দোহালেন, অতপর সফরসঙ্গীগণ পান করলেন। সব শেষে রাসূল (সা) পান করলেন। সেখানে কাফেলা দুই রাত অবস্থান করল। কুটির বাসীরা রাসূল (সা)-কে “মোবারক, বরকত ও মঙ্গলময়” হিসেবে আখ্যায়িত করলেন।

ঐ মহিলার মেষপালে বরকত হল এবং সেগুলো বেড়ে অনেক হল। পরবর্তীতে মহিলা তার মেষপালসহ পুত্রকে নিয়ে মদীনায় গেলেন। পুত্র হঠাৎ বলে উঠল- “মা! ঐ যে মোবারকময় ব্যক্তির সাথী।” মহিলা তৎক্ষণাৎ হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা)-এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর বান্দা! আপনার সঙ্গী সেই মহাপুরুষ কে ছিলেন? হযরত আবু বকর (রা) বললেন, তিনি আল্লাহর নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা)। মহিলা বললেন, আমাকে তাঁর নিকট নিয়ে যান। আবু বকর (রা) তাদেরকে রাসূল (সা)-এর নিকট নিয়ে গেলেন। তাঁরা
রাসূল (সা) কে কিছু পনির ও গ্রাম্য উপহার সামগ্রী হাদিয়া দিলেন এবং সাথে সাথে ইসলাম গ্রহণ করলেন।
রাসূল (সা) তাঁদেরকে দাওয়াত খাওয়ালেন এবং পরিধেয় ইত্যাদি উপহার দিলেন।

(বুখারী শরীফ, খঃ ৫ম, পৃঃ ২১৬, অনুবাদ- হামিদিয়া লাইব্রেরী। বিদায়া ওয়ান নেহায়া-৩/পৃঃ ১৯২)

আরও পড়ুন