Ads

হজ্জ জীবনে একবার কিন্ত প্রভাব সারা জীবনের।। চতুর্থ পর্ব

।। জামান শামস ।।

বায়তুল্লাহ শরীফের হজ্জ আদায় করা ইসলামের অন্যতম একটি রুকন ও মূল ভিত্তি। দলীল হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী:

بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالْحَجِّ وَصَوْمِ رَمَضَانَ

ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। এই সাক্ষ্য দেয়া যে, নেই কোন সত্য উপাস্য শুধু আল্লাহ ছাড়া এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল (বার্তাবাহক)। নামায কায়েম করা। যাকাত প্রদান করা। রমজান মাসে রোযা রাখা। বায়তুল্লাতে হজ্জ আদায় করা। (সহীহ বুখারী ৮, মুসলিম ১৬, তিরমিযী ২৬০৯, নাসায়ী ৫০০১, আহমাদ ৬০১৫)

আল্লাহর কিতাব, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস ও উম্মতের ইজমা (ঐকমত্য) এর ভিত্তিতে হজ্জের ফরজিয়ত সাব্যস্ত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَ لِلّٰهِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الۡبَیۡتِ مَنِ اسۡتَطَاعَ اِلَیۡهِ سَبِیۡلًا ؕ وَ مَنۡ کَفَرَ فَاِنَّ اللّٰهَ غَنِیٌّ عَنِ الۡعٰلَمِیۡنَ

এবং সামর্থ্যবান মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ্জ করা ফরয। আর যে ব্যক্তি কুফরী করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী।”[সূরা আলে ইমরান ৯৭]

আরও পড়ুন-হজ্জ জীবনে একবার কিন্ত প্রভাব সারা জীবনের।। ১ম পর্ব

আবু হোরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হল, সর্বোত্তম কাজ কী? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তার রসূলের প্রতি ঈমান রাখা। জিজ্ঞাসা করা হল, তারপর কী? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। পুনরায় তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, অতঃপর কী? তিনি বললেন, মাবরূর (বিশুদ্ধ বা গৃহীত) হজ্জ। (বুখারী ২৬, মুসলিম ২৫৮)

আবু হোরায়রা রাঃ থেকে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি (আল্লাহর জন্য) হজ্জ পালন করল এবং (তাতে) কোন অশ্লীল কাজ করল না ও পাপাচার করল না, সে ব্যক্তি ঠিক ঐ দিনকার মত (নিষ্পাপ হয়ে) বাড়ি ফিরবে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল। (বুখারী ১৫২১, ১৮১৯-১৮২০, মুসলিম ৩৩৫৭-৩৩৫৮)

ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পবিত্র কা’বার দিকে স্বগৃহ থেকে তোমার বের হওয়াতে, তোমার সওয়ারীর প্রত্যেক পদক্ষেপের বিনিময়ে আল্লাহ একটি করে সওয়াব লিপিবদ্ধ করবেন এবং একটি করে পাপ মোচন করবেন। আরাফায় অবস্থান কালে আল্লাহ নিচের আসমানে নেমে আসেন এবং তাদেরকে (হাজীদেরকে) নিয়ে ফিরিশতাবর্গের নিকট গর্ব করেন। বলেন, ’আমার ঐ বান্দাগণ অগোছালো কেশে ধূলামলিন চেহারায় দূর-দূরান্তর পথ অতিক্রম করে আমার কাছে এসে আমার রহমতের আশা করে এবং আমার আযাবকে ভয় করে, অথচ তারা আমাকে দেখেনি। তাহলে তারা আমাকে দেখলে কি করত?

সুতরাং তোমার যদি বালির পাহাড় অথবা পৃথিবীর বয়স অথবা আকাশের বৃষ্টি পরিমাণ গোনাহ থাকে, আল্লাহ তা ধৌত করে দেবেন। পাথর মারার সওয়াব তোমার জন্য জমা থাকবে। মাথা নেড়া করলে প্রত্যেক চুলের বিনিময়ে একটি করে সওয়াব লিখা হবে। অতঃপর কা’বাগৃহের তওয়াফ করলে তুমি তোমার পাপরাশি থেকে সেই দিনের মত বের হবে, যেদিন তোমার মা তোমাকে জন্ম দিয়েছিল। (ত্বাবারানী ১৩৩৯০, সহীহুল জামে’ ১৩৬০)

তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং নিজের ক্ষেত্রে হজ্জ ফরজ হওয়ার শর্তগুলো পূর্ণ হলে অনতিবিলম্বে হজ্জ আদায় করা। কেননা প্রত্যেকটি ফরজ আমল অনতিবিলম্বে আদায় করা বাধ্যতামূলক, যতক্ষণ না এর বিপরীত কোন দলীল পাওয়া যায়। অতএব, হজ্জ আদায় করার সামর্থ্য থাকার পর, যাতায়াতের পথ সুগম হওয়ার পর হজ্জ আদায় না করে একজন মুসলিমের আত্মা কিভাবে শান্তি পেতে পারে?! কিভাবে একজন মুসলিম হজ্জকে পরবর্তী বছরের জন্য পিছিয়ে দিতে পারে? অথচ তিনি জানেন না- পরবর্তী বছর তিনি হজ্জে যেতে পারবেন, নাকি পারবেন না। এমনও হতে পারে তিনি তাঁর সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন। হতে পারে তিনি ধনী থেকে গরীব হয়ে গেছেন। হতে পারে তিনি ফরজ হজ্জ অনাদায় রেখে মারা গেলেন এবং ওয়ারিশরা তাঁর পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করানোর ব্যাপারে অবহেলা করবে।

আরও পড়ুন-হজ্জ জীবনে একবার কিন্ত প্রভাব সারা জীবনের।। ২য় পর্ব

হজ্জ ফরজ হওয়ার শর্ত পাঁচটি

এক: ইসলাম। ইসলামের বিপরীত হচ্ছে- কুফর। হজ্জ ফরজ হওয়ার শর্ত হচ্ছে মুসলিম হওয়া । সুতরাং কোনও কাফেরের উপর হজ্জ ফরজ নয়। কাফের যদি হজ্জ আদায়ও করে তাহলে সে আমল কবুল হবে না।

দুই: সাবালগ হওয়া। সুতরাং যে সাবালগ হয়নি তার উপর হজ্জ ফরজ নয়। যদি নাবালগ কেউ হজ্জ আদায় করে তবে তা নফল হজ্জ হিসেবে আদায় হবে এবং সে এর সওয়াব পাবে। সে যখন সাবালগ হবে তখন ফরজ হজ্জ আদায় করতে হবে। কারণ সে সাবালগ হওয়ার আগে যে হজ্জ করেছে- এর দ্বারা ফরজ হজ্জ আদায় হবে না।

তিন: বিবেকবুদ্ধি। এর বিপরীত হচ্ছে- বিকারগ্রস্ততা। সুতরাং পাগলের উপর হজ্জ ফরজ নয় এবং পাগলকে হজ্জ আদায় করতে হবে না।

চার: স্বাধীন হওয়া। সুতরাং ক্রীতদাসের উপর হজ্জ ফরজ নয়। যদি সে হজ্জ আদায় করে তবে তার হজ্জ নফল হিসেবে আদায় হবে। যদি সে স্বাধীন হয়ে যায় তাহলে তাকে ফরজ হজ্জ আদায় করতে হবে। কারণ দাস থাকাকালীন সে যে হজ্জ আদায় করেছে সেটা দ্বারা ফরজ হজ্জ আদায় হবে না। তবে কিছু কিছু আলেম বলেছেন: যদি ক্রীতদাস তার মালিকের অনুমতি নিয়ে হজ্জ আদায় করে তাহলে সে হজ্জ দ্বারা তার ফরজ হজ্জ আদায় হয়ে যাবে। এটাই অগ্রগণ্য মত।

পাঁচ: শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকা। মহিলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একটি সামর্থ্য হলো- হজ্জের সঙ্গি হিসেবে কোন মোহরেম পাওয়া। যদি নারীর এমন কোন মোহরেম না থাকে তাহলে তার উপর হজ্জ ফরজ নয়।

সামর্থ অর্থে বুঝায় :

১। হজ যাত্রী অবশ্যই শারিরীক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত। অসুস্থ পীড়িত এবং বার্ধক্য জনিত কারণে একেবারে অচল কিন্তু অর্থ সম্পদ আছে এমন ব্যক্তির জন্য শরীয়ত বদলা হজ্জের ব্যবস্থা রেখেছে। অর্থ সম্পদ এর সাথে শারিরীক শক্তি সামর্থ একটি জরুরী শর্ত। এটা এজন্য যে হজ্ব নামাজ তাসবিহ তাহলিলের ইবাদাত নয় বরং তা তাওয়াফ ছায়ী রমল ও পাথর নিক্ষেপের মত দৌড় ঝাঁপের ইবাদাত।

২। হজ্জের সফর অবশ্যই একটি কঠিন বিষয়। যদিও বর্তমান কালে বিমানে চড়ে আরামে বসে ৫/৬ ঘন্টার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মক্কা পৌছার ব্যবস্থা থাকায় সফরের কষ্ট লাঘব হয়েছে। তথাপিও যাতায়াত নিরুদ্বিগ্ন, নিরাপদ ও বিপদমুক্ত হওয়া শর্ত। এজন্য আল্লাহ পাক এমাসে রক্তপাত যুদ্ধ বিগ্রহ, ফেৎনা ফাসাদ হারাম করেছেন। আর্থিক সংগতি বলতে হজ্বের সফরে প্রয়োজনীয় কাপড় চোপড় খাদ্য পানীয়, পথ খরচ, যাতায়াত ব্যয় ও বিদেশ বিভুঁইয়ে অবস্থানের ভাড়া সংগে থাকতে হবে। এজন্য হজ্ব যাত্রীকে হজ্ব যাত্রার পূর্বেই এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হয়।

আরও পড়ুন-হজ্জ জীবনে একবার কিন্ত প্রভাব সারা জীবনের।। ৩য় পর্ব

হজ্ব কোন সৌখিন ভ্রমণ নয় বরং এটা ফরজ ইবাদত। এজন্য ধার কর্য করে নিজের ঘাড়ে ঋণের বোঝা রেখে হজ্বে যাওয়া পূণ্যের কাজ নয়। যার স্ত্রী ও পরিবারের নিয়মিত ভরণ পোষনের সংস্থান সীমিত এবং সঞ্চিতি গড়ে উঠার সুযোগ নেই, থাকার মত ঘর নেই, গৃহস্থালী কাজের খাদেম নেই, তার উপর হজ্ব পালনের কোন বাধ্যবাধকতাও নেই। অনুরূপ ভাবে কোন যুবকের বিয়ে জরুরী অন্যথায় বিপদগামী হওয়ার আশংকা রয়েছে, ব্যবসার জন্য মৌলিক মুলধন ঘাটতি রয়েছে তার জন্যও হজ্ব করা সংগত নয়। প্রখ্যাত ফিকাহবিদ আবুল আব্বাস শিরীনের এই মত।

হারাম উপায়ে উপার্জিত অর্থ দ্বারা হজ্ব করা হারাম। যদি কেউ এরূপ করে তবে তার হজ্ব মোটেও গ্রহণীয় হবেনা। কেননা আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি পবিত্রতাকে পছন্দ করেন। সুদখোর, ঘুষখোর, অপরের হক নষ্ট করে পরের মাল কবজায় এনে ধন সম্পদ অর্জন করে তার দ্বারা হজ্ব করা আল্লাহর সাথে তামাশা করারই নামান্তর। শুধু হজ্বই নয় যে কোন ইবাদাতই কবুল হওয়ার জন্য হালাল রুজি একটা অপরিহার্য শর্ত।

হজ্জ জীবনে একবার

মহিলাদের ক্ষেত্রে হজ্বের সফরে মাহরাম ফরজ। এ ব্যাপারে একবার এক ধনাঢ্য মহিলা ইব্রাহীম আন নখয়ীর কাছে এমর্মে চিঠি লিখেছিল যে তিনি প্রচুর সম্পদের মালিক কিন্তু তার সহযাত্রী হওয়ার মত মাহরাম নেই। এ অবস্থায় তার উপর হজ্বের বাধ্যবাধকতা আরোপ হয় কিনা? ইব্রাহীম নখয়ী তাকে জানিয়ে দেন যে তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম যাদের আল্লাহ পাক এখনো হজ্ব করার মত উপায় দেননি। (ফিকহউস সুন্নাহ) ইমাম ইবনে তাইমিযার মতে মহিলার ক্ষেত্রে মাহরিম ব্যতীত হজ্বের হুকুম ঐ ব্যক্তির মত যিনি আর্থিকভাবে হজ্জে যেতে সক্ষম নন। ফিকাহবিদগণ এরূপও বলেছেন মাহরিমের জন্য তখনই কোন মহিলার সহযাত্রী হওয়া জায়েজ হবে যদি সে ফেৎনা ও কামভাব জাগ্রত হওয়া থেকে দূরে থাকতে পারে। পক্ষান্তরে তার মনে যদি এ সন্দেহ প্রবল হয় যে সফরের সময় একান্ত নিরিবিলি পরিবেশে অথবা ভীড়ের মধ্যে যৌনানুভূতি জাগ্রত হতে পারে তাহলে এরূপ মাহরিম সাথে যেতে পারবে না। এক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের মাসআলা প্রয়োগ হয় অর্থাৎ পর্দার ও হজ্বের ফরজের মধ্যে পর্দার ফরজ অগ্রগণ্য কারণ তা ধন হাসিলের পূর্বেই ফরজ সাব্যস্ত হয়ে আছে।

আল-বুখারী ও ইবনে আব্বাসের কাছ থেকে এ প্রসংগে বর্ণিত হাদীসের উপর এই রায়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যে, আল্লাহর রসূল সাঃ বলেছেন,

“কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সঙ্গে তার মাহরাম ব্যতিরেকে একাকী অবস্থান না করে। তখন এক ব্যক্তি উঠে বলল— ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি তো অমুক অমুক যুদ্ধের জন্য নাম লিখিয়েছি। ওদিকে আমার স্ত্রী হজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেছে। নবীজি বললেন, ফিরে যাও। তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ কর। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫২৩৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩৪১)

মরহুম ইউসুফ কারদাভী রহঃ এক লেখায় বলেছেন-আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, মাহরাম ব্যতীত একজন মহিলার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে মন্দের পথ বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আমাদের সময়ে ভ্রমণের দিকে নজর দেওয়া আমাদের উপর কর্তব্য। অতীতে ভ্রমণ কেমন ছিল তা নয়। এখন শুষ্ক মরুভূমির বিপদ, চোর বা মহাসড়ক ডাকাত, ইত্যাদির সম্মুখীন হওয়ার ভয় নেই। এখন ভ্রমণ করা বিভিন্ন আধুনিক পরিবহনের মাধ্যমে যা সাধারণত জাহাজ, বিমানের মতো পরিবহনে যেখানে একই সময়ে প্রচুর পরিমাণে লোক জড়ো হয়। বাস বা গাড়িও কাফেলায় ভ্রমণ করে। এইভাবে, এটি প্রচুর আত্মবিশ্বাস এবং নির্ভরযোগ্যতা প্রদান করে, মহিলার জন্য ভয়ের অনুভূতি দূর করে, কারণ সে কোনও জায়গায় একা থাকবে না। সুতরাং, উপরোক্ত আলোকে, আমি এমন নিরাপদ পরিবেশে হজ্জ পালনে নারীর কোনো আপত্তি দেখি না, যা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও তৃপ্তি প্রদান করে। যদিও তার মতটির বিষয়ে অনেক স্কলারগণেরই আপত্তি রয়েছে।

আরও পড়ুন-মুমিন হিসেবে দুনিয়ার জীবনকে যেভাবে কাজে লাগাবেন

একইরূপে হজ্বের জন্য কেউ মান্নত করলে মান্নত পূর্ণ করা ওয়াজিব আর সফরে মাহরিম সহযাত্রী হওয়া ফরজ। কাজেই উপযুক্ত মাহরিম পেলেই মান্নত পূর্ণ করা যাবে অন্যথায় নয়। মাহরিম দ্বারা সে পুরুষকে বুঝায় যার সাথে রক্ত সম্পর্কীয় বা বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে কখনও বিয়ে হতে পারে না। আরো একটি বিষয় জরুরী যে তিনি যদি ইদ্দতকালীন হালতে থাকেন স্বামীর মৃত্যু জনিত কারণে বা বিচ্ছেদের কারণে তাহলে তা পূর্ণ করতে হবে। আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রাঃ) বলেন আমি রসুল (সঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম এমন একজন লোক সম্পর্কে যে হজ্ব করতে পারেনি সামর্থের অভাবে আমি জানতে চাইলাম হে রাসুল সাঃ! সে কি কেবল এ উদ্দেশ্যে ঋণ করতে পারবে? তিনি জবাব দিলেন ‘না’ (বায়হাকী)।

ফরজ হজ্ব পালন না করে কেউ মৃত্যুবরণ করলে অথবা কেউ হজ্বের প্রতিজ্ঞা করে পূরণের পূর্বেই মারা গেলে তার উত্তরাধীকারীরা তার পক্ষে অবশ্যই কাউকে হজ্বে পাঠাবে। এটা তার জন্য সেরকমই একটা ঋণের মত যা তার পক্ষে আত্মীয়রা শোধ করে। ইবনে আব্বাস, যাইদ বিন ছাবিত, আবু হোরায়রা (রাঃ) প্রমুখ ছাহাবীর এটাই মত। ইমাম মালিকের মতে মৃত ব্যক্তি যদি হজ্বের ব্যাপারে উইল করে যান তবে তা পরিচালন করা বাধ্যতামূলক হবে। অবশ্য যদি হজ্বের যাবতীয় খরচাদি পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশের সমান বা বেশী হয়।

চলবে…

লেখকঃ কলাম লেখক এবং সাবেক এডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি

…………………………………………………………………………………………………………………………

মহীয়সীর প্রিয় পাঠক ! সামাজিক পারিবারিক নানা বিষয়ে লেখা আর্টিকেল ,আত্মউন্নয়নমূলক অসাধারণ লেখা, গল্প  ও কবিতা  পড়তে মহীয়সীর ফেসবুক পেজ মহীয়সী / Mohioshi  তে লাইক দিয়ে মহীয়সীর সাথে সংযুক্ত থাকুন। আর হা মহীয়সীর সম্মানিত প্রিয় লেখক! আপনি আপনার পছন্দের লেখা পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইলে-  [email protected]  ও  [email protected] ; মনে রাখবেন,”জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও উত্তম ।” মহীয়সীর লেখক ও পাঠকদের মেলবন্ধনের জন্য রয়েছে  আমাদের ফেসবুক গ্রুপ মহীয়সী লেখক ও পাঠক ফোরাম ; আজই আপনিও যুক্ত হয়ে যান এই গ্রুপে ।  আসুন  ইসলামী মূূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রজন্ম গঠনের মাধ্যমে সুস্থ,সুন্দর পরিবার ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখি । আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা সৎ কাজে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে চলো ।” (সূরা বাকারা-১৪৮) । আসুন আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখতে সচেষ্ট হই । আল্লাহ আমাদের সমস্ত নেক আমল কবুল করুন, আমিন ।

ফেসবুকে লেখক জামান শামস

আরও পড়ুন