যে অতীত প্রেরণা যোগায়…

সাজেদা হোমায়রাঃ

রাসুল সা. এর অন্যতম সাহাবী খুবাইব রা. কে মক্কার কুরাইশরা বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে বন্দি করে মক্কায় নিয়ে আসে। তারা জনমন্ডলীর সামনে প্রকাশ্যে জীবিত অবস্থায় নির্মম ও অমানুষিক অত্যাচারের মাধ্যমে তাঁকে হত্যা করে। কুরাইশ নেতাদের আহবানে এ  হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখার জন্য জড়ো হয়েছিল মক্কার কাফির জনতা।
এ সময় কুরাইশ নেতারা ছিল পৈশাচিক উল্লাশে মাতোয়ারা। হযরত খুবাইব রা. কে হত্যার মাধ্যমে বদর যুদ্ধে নিহত কুরাইশদের প্রতিশোধ নেয়াই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।

খুবাইব রা. এর শাহাদাতের দৃশ্য ছিল খুবই মর্মস্পর্শী। তাঁর হাত, পা শিকলে বেধে মক্কার নারী,পুরুষ, শিশু ও  যুবকের দল তাঁকে ধাক্কা দিতে দিতে ফাঁসির মঞ্চের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। আর কাফির জনতা করতালি দিয়ে এ হত্যাকান্ডে উৎসাহ দিচ্ছিল।

খুবাইবকে ফাঁসির মঞ্চে উঠানো হয়। কাফিররা তখন খুবাইবের খুনের নেশায় উন্মাদ।কিন্তু আল্লাহর রাহে নিবেদিত খুবাইব রা.কাফিরদের এ নির্মম নির্যাতনে বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি।
সে সময় শোরগোলের মাঝে খুবাইব রা. এর শান্ত ও দৃঢ় কণ্ঠস্বর….
“আমাকে ফাঁসি দেয়ার আগে আমি দু’রাকাত নামাজ আদায় করতে চাই। “

কতোই না সুন্দর ছিল তাঁর সেই নামাজ!

এরপর নামাজ শেষ করে কুরাইশ নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন :
“আল্লাহর শপথ! তোমরা যদি মনে না করতে আমি মৃত্যু ভয়ে নামাজ দীর্ঘ করছি, তাহলে আমি আমার নামাজ আরো দীর্ঘ করতাম।”

তাঁর এই দীপ্ত ঘোষণার পরপরই কাফিররা তাঁর উপর আবার সেই পৈশাচিক ও অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে দিল। সেই দৃশ্য ছিল খুবই ভয়ংকর। একবারে নয়, বিভিন্ন অস্রের সাহায্যে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারবার সে দৃশ্য! জীবিত অবস্থায় তারা তাঁর দেহ থেকে প্রতিটি অংঙ্গ প্রতংঙ্গ একের পর এক কেটে কেটে বিচ্ছিন্ন  করতে থাকে।
এ অমানুষিক নির্যাতন দেখে  ভীড়ের মধ্যে কারো কারো অসহ্য বোধ হলো।
একজন বলে উঠলো…
“খুবাইব এখনো সময় আছে, ইসলাম ত্যাগ  কর।”
খুবাইবের উত্তর:

“জীবনে যদি আমার ইসলামই অবশিষ্ট না থাকে, তবে সে জীবন ধারণ করে লাভ কি?”

তার এই ঈমানী চেতনাদীপ্ত, দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা শুনে কাফিররা আরো রাগে ফেটে পড়ল আর চিৎকার করে বলতে শুরু করলো …..

“তাকে হত্যা কর, তাকে হত্যা কর।”

সাথে সাথে হিংস্র হায়েনার মতো কাফিররা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তীর, বর্শা আর খঞ্জরের আঘাতে আঘতে তার দেহ ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেলো।
খুবাইব রা. আকাশের দিকে তাকিয়ে কালেমা শাহাদাত উচ্চারণ করছিলেন আর বলছিলেন :

“হে আল্লাহ! তুমি এদেরকে গুনে গুনে রাখো, এদের শক্তি ও প্রতিপত্তিকে তুমি ধ্বংস করে দিও,এদের কাউকে তুমি মাফ করো না।”

এই ছিল তাঁর শেষ দোয়া। তারপর আরো নির্মম আঘাতে জর্জরিত হয়ে যায় তার দেহ। আর এভাবেই শহীদ হয়ে গেলেন ঈমানী চেতনায় বলীয়ান হযরত খুবাইব রা.।

কী কঠিন প্রত্যয়ের ছিল তাঁর সেই ঈমান!

সাজেদা হোমায়রা, সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন