বোরকা

নারীমুক্তির পথ |৫|
সাজিদ আব্দুল্লাহ

জান্নাতের বাবা একজন সাহিত্যের মানুষ। সাহিত্য চর্চা তার নেশা। তার প্রিয় লেখক হুমায়ুন আজাদ। তার আদর্শই তার আদর্শ। কিন্তু আজ সকালে নিজ মেয়েকে দেখে যেন তিনি চমকে উঠলেন। নিজের মেয়েকেও চিনতে পারছিলেন না। কালো বোরকায় আবৃত হয়ে বের হচ্ছিল সে। বের হওয়ার ঠিক আগমুহুর্তে তিনি জান্নাতকে ডাকলেন,
—কোথায় যাচ্ছিস? আর তুই এটা কি পরেছিস?

—ভার্সিটিতে যাচ্ছি। ভালো লাগলো তাই পরলাম।

—কি বলিস, এসব কালো ভুতের কাপড় তোর ভালো লাগে?

—হ্যাঁ ভালো লাগে বলেই তো পরেছি। সবার রুচি তো আর এক না। একেকজনের পছন্দ একেকরকম। যেমন তোমার পছন্দ প্যান্ট শার্ট। আমার পছন্দ বোরকা।

—তুই কি আবার মুসলমানদের ধর্মানুযায়ী পর্দা করা শুরু করছিস?

—করলে সমস্যা কোথায়?

—সে অনুযায়ী পর্দা করলেও তো ভালো। তাহলে তো এভাবে কালো বোরকায় ভুতের মতো হাত,পা,মুখ ঢাকতে হয় না।

—কে বললো তোমাকে ঢাকতে হয় না?

—সূরা নূরের ৩১ নম্বর আয়াতেই তো বলা হয়েছে ‘তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তাছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। এবং তারা যেন তাদের ওড়না তাদের বক্ষদেশে ফেলে রাখে।’ (মেয়ে হওয়ায় আয়াতের শুরু অংশের তরজমাহ বাদ দেন তিনি) তারপর বলা হয়েছে কাদের সাথে পর্দা করবে। এখন তুইই বল কোথায় পেলি বোরকা পরে হাত, পা, মুখ ঢাকতে হবে?

—বাবা! এখানে সাধারণত প্রকাশমান বলতে বুঝানো হয়েছে সেই স্থানকে যে স্থানগুলো মাহরাম (যার সাথে পর্দার প্রয়োজন নেই)এর দেখা নিষেধ নয়। অর্থাৎ ‘হাত, পা, চেহারা।’ এগুলোর সৌন্দর্য বাহিরের লোকদের কাছে প্রকাশ না করে।

—হ্যাঁ সেটাই তো। তাহলে বল তো মুখ ঢাকতে হবে কেন?

—বাবা! তুমি যদি পুরাটা আয়াত পড়ো, তাহলে না বুঝবে। শেষে বলা হয়েছে ‘তারা ব্যতীত কারও কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে।’ তাহলে বিষয়টা হলো ওই সৌন্দর্য প্রকাশ করতে পারবে শুধু প্রকাশযোগ্যদের নিকট। অর্থাৎ মাহরামদের নিকট। বাকি যারা আছে তাদের নিকট প্রকাশ করা যাবে না। আর প্রকাশ না করার সবচেয়ে ভালো, সুবিধার পোশাক হলো বোরকা। তাই বোরকা পরলাম। এই হলো৷
ওহ হো বাবা! তোমার জন্য ক্লাসে দেরি হয়ে যাচ্ছে। আমি যাই।

—শুনে যা।

—এখন সময় নেই বাবা। আসি।

—জান্নাতের মা! আমার মেয়েকে তুমি নিজের মতো বানাচ্ছো, তাই না! তোমার খবর আছে।

আগের পর্ব –নারী মুক্তির পথ [৪]- কোরআন শুধু পুরুষের নয়

লেখকঃ সাহিত্যিক ও কলামিস্ট 

 

আরও পড়ুন