আলোর দিশারী

রিতু কুণ্ডু

কোরআনুল কারীমকে বলা হয় ‘নূর’। নূর অর্থ আলো। যা মানুষের অন্তরকে আলোকিত করতে পারে তাই হল কোরআনের বাণী।

মানুষকে পৃথিবীতে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সাথে সাথে তাকে বিচার,বুদ্ধি ও ভালো মন্দের বোধ প্রদান করা হয়েছে।তাই কোরানের একটি আয়াতও যদি কারও অন্তরকে আলোকিত করতে না পারে তবে তাতে কোরআনের বাণী প্রশ্নবিদ্ধ হয় না। বরং সেই অন্তর প্রশ্নবিদ্ধ হয় যা কোরআনের নূর দিয়েও নিজেকে আলোকিত করতে পারে নি।

সেই অন্তর হল অন্ধ,মূক,বধির ও মোহরাঙ্কিত যা আলোকিত বাণীকে কানে শুনতে পারে না,চোখে দেখতে পারে না,মুখে বলতে পারে না, অন্তর দিয়ে অবলোকন করতে পারে না।

এটি শুধুই একটি কিতাব নয়, একটি উপদেশ নয়।এ হল স্বয়ং আল্লাহর কাছ থেকে আসা আলোকিত বার্তা যা কলুষিত অন্তরকে আলোকিত করে,সংকীর্ণ মনকে উদার করে, রোগাক্রান্তকে আরোগ্য করে, ভীতকে আশ্বস্ত করে,জেদীকে বশ করে, রাগীকে নিরাগ করে, মূর্খকে জ্ঞানী করে,অজ্ঞানকে জ্ঞান দেয়, হতাশাগ্রস্থকে আশাবাদী করে, কৃপণের হস্ত প্রসারিত করে,বেহিসেবীকে মিতব্যয়ী করে, আত্মীয়তার বন্ধনকে দৃঢ় করে,সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে,অসামাজিক উচ্ছৃঙ্খলতা থেকে বিরত করে, তাই অন্তরকে আলোকিত করে।

আর এই আলোকেই নূর বলে।কুসংস্কারাচ্ছন্ন অন্ধকার মনের অবসানে নূরের ছটা।আলোর দিশারী, কোরআনের আলো ।

লেখকঃ রিভারটেড মুসলিম, সাহিত্যিক এবং সহকারী অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.