একটি রাত্তিরের গল্প

খাদিজা ইয়াসমীন
এই বিজন রাত্তিরে
ভেবেছিলাম একটা কবিতা শোনাবো
কবিতার আদর মাখা কাগজটা কই রাখলাম এখন খুঁজেই পাচ্ছিনা।
তারচেয়ে বরং চলো বারান্দায় কিছুক্ষন বসি।
জানোতো!
এই বিজন রাত্তিরের একটা অনুশোচনা আছে
সেজন্যই কেমন গুমরো হয়ে অন্ধকারে সাজে,
আমাদের অনুতাপগুলোও এই আঁধারিয়া সময়ে ঢেলে দেই
আগামির পথ চলায়  মুখ লুকিয়ে নয়,
বরং সাহসের লাগামে চলবো।
এই রাত্তিরে আমার খুব সখ…
একদিন হাঁটবো পথ ধরে বেশখানিকটা
রাত্তির আমায় বুঝবে, আমি রাত্তিরকে বুঝবো।
তখন ভরা জোছনা থাকবে
সাথে তুমি নামক গল্প থাকবে।
ভেবেছিলাম কবিতাটা আজ শোনাবোই
কোথায় যে রাখলাম?
কত আয়োজন করে চা করলাম
গরম কাপে চুমুক দিতে দিতে কবিতা শুনবে,
চা এখন ঠান্ডা মিষ্টি জল।
ঠিকাছে কবিতা খুঁজতে খুঁজতে একটা কথা বলি
আমাদের জীবনবোধ যন্ত্রের মত
কিংবা শুধু আবেগের শিকলে বাধা থাকবেনা।
জীবনবোধটা হবে   এমন
পরিবারের সুখের রঙ চেনা
পরিবার বলতে শুধু তোমায় আমায় বুঝাচ্ছিনা
বিশাল সঙ্গাটাকেই আমি মানি।
রোম্যান্স জীবনযাপনে রস আনয়ন করে
চাহিদা মিটে গেলেই শেষ!
দিনের শুরুতে যে যার মত যন্ত্র চালিত
এটা কি জীবনবোধের সু পাঠ্যাংশ?
মানুশের পাশে থাকবো বিপদে-আপদে,
সুখ-অসুখে।
নিজেরে তৃপ্ত করতে হোঁচট যেন না খাই বিবেকের চৌকাঠে।
হা করে তাকিয়েই  থাকবে?
কবিতাটা একটু খুঁজে দিতে পারোনা!
কোথায় যে রাখলাম
এত বেসামাল মন নিয়ে যে কি করি?
শোন!
আমাদের ভবিষ্যত কান্না হাসিরা আসলে
তখন আর এরকম ভুলোমনা, ছেলেমানুষ থাকলে হবেনা।
আদর্শ ওদের দিলে গেঁথে দিতে হবে
তার আগে আমাদের নিজের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে,
এক কাজ করা যায় ভুলগুলো চিহ্নিত করে শুধরানোর চেষ্টা করা যায়
একে অপরের আয়না হয়ে নোংরাগুলি দূর করবো।
আমরা আমাদের পরিবার নিয়েই জান্নাতের সুখ আলিঙ্গন করব ইনশাআল্লাহ।
দেখেছো! বালিশের নিচে রেখে পুরো দুনিয়া তছনছ করলাম
শুধু তোমায় শোনাবো বলে।
এক বিজন রাত্তিরে তোমার সাথে প্রথম কথা হয়েছিলো
দুরু দুরু বুকে।
আজ সে বিজন রাত্তির…মনে পড়ে??
তাইতো কবিতা লিখেছি
কাগজ পাচ্ছিলাম না, তো কি হয়েছে?
মনে গেথে রেখেছি কবিতার কথামালা,
তোমার বুকে মাথা রেখে শোনাবো বলেই তো এত বাহানা।
(২০.৭.১৭)

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.