বিস্মৃত অমরাবতী

আরণ্যকে শবনম

ধূসর বেদনার স্রোতে আজকাল প্রতিনিয়তই ভাসি,
দূরন্ত চিন্তারা কালো ঘোড়ার লাগাম
ছুটিয়ে দেয়।
পাহাড়ের কোল ঘেষে নেমে আসা বিক্ষিপ্ত
রোদেরা আর মিষ্টি পরশ বুলায় না।
ঝিম ধরে বসে থাকে মাঠের চাষীরাও
সকাল থেকে রাত অবধি ছুটে চলা বধূও।
শীতের শিশিরেরা আর নাইয়ে দেয় না
লালটুকটুকে লালশাকের শাখা,
কলাই,মটরশুঁটির ফুলেরাও উঁকি দেয় না ইতিউতি!
দিদামণিও আর বাঁশের মাঁচায় শিমের লতা,কুমড়োলতা ঝুলিয়ে দেন না!
মিষ্টি খুঁকি ফযরে ঘুম থেকে আর ঝিঙে লতায় ফিঙের উড়াউড়ি দেখতে পায় না!
প্রজাপতির পিছন পিছন দৌড়ে খোকাও আর দুধভাত খায় না!
কেমন নিরর্থক নিষন্ন বিকেল আসে রোজ
আকাশের তারার বুননে গোল চাঁদ আর
পুকুরের কালো জলে আর দীঘল রূপকথা আঁকে না!
বিন্নি ধানের খই,আতপ চালের ভাপা পিঠের গন্ধও নাকে আসে লাগে না!
পুকুরের ছটছটে তেলাপিয়া,পুঁটিরা টুপটাপ করে ডুব দিয়ে লুকেচুরি খেলে না!
চারদিকে শুধুই নাআ নাআ আর না!
কোথায় আমার অমরাবতী ষড়ঋতুর দেশ!
সব হারিয়ে বিস্মৃতির সমুদ্র অবগাহন হোক,সেই বেশ।

লেখকঃ কবি।

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.