বুক রিভিউঃ আর্মস এন্ড দ্যা ম্যান

কামরুজ্জামান জেমস

নাটক- আর্মস এন্ড দ্যা ম্যান
লেখক– জর্জ বার্নাড শ
প্রকাশক- Unique Publishers
পৃষ্ঠা- 31
মূল্য- 55 রুপি
প্রকাশকাল-1996

1887 খ্রিস্টাব্দে Servo-Bulgaria যুদ্ধের পটভূমি নিয়ে Arms And The Man নাটকটি লিখিত। Arms And The Man নাটকটি জর্জ বার্নাড শ রচিত শেভিযান নাটক। নাটকের শুরু বুলগেরিয়ার একটি শহরে । শহরের একটি মহিলা যার নাম রাঈনা তার ঘরের দৃশ্য।নাটকটি তিন অঙ্কবিশিষ্ট । রাঈনা খোলা জানালার ধারে দাঁড়িয়ে বাহিরে প্রকৃতি দেখছিলেন। বাহিরে ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় তার মা ৪০ বছর বয়সী ক্যাথারিন পেটকফ ভতসনা করলেন। তিনি তার ভাবি জামাতার যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্বের কথা শুনালেন। কীভাবে মুষ্টীমেয় সৈনিক নিয়ে শত্রুসেনার শিবিরে জীবনের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধে জয়লাভ করেন তা রাঈনার কাছে বিশ্লেষণ করেন। সে উচ্চতর দেশপ্রেমের কল্পনা ও উচ্চতর প্রেমের সংজ্ঞা দেন। সার্জিয়াসের বীরত্বের কাহিনী শুনে রাঈনা নিজেকে ধন্য মনে করে। সে সময় তাদের পরিচারিকা লুকা জানায়, সার্বরা বুলগেরিয়ান্দের দ্বারা তাড়িত হয়ে এই শহরের উপর রাগ পালাবে। তাই জানালা বন্ধ করতে বলেন। গুলির শব্দ হলে রাঈনা দরজা বন্ধ করে শুতে যায়।

এমন সময়ে তার ঘরে এক যুবক প্রবেশ করে পিস্তল হাতে। সে রাঈনার কাছে নিজের প্রাণভিক্ষা চায়। বুলগেরিয়ান সেনারা এর মধ্যে রাঈনার ঘরে প্রবেশ করলে তাকে লুকিয়ে রাখে। সেনারা চলে গেলে তার পরিচয় দেন ব্লুন্সলি। সুইস অধীবাসী হলেও সার্ব অফিসার হিসাবে কর্মরত। চাকরি তার পেশা। রাঈনার যুদ্ধ নিয়ে যে ধারণা আছে তা এখন মিলছেনা। এরমধ্যে ব্লুন্সলির প্রতি রাঈনা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং লুকা তা দেখে ফেলে। এখানে প্রচলিত যুদ্ধ ও ভালোবাসা সম্পর্কে জর্জ বার্নাড শ এর দৃষ্টিভঙ্গি ব্লুন্সলির চরিত্রের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।

যুদ্ধ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা পাল্টে দেওয়ার জন্য নাট্যকার জর্জ বার্নাড শ ব্লুন্সলি নামক চরিত্রের অবতারণা করেছেন।তাকে নাট্যকারের মাউথপিচ হিসেবে মনে করা হয়।সে অস্ট্রিয়ার সেনাবাহিনীর সেনাপতি। যুদ্ধক্ষেত্রে সে কার্তুজের পরিবর্তে চকলেট ব্যবহার করতো অর্থাত যুদ্ধক্ষেত্রে চকলেট খেত।রাঈনার ঘরে যখন জীবন বিপন্ন তখন মৃত্যু থেকে বাঁচতে রাঈনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল।সে পাইপ বেয়ে উপরে উঠে এসেছিল।ব্লুন্সলি রাঈনাকে বুঝিয়েছিল যে যুদ্ধক্ষেত্রে বুলগেরিয়ান সৈন্যরা মৃত্যুর জন্য গিয়েছিল অর্থ্যাৎ তারা আত্মহত্যা করতে গিয়েছিল। কিন্তু অস্ট্রিয়ানদের হাতে ভুল কার্তুজ ছিল । তাই তারা বেঁচে গিয়েছিল। অন্যদিকে রাঈনার বীরপুরুষ সম্পর্কে বিপরীত ধারণা ছিল। ব্লুন্সলির ক্ষুরধার যুক্তির কাছে রাঈনা পরাজিত হয় এবং তার প্রতি অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে।

এ নাটকের একমাত্র বাস্তববাদী চরিত্র ব্লুন্সলি যাকে সবসময় আবেগ, অনুভূতি, যুদ্ধ বা জীবনের কোন কিছু মারাত্মতভাবে স্পর্শ করতে পারেনি। তাকে চকলেট ক্রিম সৈনিক বললেও উত্তেজিত হতে দেখা যা্য় নি। আবার সে ভাড়াটিয়া হিসেবে কাজ করতো। সে যুদ্ধকে মনে প্রাণে গ্রহণ করেনি । তাই সে পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করার চেষ্ট্রা করেছিল। বাকি চরিত্রকে নৈতিকভাবে কখনোও না কখনো দুর্বল হিসেবে দেখতে পাওয়া যায়।

রাঈনা ছিল অস্ট্রিয়ার সেনাপতি সার্জিয়াসের বাগদত্তা। রাঈনার কাছে সে ছিল বীরপুরুষ। তাকে অনেকটা পূজা করার মতো করে সে। কিন্তু শেষে যখন রাঈনা জানতে পারে, সার্জিয়াস রাঈনা ছাড়াও লুকার সাথে প্রেম করে তখন তার সম্পর্কে ভুল ধারণা জন্মে এবং পরিশেষে তা ফুটে উঠে যখন সে ব্লুন্সলিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
আবার নিকোলা ও লুকা পরস্পরকে ভালোবাসতো। কিন্তু সেখানেও লুকা গোপনে সার্জিয়াসের সাথে প্রণয় ঘটানোর প্রচেষ্ট্রায় থাকে এবং শেষে তাই ঘটে।
এভাবে ভালবাসার রং বদলানোর দৃশ্য আমরা নাটকের মধ্যে দেখতে পাই।এছাড়াও কিছু গৌণ চরিত্র আছে যেমন মেজর পেটকফ, রাঈনার পিতা, তাকে কাহিনীর প্রয়োজনে তুলে ধরা হয়েছে।সে ছিল একজন মেজর এবং সম্ভ্রান্ত। ক্যাথারিন পেটকফ, রাঈনার মাতাকেও কাহিনীর প্রয়োজনে স্থান দেওয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ নাটক পর্যালোচনা করলে আমরা ভালোবাসা ও যুদ্ধের বিভিন্ন পুপ দেখতে পাই। ব্লুন্সলির চরিত্রের মাধ্যমে নাট্যকার এক ভিন্ন মাত্রার ভালোবাসা ও যুদ্ধ আমাদের সামনে সফলভাবে তুলে ধরতে সমর্থ হয়।

লেখকঃ কবি ও সাহিত্যিক

আরও পড়ুন