বিধ্বংসী প্লাবন

আরণ্যকে শবনম

নিজের শরীরের প্রতিটা লোমকূপ থেকে বেরিয়ে পড়া আগ্নেয়গিরির দহন,
প্রতিটা দিনের সূর্যকিরণে যে যুবতী স্বপ্ন দেখতো ভালোবাসার প্রতীক্ষার!
অনবরত ট্রমার মধ্যে দিবাস্বপ্নগুলো ক্রমাগত কি ভয়ঙ্কর রূপ নেয়।
কার সাধ্যি সে দুঃসহ মুহূর্ত উপলব্ধি করবে,
রক্ত-মাংসের শরীর কেমন সেধিয়ে আসতে চায় অদৃশ্যের মাঝে!
অক্টোপাসের বন্ধনে থেঁতলানো পৃষ্ঠ হওয়া সম্ভ্রম,
হিসেব-নিকেসের শত ঊর্ধ্বে মাতৃত্বের জঠর,
অরক্ষিত রেহমকে যদি লুকানো যেতো এই বসুন্ধরা থেকে,
আর কোন মায়ের দুগ্ধ পিয়ে কালসাপের জন্ম হতো না!
বেঁচে থাকা এমন নির্মম নির্মোহ হয়ে ওঠা
ব্যথিত হৃদয় জানে সে ক্ষতের অনিঃশেষ যন্ত্রনা!
পৃথিবীতে পলাতকের কোন ঠাঁই নাই যেমন,
পরাজিতার হার-মানা গল্পদের  নেই কোন আশ্রয়।
অপরাজিতা  হবার ক্ষনিক মন্ত্রনায় তবু জাগে বাঁচার আশা।
আয়নায় দেখা  কম্পিত প্রতিবিম্ব শুধোয় কোথায় তোমার ঠিকানা!
অন্ধকারে আজন্ম কেমন ভীতি, তীব্র ঘৃনারা বাড়তে বাড়তে মেঘমালা হয়ে ফেরে!
মাথার উপর বিস্তীর্ণ নীল আকাশ,
পায়ের কাছে  সমুদ্রের ফেনায়িত জলরাশির আমন্ত্রণ এতোটা অর্থহীন কখনো মনে হয়নি!
গভীর আরণ্যকে কিংবা নোনাজলের নিচে একটা অভয়ারণ্য!
লোলুপতা, অন্ধ্র কামুকতার চাপ চাপ রক্তাক্ত ছোবল থেকে মুক্তির কি সাধ্য নাই!
নুহের প্লাবনে তবে ভাসুক এ অর্থহীন,অনৈতিক অসভ্যতা!

আরণ্যকে শবনম কবি ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন