প্রত্যাগত (পর্ব-২)

আবু সাইফা

এদিকে আনোয়ারের বউ আণ্ডা-বাচ্চা নিয়ে আম-কাঁঠালের নায়রে গেছে। এমন সময় এরকম চটকদার বিজ্ঞাপনে তার মস্তিষ্কে মায়াজমের ম্যাগোটেরা কিলবিল করে উঠলো।
খুবই লাজুক অথচ প্রচণ্ড আকর্ষণে আনোয়ার পাত্রীর সেলফোনের নম্বর জানতে চাইল, ওদিক থেকে শামসুর রহমান সাহেব তার ডায়েরি খুলে বললেন, ‘ লেখেন জিরো ওয়ান সেভেন…………………..।’ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অনেক চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিল আনোয়ার, ‘ একটু কথা বলে দেখা যেতে পারে……..। ‘ মাগরিবের নামাজান্তে সামান্য সময় ধ্যানমগ্ন হলো সে, কিভাবে শুরু করা যায়। নম্বর টিপে দিল, জিরো ওয়ান সেভেন……… । বাস্ , লেগে গেল! অপর প্রান্তে রিং বেজে চলেছে,  এ প্রান্তে আনোয়ারের হৃৎপিণ্ডটা এক নতুন গতিতে স্পন্দিত হচ্ছে, ধুকপুক, ধুকপুক, ধুকপুক ; ভিষণ জোরে জোরে। কল রিসিভ করা হয়েছে। মনে হলো যেনো কোন কোকিলকণ্ঠি তরুণী কথাবলে উঠলো। ‘আচ্ছালামু আ’লাইকুম, আমার নাম আনোয়ার, যদি কিছু মনে না করেন,  আমি একটু নাসরিনকে চাচ্ছিলাম। ‘ কোকিলকণ্ঠি বলল- আমি নাসরিন বলছি, বলেন,  কী বলতে চান? দেখুন, ব্যাপারটা যে কোথা থেকে শুরু করি– আমাকে নম্বরটা দিয়েছেন শামসুর রহমান সাহেব, উনাকে চিনেন? — চিনি তো, উনি তো আমাদের আত্মীয়, আমার ফুপা হন।– ও আচ্ছা, তাই!

আলোচনা এগিয়ে চলল। এভাবে পাঁচ মিনিট কুশলাদি বিনিময় হলো। পরেরদিন সকালে আবার শুরু করলো আনোয়ার। পাঁচ মিনিট নয়, পাক্কা পঁয়ত্রিশ মিনিট ধরে আলোচনা হলো নানা বিষয়ে। সংসার, স্বামী-সন্তান পিতা-মাতা, ভাইবেরাদর, আনোয়ারের স্ত্রী-সন্তান, খুঁটিনাটি কোনো কিছুই বাদ গেলনা। তার পরদিন শুরু হলো প্রসঙ্গহীন কথাবার্তা, এভাবে পুরো চারদিন।

তার ধৈর্যের বাধভেঙ্গে গেল। কারণ, কোকিলকণ্ঠির বিনয়পূর্ণ আলোচনা আর মহিলা যখন কথাবলে তখন গ্রীষ্মকালেও কোথাথেকে যেনো পাখিদের কলগানে তার হৃদয়টা কেমন মাতোয়ারা হয়ে যায়। অপরপ্রান্তেরও কম হলো না নাসরিন বলল- আমাদের একবার সাক্ষাৎ হওয়া জরুরি। আনোয়ার বলল- আমি তো ছন্নছাড়া হতে চললাম। মনে হচ্ছে এই মূহুর্তে আপনার কাছে ছুটে আসি। কিন্তু আমাদের সাধ্যের সীমা খুবই সংকীর্ণ । ইচ্ছে করলেই তো সবকিছু সম্ভব না, তাইনা! তবে অবশ্যই আসবো, আপনাকে না বলে। দ্যাট উইলবি আ সারপ্রাইজ!

চলবে ——–

প্রথম পর্বের লিংকঃ

প্রত্যাগত

আবু সাইফা কবি ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন