প্রত্যাগত (পর্ব- ৩)

আবু সাইফা

আনোয়ার পরবর্তী উইকেন্ডে রাতেরবেলা কল করলে সৌভাগ্যক্রমে কল রিসিভ করে বসল নাসরিনের ছোটবোন পুতুল। আল্লাহ-নবীর কসম দিয়ে আনোয়ার সংবাদটা গোপন রাখার শর্তে জানালো, সে আগামীকাল সকাল নয়টার মধ্যে তাদের বাড়িতে পৌঁছবে। পুতুল কথা দিল সংবাদ গোপন থাকবে। বাসায় নেই বউ, নতুন এক সুন্দরীর সাথে দেখা হবে,ভাবছে আর ক্রমবর্ধমান গতিতে শিহরিত হচ্ছে আনোয়ার। সে নিজের হাতে তার কালো অক্সফোর্ড জুতোজোড়া রাত নয়টা থেকে দশটা অবধি পালিশ করলো, যতক্ষণ না জুতোর টো তে স্পষ্ট করে মুখ দেখা গেল।সারারাতের মধ্যে মাত্র দুই ঘণ্টা ঘুমালো আনোয়ার, নানা তদবির করে। মাথার মধ্যে সারারাত ধরে বনলতা সেন ভাস্বর হয়ে রইলো। তার মনেহলো হালভাঙা নাবিকের মত হয়তো আগামীকাল সে দারুচিনি দ্বীপেরদেশ দেখতে পাবে। হয়তো না বলে বলা যায় আনোয়ার নিশ্চিতই হয়ে গিয়েছিল। তার মাথায় ঐ একটা ভাবনাই মূর্ত হয়ে উঠছিল ——


চুল তার কবে কার অন্ধকার বিদিশার নিশা
মুখ তার শ্রাবস্তির কারুকার্য ; অতিদূর সমুদ্রের’পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসেরদেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি দ্বীপের ভিতর,
তেমতি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, ‘এতদিন কোথায় ছিলন? ‘
পাখির নীড়ের মত চোখতুলে নাটোরের বনলতা সেন।”

পাখির নীড়ের মত চোখের পশ্চাতে আরো চারটি চোখ আনোয়ারকে প্রচণ্ডভাবে আলোড়িত করলো। তার দুই সন্তানের দুইজোড়া চোখও সে ভুলতে পারলোনা সারাটি রাত ধরে। ভীষণ কান্নাপেল তার সন্তানদের কথা মনেপড়ে যাওয়ায়। একাকি ঘরে আনোয়ার পাঁচ মিনিট ধরে কাঁদলো ফজরের জায়নামাজে বসে। সে দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নিল– যা আছে কপালে, বনলতা সেনকে তার চাইই। বাচ্চাদের কথা পরে ভাবা যাবে।

চলবে ——-

আবু সাইফা কবি ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন