শাহীন খানের বই নিয়ে একগুচ্ছ কবিতা

১.বইয়ের দেশে
কলরবে পাখি ডাকে বইয়ের দেশে
ঝিকিমিকি তারা থাকে বইয়ের দেশে
নদনদী আঁকা থাকে বইয়ের দেশে
সুখ দিয়ে ঢাকা থাকে বইয়ের দেশে
আনন্দ ছন্দ থাকে বইয়ের দেশে
ভালো ও মন্দ থাকে বইয়ের দেশে
ফড়িংয়ের ডানা থাকে বইয়ের দেশে
হাঁসেদের ছানা থাকে বইয়ের দেশে
আকাশের মায়া থাকে বইয়ের দেশে
গাছেদের ছায়া থাকে বইয়ের দেশে
ঝরণার ধারা থাকে বইয়ের দেশে
শব্দ ও সাড়া থাকে বইয়ের দেশে
স্নেহ ও আদর থাকে বইয়ের দেশে
বসন্ত – ভাদর থাকে বইয়ের দেশে
ঘ্রাণ ও প্রাণ থাকে বইয়ের দেশে
মহতের দান থাকে বইয়ের দেশে
জানা ও অজানা থাকে বইয়ের দেশে
বলা ও মানা থাকে বইয়ের দেশে
মূর্খ ও জ্ঞানী থাকে বইয়ের দেশে
রাসূলের বাণী থাকে বইয়ের দেশে
বড় হওয়ার আশা থাকে বইয়ের দেশে
সকলের ভাষা থাকে বইয়ের দেশে
কী নেই কী নেই বইয়ের দেশে?
সব আছে সব আছে শুরু ও শেষেে।
২.বই
আঁধার কেটে যায় উঠলে রবি
দেখায় ভালো সব প্রতিচ্ছবি
সকলই প্রাণ পায়
তেমনি ভালো বই জ্ঞানের আলো
মুছে দ্যায় মন থেকে যত্ত কালো
মূর্খতা সরে যায়!
মানুষ করে দ্যায় বই তোমাকে
বইকে ভয় পায় ফেলে বোমাকে
সেই বই কে না চায়?
৩.প্রিয় বইমেলা
আঁকে খাতা
লতাপাতা
আঁকে নদনদী
হাঁস আঁকে
ঘাস আঁকে
ফসলের গদি।
মাছ আঁকে
গাছ আঁকে
ফাগুনের ফুল
হাট আঁকে
ঘাট আঁকে
আঁকে বেঞ্চ টুল।
একে একে সব আঁকে
কচি মনে যা-ই থাকে
আঁকাআঁকি খেলা
অবশেষে খোকা আঁকে
প্রিয় বইমেলা।
৪.বইয়ের সাথে
বইয়ের সাথে বসি এবং বইয়ের সাথে চলি
বইয়ের সাথে নিত্ত আমার হয় যে গলাগলি।
বই আমাকে আলো দেখায়
যা কিছু সব ভালো শেখায়
ফোটায় ফুলের কলি।
বই আমাকে বাসে ভালো আমিও বাসি তারে
বইয়ের মতো বন্ধু ওহে নেই ভবসংসারে।
তাকে পেয়ে হলাম ধনী
সে-ই তো বুকের প্রতিধ্বনি
উঠলো আলো জ্বলি।
৫.বইয়ের দেশে যাবো
বইয়ের দেশে যাবো আমি দেশ বিদেশ প্রান্তর
নতুন বইয়ের ঘ্রাণে আমার ভরবে যে অন্তর!
দেখা হবে কবির সাথে
হাত মেলাবো তার সে হাতে
অটোগ্রাফ নেবো আমি মনেরই উপর।
সেলফি নেবো যখন তখন
আনন্দতে ভরবে এ মন
থাকবো আমি কত্ত সুখে, ফিরবো না তো ঘর।
মিষ্টি মধুর কলরবে
মেতে রবো বইউৎসবে
চোখের নীলে স্বপ্ন আমার সে কী মনোহর!
৬.বইয়ের সাথেই থাকুন
বইয়ের সাথেই থাকুন সবাই
বইয়ের সাথেই থাকুন
বই আপনাকে ঠকাবেনা
এটাই জেনে রাখুন।
যখন আপন কর্মকাজে
ভাল্লাগে না কিচ্ছু
রম্য বইটি পড়ে নিয়েন
ঝাল টক ঝাল “বিচ্ছু”।
‘আলপিন’ও পড়তে পারেন
কিংবা রসিক “ঠাট্টা”
“মগজধোলাই”র সাথে ক্ষাণিক
পারেন দিতে আড্ডা।
হাদিস কোরআন পড়তে পারেন
পারেন ছড়া পড়তে
রবির লেখা কাব্যগাঁথা
ধরতে পারেন ধরতে।
সুকুমারের গল্প মজার
শরৎ বাবুর গদ্য
হুমায়ূনের উপন্যাসও
পড়তে পারেন অদ্য।
পড়ত পারেন অগিবীণা
কিংবা বিষের বাঁশি
নতুন যারা তাদের লেখা
ফুটবে মুখে হাসি।
পড়তে পারেন শাহীন খানের
দেশকে নিয়ে পদ্য
 দেশে অনেক লেখক আছেন
লেখেন অনবদ্য।
যাদের লেখায় ছড়ায় আলো
দ্যায় যে দারুণ শিক্ষা
তাদেরই বই পড়তে আজই
নিন যে সবে দীক্ষা।
৭.বই তোমাকে দ্যায়
বই তোমাকে দ্যায় ফুল লতাপাতা
আরো দ্যায় ছন্দ কবিতার খাতা।
দ্যায় সুখ সুরভি পাখি ডাকা ভোর
সহসা সাফল্যের খুলে দ্যায় দোর।
জ্ঞান দ্যায় মান দ্যায় করে দ্যায় বড়ো
ধন দ্যায় কাড়ি কাড়ি দ্যায় জমি ঘরও।
গাড়ি দ্যায় বাড়ি দ্যায় মুছে দ্যায় দুখ
সূর্যের আলো সে যে চন্দ্রের মুখ।
জোছনা জোনাক পোকা মায়াবী লগন
বই নিয়ে সবে এসো থাকি হে মগন।
বই হলো কোরআনের অমর বাণী
ঘুঁচে দ্যায় দ্বিধাভয় যতো  গ্লানি।
তাই বলি ভালোবই কিনে তুমি পড়ো
সাম্য ও প্রীতি নিয়ে আগামীটা গড়ো।
৮.প্রিয় বইমেলা
বইমেলা প্রিয় বইমেলা
মাস জুড়ে হয় রং খেলা
লেখক পাঠক মিলে
প্রকাশকও বাদ যান না
একা একা “কোক’ খান না
সুখটা হৃদয় দীলে।
কলরবে মাতেন লোকে
স্বপ্ন কবির মুখে চোখে
সেলফি তোলেন রোজ
ভালোবেসে খোকা-খুকু
ছড়িয়ে দ্যায় আবেগটুকু
ফুলমালা দ্যায়” রোজ”।
মিডিয়া আর ইন্টারনেটে
যায় অনাবিল কত্ত খেটে
লেখেন সমাচার
আহা কী যে মিলন তিথি
মনের ভেতর কাব্যগীতি
আসে বারংবার।
রাতবিরাতে স্বপ্ন কুঁড়ায়
ভাবটা জমে ভাবের চূড়ায়
সবাই হোন হিরো
মাস পেরুলেই খাঁখাঁ সবই
ডুববে যবে  আলোর রবি
সব হবে  জিরো।

 

৯.বইমেলাতে যাবো
ইচ্ছে ডানায় চড়ে আমি বইমেলাতে যাবো
জ্ঞানীগুণি হাজার লোকের ঠিকই দেখা পাবো!
কিনবো আমি গল্পগাঁথা কাব্য ছড়া কমিকস
প্রিয়কবির দেখা পাবো আহা কী যে ইস!
অটোগ্রাফ দেবে আমায় সেলফি যে তুলবো
বন্ধ মনের দুয়ার খানি তখনি খুলবো।
তাকে নিয়ে ঘুরবো আমি মেলার মাঠে মাঠে
আনন্দতে দিনগুলো মোর দারুণ সুখে কাটে।
অবশেষে বিদায় নিয়ে ফিরবো যবে বাড়ি
বুকের ভেতর জমবে আঁধার কান্না আহাজারি।
১০.কেউ কেনে
কেউ কেনে রবি ঠাকুর, কেনে কেউ নজরুল
হুমায়ুন আজাদ কেনে জীবনান্দনেও নেই ভুল।
রাহমান কেনে কেউ বাদ যান না শরৎও
হুমায়ূন সমগ্র কেনে বুকে নিয়ে দরদও।
রিটনের ছড়া কেনে বঙ্কিমও বাদ নেই
মাইকেল ও আমজাদ তাতে কোন খাঁদ নেই।
ফারুকেরও বই কেনে ভালো তারে বাসিয়া
ছবি নেন ঘনঘন মিডিয়াটা আসিয়া।
রায়েরও কেনে বই, মান্না ও পান্না
নতুনের মাঝে সাড়া জুগিয়াছে “তান্না”।
“শাহীনের”ও বই কেনে, বড় -ছোট দাদারও
পাবে গান গজলের,  কমিকস ও ধাঁধারও।
কেউ কেনে শখ করে, কেউ ভালো পড়ুয়া
বই নিয়ে  ব্যস্ত সুকুমার বড়ুয়া।
১১.বই 
বই জ্ঞানেরই সিন্ধু
মিথ্যে নয়  এক বিন্দু।
ভালো বই পড়ো খোকা
যেমন কোরআন, হাদিস
খুঁজে পাবে নিজকে নিজে
পাবে আলোর হদিস।
বইমেলাতে গিয়ে তুমি
কিনো আগে তাহা
বুঝবে জীবন হচ্ছে রঙিন
আহা খোকা আহা!
তার পড়েতে কিনো কমিকস
এবং ছড়ার বই
“আলোর যাত্রী” “মহৎ মানুষ”
“সুখটা যে থইথই”।
বুকের মাঝে পুষে রেখো
মানুষ হবার প্রত্যয়
কক্ষনো হায় হবে নাকো
তোমার অবক্ষয়!

 

১২.বইমেলাতে
আম্মু যাবে বইমেলাতে
সংগে যাবে কে?
ঐ তো আমার খোকন সোনা
 কোমর বেঁধেছে।
পোশাকআশাক পরিপাটি
খোকা আমার সুখের ঘাঁটি
চলছে দীদার সাথে
ঘুম পায়নি তার রাতে।
মেলায় গিয়ে কিনবে সে যে
মজার ছড়ার বই
কিনবে আরো কমিকস, কার্টুন
‘আনন্দ হইচই’।
আধো আধো বোলে যখন পড়বে
সেসব ছড়া
চাঁদ তারা সব উঠবে হেসে
হাসবে বসুন্ধরা!
ফুলপাখিরা বলবে কথা
গানের সুরে সুরে
প্রজাপতি ফড়িং সকল
থাকবে না আর দূরে।
১৩.খুকি যাবে মেলায়
লাল টুকটুক লাল টুকটুক
খুকি যাবে মেলায়
খুশি খুশি মহাখুশি
ভাসছে সুখের ভেলায়।
মেলায় গিয়ে কিনবে বাঁশি
কমিকস ছড়ার বই
রূপকথা বই কিনে শেষে
করবেরে হইচই!
কিনবে আরো পুতুল অনেক
কার্টুন আঁকা খাতা
আমার খুকি লক্ষ্মী ভারী
একটুও নয় যা -তা।
১৪.শিশু প্রহর
কলরবে মেতে ওঠে শিশু প্রহর
সুখেরই যেন এক মিলন মেলা
চারদিকে মৌমৌ রংয়েরই খেলা
স্বপ্নিল হয়ে পড়ে ঢাকার শহর।
হাতে হাত ধরে তারা এগিয়ে চলে
কেউ কেনে ভেঁপু বাঁশি বেলুন পুতুল
কমিকসের বই কেনে রেনু ও তুতুল
মিষ্টিমধুর তারা কথাও বলে।
কেউ কেনে ছড়াবই ছবিতে ভরা
রূপকথা, কাব্য কতো কী কার্টুন
বুকে বাজে আনন্দ টুনটুনটুন
খুশি দেখে মাতোয়ারা বসুন্ধরা!
কেউ শুঁকে বুকে নেয়, কেউ বা পড়ে
আলোকিত শুভক্ষণ ছড়ায় আলো
দেখে লাগে কতো যে ভালোরে ভালো
অনাবিল ঢেউ ছোঁয় হৃদয় চরে।
১৫.মেলাতে যখন তুমি
মেলাতে পাবে তুমি কবিদের দেখা
কতোশত বই পাবে যা তাদের লেখা।
ঔপন্যাসিক পেয়ে যাবে, পাবে গল্পকার
ভালোবেসে নিও তুমি সেলফি তার।
আরো পাবে মিডিয়ার লোক কতোশত
খোকা-খুকি দেখতে জোছনার মতো।
গীতিকার ও সুরকার আসবেন তারা
প্রকাশক হাসি খুশি কাজে খুব তাড়া।
বন্ধুর দেখা পাওয়া সেটা স্বাভাবিক
দোকানের সারিসারি আছে চারদিক।
মঞ্চের দেখা পাবে, পাবে অভিনেতা
দেখা পাবে শিল্পীর, বইপ্রেমী ক্রেতা!
দেখা পাবে যুবতীর, ছোড়া ও ছুড়ির
যুবকের দেখা পাবে বুড়া ও বুড়ির।
আরো পাবে মাইকের শব্দ ভারী
ঝুনঝুনি ভেঁপু বাঁশি রংবাহারি।
হইচই রইরই শুনবেই তা
মেলাতে যখন তুমি রাখবে দু’পা।
১৬.ভালো বই
হইহই রইরই
কলরব হরদম
ভালো বই পাবে হেথা
“সূর্য ডটকম “।
কমিশন দেবে তারা
চাও যদি দেবে ভাড়া
ছড়াগান গল্প কিবা কাব্য
প্রতিযশা কবিদের যুবা নব্য।
কোরআন হাদিস পাবে
ঠাকুরের “হদিস” পাবে
কমিকস ও গীতা পাবে
“শত্রু”ও ”মিতা”পাবে
হুমায়ূন সমগ্র পাবে
“নদী” ও “সমুদ্র’ পাবে
পাবে অভিধান
সাইন্সফিকসন পাবে
“মায়াবী লগন”পাবে
যা-ই চাবে
তা-ই পাবে
পাবে ‘অভিযান’
ছোটদের নিয়ে সাথে
মেলাতে যান।
১৭.বই দ্যায়
বই দ্যায় শিক্ষা
আর দ্যায় দীক্ষা
মানুষ হবার
জগতের আলো দ্যায়
কতো কিছু ভালো দ্যায়
সুখের “কভার”।
তাই বলি পড় খোকা
থেকো না কো তুমি বোকা
ওহে টুনটুনি
অলসতা ভাঙিয়ে
মনটাকে রাঙিয়ে
হও জ্ঞানীগুনী।
১৮.বই মেলায় যাবা
খোকা-খুকি
লাল টুকটুকি
কিশোর কিংবা ফুপা
মামা মামী ভগ্নি ফুপা
বইমেলাতে যাবা
বুকে সুখটা পাবা।
ধনী-গরীব মধ্যবিত্ত
বড়ো করো সবার চিত্ত
মা ও মাসিমা
একটা দাবী সবার প্রতি
বইমেলায় যাবা
কী খাবা কী খাবা।
কিনে এনো ছড়া কাব্য
গল্প উপন্যাস
বইয়ের উপর শ্রদ্ধাভক্তি
থাকনা বারোমাস।
১৯.তাধিন ধিনতা
ঘুমহীন রাত্রি
মাথা জুড়ে চিন্তা
তবু মনে খুশি ভারী
নাচি ধিন ধিনতা!
রাত পেরুলেই বই
যাবে মেলাতে
ক্রেতাগণ আসবেন
সুখ ভেলাতে।
অটোগ্রাফ দেবো আমি
সেলফিও দেবো
সকলের ভালোবাসা
বুক ভরে নেবো।
ইলেকট্রনিক মিডিয়ার
হবো মুখোমুখি
কাগজেতে গুণগান
আমি কতো সুখী।
২০.আহা কী যে উৎসব
ঝুনঝুনি বাঁশি বাজে
চারদিকে কলরব
আহা কী যে উৎসব!
বই আছে সারি সারি
কিনে আনি তাড়াতাড়ি
পড়ি তার পাতা
পাতা সে তো নয় যেন
পটে আঁকা খাতা।
শুঁকে শুঁকে ঘ্রাণ নিই
ঘ্রাণ লাগে ভালো
হৃদে জ্বালালো সে আলো !
২১.মিলন মেলা
বইমেলা এক মিলন মেলা
মাস জুড়ে হয় বড্ড খেলা
লেখক পাঠক মিলে
প্রকাশকও একাত্রিত
এই না মাহফিলে।
খুকা-খুকি বুড়ো – যুবা
চাচা মামা এবং ফুপা
সবাই যে বই কেনে
চড়েন সবাই সাম্যপ্রীতির
ভালোবাসার ট্রেনে।
বইয়ের ভেতর জ্ঞানের আলো
পড়লে কেটে যাবেই কালো
চোখ জুড়ানো ছবি
অঢেল আশা ভাষা সে তো
সকাল বেলার রবি।
২২.বই
বই হলো প্রাণ
গাই তার গান
জ্ঞানীগুণী ভাষা সে তো
খুবই মহীয়ান।
আলো আশা সে তো
ভালোবাসা সে তো
বসন্ত, অনন্ত সে তো
 মিঠে সুর তান।
বই হলো সঙ্গী
প্রিয় ভাব ভঙ্গি
কোনদিনই করবে না
তোকে অবসান।
ভালো বই চাঁদতারা
গোলাপের সে তো চারা
গর্ব সে উদ্যমী
 পথ আগুয়ান।
।।।।
লেখক:-কবি, ছড়াকার, গীতিকার, সুরকার
গল্পকার ও ঔপন্যাসিক।
আরও পড়ুন