বসন্ত কুহক

বসন্ত কুহক ।

এইত সেদিন, সেদিনের এক বসন্ত দুপুরে,
ডেকেছিলে আমায় তুমি সংগোপনে হৃদয় মাঝে,।
পুলকে শিহরে কম্পিত প্রাণে জাগে শুধু ঢেউ,
নিথরে থাকি যদি জানিলো বা কেউ।
পুলকে পরান কাপন জাগায় দখিনা বায় এসে,
ডেকে যাও তুমি বাঁশির সুরে কোন্ বনে যে বসে!
মধুকর আজ ঘুরে ঘুরে গুঞ্জন তোলে নিকুঞ্জ তলে,
বসন্ত বাতাস কানে কানে বলে যায় কার কথা প্রতিক্ষণ , এ কোন্ ময়াবী ছলে।
হাতছানি দেয় দূর হতে উতলা করে মন,
ঘর ছেড়ে আজ বিবাগী হতে বলে যায় কোন্ জন?
আমার প্রাণ কেবলই যায় ধেয়ে
কোন্ সুদূর তার পিছু, দূর বহু দূরে
ডাকে কারা পিছু হতে ফিরে যাবার তরে।
ফিরে আসার অবকাশ নেই কেবলই যাই ধেয়ে।
যেতে যেতে বহুদূর পথে হঠাৎ দেখি চেয়ে
একাকী আমি চলেছি কোথা অনেকটা সময় যে গেছে বয়ে! !
তুৃমি আমায় ডেকেছিলে সেই বসন্ত দুপুরে।
বিজন পথে এসেছি শুধুই একা এতটা পথ,
কোন্ কুহক কোন্ মায়াবী ঘোরে।
অজান্তেই কখন দিয়েছি মিছেই মনের দুয়ার খুলে।
বুঝেছি যখন ফিরে যাবার পথ গেছি ভুলে,
দিনের সবটুকু আলো নিভে গেছে সেই কখন!
পূর্ণিমা চাঁদ গগনে উঠেছে পুজোর থালার মতন।
বসন্ত আমেজ সারা গায় মেখে আবার বয়ে যায় হিম চপল বায়,
নিমগ্নে ছুটেছি দেখিনি তাই কতটা কাটা বিধেছে গায়।
চমকে চেয়ে তোমার মুখো পানে বুঝেনিলাম একবার,
আমায় তুমি আনো নিতো ডেকে প্রাণে ধরে রাখবার।
আজ চাঁদের আলোয় উছলে উথলে মরিচিকার ফাঁদে
দু চোখে তখন জলের ফোয়ারা আকুল হিয়া কাঁদে।
যে অসীম বলে হৃদয় খানি বাহিরে নিলে টানি,
হেলায় তারে ধুলায় লুটাও  শোনাই তার বাণী ।

রত্না আফরোজ – কবি 

আরও পড়ুন