ভ্রমন কাহিনী

২৬ অক্টোবর ২০১৯
খুব সকালে একটা ফোন এলো। মোবাইল হাতে নিতেই দেখি আসাদুজ্জামান জুয়েল ভাই। উনি বললেন, আজ দুপুরে রবীন্দ্রনাথের কুঠি বাড়ি পতিসর যেতে হবে।
আমি এক বাক্যে রাজি হয়ে গেলাম।একদিকে সাহিত্য সংস্কৃতির পাগল অপর দিকে জুয়েল ভাইয়ের প্রস্তাব। আর উনি রাজশাহীর মানুষ (বর্তমানে চাকুরির কারনে আমার প্রতিবেশী)।
কলেজ থেকে একটু আগেই বের হলাম। নামাজ আর খাবার খেয়ে প্রস্তুত হতেই জুয়েল ভাইয়ের বাইকের বাঁশি।
আমার বাড়ি থেকে পতিসর ৩০ কি.মি.
বেলা ২ টায় আমাদের যাত্রা শুরু হলো।মোটরসাইকেলর পেছনে বনসভা উপন্যাস ও পলাতক গল্পের শ্রষ্ঠা জুয়েল।
৩৫-৪৫ কি. বেগে আমাদের গাড়ি ছুটছে পতিসর অভিমুখে।
আত্রাই রেল লাইন পার হলাম।কাশিয়া বাড়ি সুইচ গেটে চা পানের বিরতি।
এর পর নওদূলী পার হয়েই মস্কিপুর বাজার।বাজারের পাশে স্কুল, স্কুল মোড়ে বড় গেট।
গেটে লিখা আছে স্বাগতম পতিসর- রবীন্দ্রনাথ কুঠি বাড়ি।
এই মস্কিপুর বাজার থেকে পতিসর ৩ কি. মি. বেশি রাস্তা। এটি নওগা জেলার আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নে অবস্থিত।
প্রায় ৩ টা বাজে।প্রবেশ করলাম রবী ঠাকুরের কুঠি বাড়ির অতি নিকটে। পূর্ব – পশ্চিম লম্বা দীর্ঘ ওয়াল ভাজ ভাজ করা রঙিন রঙে। সদর দরজার পাশেই বিশাল খেলার মাঠ। বাহ! চোখ পড়ল রবীন্দ্রনাথের ভাস্কর্য তে।
ঠাকুর বই খাতা বের করে লম্বাটে কলমে পায়ের উপর পা তুলে লিখছেন। ফিরে গেলাম ১০০ বছর পূর্বে যখন তিনি নোবেল পেয়ে গেছেন।
কুঠি বাড়িতে প্রবেশের পালা, বড় গেট উপরে ২ টি সিংহ মুখোমুখি হয়ে আক্রমনাত্নক ভুমিকায়।
টিকিট সংগ্রহ করে দুই সাহিত্য পাগল ঢুকে গেলাম। পশ্চিম দিক থেকে গ্যালারী শুরু। চোখে পড়ল বিশ্ব কবির ব্যবহৃত খাট, নিকটতমদের ছবি, বিছানা।
ছবিগুলো এখনও জীবন্ত স্ত্রী,মেয়ে, ভাতিজি আরো তাঁর সহচার্য যারা পেয়েছেন তাদের ছবি।
পরের গ্যালারী পদ্মা বোট দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। পদ্মা বোটে বসেই তিনি কত লিখেছেন, যাতায়াত করার জন্যে ব্যবহার করেছেন, বিশেষ করে শিলাইদহ,সিরাজগঞ্জ কটেজে।
দেখলাম তার শত ছবি,বিখ্যাত উক্তি, তাঁর ব্যবহৃত চেয়ার,চা কেটলী,মাদুর,গোসল খানা,হেলানো বেতের চেয়ার,পানি পাত্র ইত্যাদি।
এবার হঠাৎ করে নয়ন ফিরল সিন্ধুকের দিকে।
রবী ঠাকুর এখানেই সর্ব প্রথম একটি কৃষি ব্যাংক স্থাপন করেন। শোনা যায় নোবেল পুরস্কারের অর্ধেক অর্থ ব্যয়ে এটি স্থাপন করেন।
জুয়েল ভাই একটু ইঙ্গিত দিয়ে বললেন, আপনাদের লোকজন এত ভাল যে এ ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে তা অনেকেই ফেরত দেননি।
এর পর কুঠি বাড়ির পেছনে রয়েছে দেবেন্দ্র মঞ্চ। রবীন্দ্রনাথের বড় ভাইয়ের নামে এটি নির্মান করা হয়েছে। ছোট বড় অনুষ্ঠান এখানেই হয়ে থাকে।
কুঠি বাড়ির ঠিক পশ্চিমে কালিগ্রাম রবীন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠিত বিদ্যা অনিকেত।
এটি তার ছোট ছেলের নামে নামকরণ করেছেন।
বেরিয়ে এলাম নদীর ধারে। আত্রাই নদীর শাখা নদী, যেটি জাতীয় কবিতা
আমাদের ছোট নদী।
মনে হচ্ছে এখন এ নদীর প্রতি কত মায়া।
পূর্ব পাশে পতিসর বাজার,বাজারের পাশেই ছিল তালগাছ।
এটি নিয়ে লিখা বিখ্যাত কবিতা
তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে।
তালগাছ বর্তমানে নেই।
সেখানে আছে একটি মন্দির আর দুটি বট গাছ।
পতিসর বাজারে এসে
হৈমন্তী রেস্তোরাঁয় সিংগারা ও চা পান,
এর পর সোনার তরী পান স্টোর থেকে পান নিলাম। আসতে মন চাচ্ছিল না।
তবুও পরিবার ও জীবনের স্বাভাবিক কারনে ৫ টার বাসা অভিমুখে প্রস্তান করলাম।
সত্যি কত মায়া এ কুঠি বাড়িতে তা প্রকাশ করা অতি দুরহ।।

লেখক- আব্দুলমতিন – কবি ও সাহিত্যিক    

আরও পড়ুন