সে আসে ধীরে

 

সে চলে গেছে বহু দিন আগে,
মুছে দিয়ে পুরনো নাম
অচেনা নিরুদ্দেশে।
ঠিকানা যায়নি বলে,
শুধু রেখেগেছে অজান্তেই দখিনা দুয়ার খুলে।
সে থাকে অগোচরে
অবগুণ্ঠিত কুয়াশার চাদরে,
দেখে যায়নি তাই পদচিহ্ন
কতবার হেঁটে গেছি নিরবে
নিঃশব্দের অন্তরালে।
সে আসেনি চাঁদের আলোয়
দেখেনি জোনাক জ্বলা,
চায়নি মুখো পানে,
বুঝেনি তাই কতটা বিষাদ ছিলো প্রাণে।
সে আসে স্মৃতির ঘোরে,
ডেকে যায় হাত ছানিতে,
বুঝেনি প্রাণের কথা
ভেঙে দেয় বারংবার হৃদয়ের মৌনতা।
সে থাকে অলখের অনেক দূরে,
আসেনি সমুখে,
কি কথা তার মনে?
হানা দেয় প্রাণের মাঝে গোপনে গোপনে।

থাকে সে অন্ধকারে
অদেখার প্রাচীর ঘীরে,
নয়ন মাঝে দেখেনি তাই,
শাওনের বৃষ্টি ঝরে।
সে ছিলো ঘুমের ঘোরে,
দেখেনি অমাবস্যা,
বুঝেনি আধার কেমন
থাকে সে দিনের পাশে
সারা নিশি কেঁদেছে রাত
দেখেনি ভোরের আলোয় কতটা শিশির জমলো ঘাসে।

সে গেছে অনেক আগে ,
অজানা অচিন গাঁয়ে
ফিরবে কি ধীর পায়ে?
বসে আছি আঁধার ঘোরে,
প্রত্যাশার দিপ জ্বেলে।

 

রত্না আফরোজ- কবি ও গল্পাকার

আরও পড়ুন