ঘর ভাঙানিয়া মানুষেরা

ড.উম্মে বুশরা সুমনা

‘মুখের উপর ডিভোর্স পেপার ছুঁড়ে মারতে পার না?  মীরা, তোমার কি কোনো আত্মসম্মান নাই, তোমার চাকরি আছে, তুমি স্বাবলম্বী, তাহলে ভয় কিসের? এভাবে পড়ে পড়ে মার খাওয়ার কোনো মানে হয়?’

মীরা ঠোঁট কামড়ায়। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে রানু আপার দিকে। খুব কনফিউজড দেখায় মীরাকে। এতদিনের সম্পর্ক, ছুঁড়ে ফেলতে যেমন কষ্ট হয় তেমনি ভয়ও হয়। আবার নতুন করে শুরু“ করতে পারবে তো?

মীরার কলিগ হাসান জোর গলায় বলল, ‘কী এত ভাবো, মীরা? আমরা তো তোমার পাশেই আছি। এই অফিসের সবাই তোমাকে ভালোবাসে, তোমার বিপদে পাশে দাঁড়ায়। আর আমি তো সবসময়ই তোমার পাশে ছায়ার মতো আছি।’

অফিসের কলিগ, বন্ধুসম হাসানের কথায় মীরা মুখে কষ্ট ভুলানো হাসি এনে বলল, ‘এই তো কিছু না। ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছি আর কী?’

রানু আপা আত্মবিশ্বাসী সুরে বললেন, ‘মীরা, এত কিছু ভাবাভাবির কিছু নাই। শফিকের সাথে তোমার আন্ডারস্ট্যান্ডিং হচ্ছে না। সম্পর্কটা তুমি ভেঙে দিতেই পারো। এভাবে অপমানিত জীবন বহন করার কোনো মানে হয় না। আত্মসম্মান আর আত্মমর্যাদা বোধ তো থাকা চাই। ’

হাসানের গলাতেও একই সুর শোনা যায়, ‘হ্যাঁ, মীরা, ঠিক তাই। ভাবাভাবির কিছুই নাই।’

মীরা আমতা আমতা করে বলল, ‘না, আমার টুকটুকির কথা ভাবছি। বাবা ছাড়া মেয়েটা কিভাবে বড় হবে? মানুষ হতে পারবে তো?’

রানু আপা হেসে উঠে বললেন, ‘এখন কি খুব ভালো ভাবে বড় হচ্ছে? এরকম অসুস্থ পরিবেশে কি বাচ্চা সুস্থ ভাবে বেড়ে উঠতে পারছে? সঠিক পরিচর্যা পাচ্ছে?’

মীরা ভাবনার অতল থেকে উঠে এসে বলল, ‘হ্যাঁ, এরকম অসুস্থ পরিবেশে মেয়েটার আসলেই মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সেদিন রাতে বাচ্চাটা আমাদের ঝগড়া শুনে পাশের ‘রুমের দরজার আড়ালে যেয়ে কাঁদছিল।’

রানু আপা মাথা নেড়ে বললেন, ‘এভাবে মেয়েকে বড় করতে পারবে না। বাবা মায়ের খারাপ সম্পর্কের মাঝে বড় হলে বাচ্চা মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে যাবে। তার চেয়ে আলাদা ভাবে বড় করাও ভালো।’

লাঞ্চ আওয়ার শেষ হলে সবাই অফিস ক্যান্টিন থেকে যার যার জায়গায় চলে গেল। মীরা একটা মাল্টিন্যাশনাল অ্যাড ফার্মে চাকরি করে। নিজের সিটে বসে ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ রাখল। সুখী সংসারের সাথে একটা ভোজ্য তেলের বিজ্ঞাপনের ডকুমেন্ট দাঁড় করাতে হবে। আগামীকাল প্রেজেন্টেশন, আজকের মধ্যেই কাজটা দাঁড় করাতে হবে। মীরা ভাবতে থাকল। হ্যাপী ফ্যামিলি, সুখী সংসার। সিনেমা, নাটক আর বিজ্ঞাপনের মতো তারও তো একটা সুখী সংসার ছিল।

সংসার, হায় লাল-নীল সংসার! শফিক-মীরার প্রেমের বিয়ে। ভার্সিটিতে পড়ার সময় পরিচয়, তারপর প্রেম। প্রেমটাকে বিয়েতে রূপ দিতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। দুইপক্ষকে ম্যানেজ করতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। নীলক্ষেতের খুপড়ি বিরিয়ানি ঘরে বসে খেতে খেতে দুইজন কত স্বপ্ন দেখেছিল এই লাল-নীল সংসারের, কিভাবে গোছাবে, পর্দার রঙ কেমন হবে, কাঠের না রড আয়রনের সোফা কিনবে, কোথায় গেলে সস্তায় ভালো ফার্নিচার কিনতে পারবে, সব ঠিক করে রেখেছিল। সেই স্বপ্নের সংসার এখন রুদ্ধশ্বাস সংসার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘরে ঢুকতেও মন চায় না, ঘরের বাতাসেও যেন পচনের গন্ধ। সম্পর্কের পচন কবে থেকে শুরু হয়েছিল ঠিক মনে করতে পারছে না।

গতকাল রাতে সেই পচনের গন্ধটা তীব্রভাবে বেরিয়ে এসেছিল। শফিককে সে উদারমনা ভেবেছিল। কিন্তু গত রাতে তার কদর্য রূপটা বেরিয়ে এসেছিল।

ঝগড়ার এক পর্যায়ে শফিক চেঁচিয়ে উঠে বলেছিল, ‘তোমার কলিগ হাসানের সাথে এত মাখামাখি কিসের? এজন্য তো আর সংসার ভালো লাগে না। পরপুরুষের সাথে লটর পটর, আমি কিছু বুঝি না ভেবেছ?’

মীরাও চিৎকার করে পাল্টা জবাব দিয়েছিল, ‘নোংরা কথা বলবে না, বুঝলে? নিজে নোংরা তো তাই সব কিছুতেই নোংরামী দেখো।’

গতরাতে ঘুম হয় নি। প্রচন্ড মাথা ব্যথা করছে। শরীরটাও খারাপ লাগছে। মীরা অফিস থেকে ছুটি নিয়ে তাড়াতাড়ি বাসায় চলে গেল। ফেরার পথে ডে কেয়ার সেন্টার থেকে টুকটুকিকে নিয়ে আসল। বাসায় বসে চিন্তা করতে থাকে, কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। মাকে একটা ফোন দিল। দুইবার বাজতেই ফোন ধরল,

‘হ্যালো, মা, আসসালামু আলাইকুম। ভালো আছো?’

‘কে, মীরা? ভালো আছিস?’

‘হ্যাঁ, মা, আমি। তেমন ভালো নাই।’

‘কেন কী হয়েছে রে?’

‘তোমাদের জামাই শফিক, আমার সাথে শুধু খারাপ আচরণ করে।’

‘কী করে? আমরা তো তোকে আগেই নিষেধ করেছিলাম, ঐরকম ফ্যামিলিতে বিয়ে না করতে। আমাদের কথা তো শুনলি না, এখন তো ঠেলা বুঝবিই।’

‘তখন তো বুঝি নি মা, শফিক আর তার ফ্যামিলি এত খারাপ। গতরাতে আমার সাথে এত নোংরা ভাষায় কথা বলল, বাবা-মা তুলে পর্যন্ত গালি দিল।’

‘কী গালি দিল? অসভ্য ছেলে কোথাকার! যেরকম মা, সেরকম ছেলে! গতবার তোর শাশুড়ি আমাকে যে কী অপমানটাই না করল। এটা দেন নি, সেটা দেন নি, আরো কত কথা। মেয়েকে রান্না শিখাননি, আরো কত কী! আমার মেয়েকে আমি মাস্টার্স পাশ করিয়েছি, ভালো চাকরিতে ঢুকিয়েছি। এই বিংশ্ব শতাব্দীতে এসে তিনি কত কিছু আশা করে! বউ মশলা বাটবে, দশ পদ রেঁধে খাওয়াবে, স্বামীর সেবা করবে, বাচ্চা পালবে, আরো কত আবদার! চাকরিজীবী বউ হলে যে ছাড় দিতে হয় সেটা যেমন শফিক জানে না ওর মা টাও জানে না। অশিক্ষিত, গেঁয়ো, ছোটলোক কোথাকার।’

‘হ্যাঁ, মা, আমি যে এখন কি করি! আমার উপর সে সব চাপিয়ে দিয়ে চলে যায়। বাজার, রান্না-বান্না, ঘর গুছানো, টুকটুকিকে ডে কেয়ারে আনা-নেওয়া সবই আমার করতে হয়। দায়িত্বহীন অথর্ব ছেলে একটা।’

‘আসলেই অথর্ব ছেলে। ওর মায়ের কত উঁচা গলা। আমার ছেলে হ্যান, ত্যান। এক গ্লাস পানি পর্যন্ত— ঢেলে খাওয়ানো শেখায় নি, বাজার করা শেখায় নি, নুলা বানায় রাখছে। নুলার মায়ের বড় গলা। ছু!’

মীরা কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, ‘মা, আমি আর এত ভার নিতে পারছি না। আমি আর ওর সংসার করতে চাচ্ছি না।’

মীরার মা আশ্বাস দেবার সুরে বলল, ‘হ্যাঁ, চলে আয়। আমাদের কি আর কম আছে, নাকি? তোকে আমরা পালতে পারব না? তুই বাড়ি চলে আয়। এখানের কোনো চাকরিতে ঢুকিস। যোগ্যতা আছে, নতুন চাকরি ঠিক খুঁজে পাবি। ওর সংসারে এত কথা শোনার দরকার নাই।’

‘না মা, আমি গ্রামের বাড়ি যাব না। মানুষজন নানা কথা বলবে। তার চেয়ে আমি ঢাকাতেই রানু আপার বাসায় সাবলেট থাকব। উনিও একা বেশ ভালোই আছেন।’

‘আচ্ছা, যা। আমাকে সব সময় সবকিছু জানাবি। কোনো সমস্যা হলে আমরা না হয় ঢাকায় যাব।’

‘আচ্ছা’ বলে মীরা ফোনটা রেখে দিয়ে দ্রুত ব্যাগ গুছিয়ে ফেলল। একটা ট্যাক্সি ঠিক করে টুকটুকিকে নিয়ে মগবাজারে রানু আপার বাসা অভিমুখে রওনা দিল। মিরপুর থেকে জ্যাম ঠেলে মগবাজার পৌঁছতে সন্ধ্যে হয়ে গেল।

শফিক সন্ধ্যে বেলায় অফিস শেষে বাড়ি ফিরল। ঘরে তখনো তালা ঝোলানো। তালা খুলে বিরক্তি নিয়ে ঘরে ঢুকল। মীরা কেন এখনো ঘরে ফিরে নাই, বুঝতে পারল না। আজকাল বড্ড বেশি বেপরোয়া হয়ে গেছে, কোথায় যায়, কার সাথে ঘোরে, কিছুই বলে না। মীরার সাথে জুটেছে এক ডিভোর্সী বড় আপা, কি যেন নাম, রানু না বানু মনে করতে পারল না। পকেট থেকে ফোন বের করতে যাবে ঠিক এই সময় বেড রুমের সাইড টেবিলের উপর একটা ভাঁজ হওয়া চিঠি পড়ে থাকতে দেখল। চিঠি খুলে পড়তে লাগল,

শফিক,

আমি আর তোমার সাথে থাকব না, ঠিক করেছি। তোমার মতো অথর্ব, দায়িত্বজ্ঞানহীন আর নোংরা মানসিকতার মানুষের সাথে আমার আর থাকার ইচ্ছে নাই। আমাদের আর কোনো খোঁজ নেবে না। ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেবো।

ইতি

মীরা

চিঠি পড়ে শফিক রাগে কাঁপতে লাগল। গতরাতের কথা মনে পড়ে গেল। গত রাতে সে না হয় একটু বেশি রিঅ্যাক্ট করেছে। কিন্তু তাই বলে এভাবে চলে যাবে। তার রাগ সে বোঝে না। তার বাহিরের রাগটা আসলে মনের কথা নয়। রাগ উঠলে সে উল্টা-পাল্টা বকে, পরে আবার ঠিক হয়ে যায়। যে আমাকে বোঝে না, সে যাক। আমি আর তাকে আদরাতে যাব না। খুব দেমাগ হয়েছে, না। যে আমাকে বোঝে না, আমার যত্ন নেয় না, তার সাথে থেকে কী লাভ। এসব ভেবে সে তার মাকে ফোন দিল,

‘মা, আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছ?’

‘হ,বাজান,ভালা। তুই কেংকা আছিস? তোর গলাটা এংকা শুনা যায় ক্যা?’

‘মা, মীরা টুকটুকি কে নিয়ে চলে গেছে। আমার সাথে আর সে ঘর করবে না।’

‘মুই আগেই কইছিলাম, ঐ ছেমড়ী সংসার করবার পাবার নয়। স্বামীর খেদমত জানে না। ভালা রাঁন্ধন জানে না। তোক বাসি তরকারি খিলায়। এক গ্লাস পানি পর্যন্ত— তোক ঢালি খিলায় না। তোর গায়ত একটা চাদর পর্যন্ত দিয়া দেয় না। তুই ঠান্ডাত কুকড়ি থাকিস, সেদিক খোঁজও রাখে না। নেজে ঠিকই ভালা খাবারটা খায়, মাছের মাথা পেটি সব খায়। তোর আগেই ভাত খায়া ফেলায়। এরকম খাকী আর দজ্জাল মেয়েলোক মুই জেবনেও দেখম নাই। কী দেইখ্যা যে তুই ওরে বিয়া করছিলি রে বাপ?’

‘তখন তো বুঝি নি মা, এত দজ্জাল হবে। বিয়ের আগে তো ভালোই মনে হয়েছিল।’

‘বিয়া বসার জন্যি অংকা ভালা সাজছিল। তোর নাখান সোনার টুকরা ছেলে কই পাবে? গ্যেছে, ভালাই হচে, ল্যাটা চুকে গ্যাছে। তুই আবার ওর পাও ধরবার যাস না। তাইলে কিন্তু সারা জেবন বউয়ের গোলাম হইয়্যা থাকন লাগব।’

‘আচ্ছা মা, রাখি’ বলে শফিক বিছানায় শুয়ে পড়েছিল। মীরার খোঁজ সে আর রাখে নি। দুই মাস পরে ডিভোর্স লেটার সে হাতে পেয়েছিল। রাগে আর আত্মঅহংকারে সে একবারও ফোন দেয় নি। মীরা রাগ করে আশা করেছিল যে উকিল নোটিশ পেয়ে হয়ত শফিক সংসার বাঁচাতে দৌড়ে আসবে, কিন্তু শফিক আসে নি। সেও তার ইগোর কারণে ফোন দেয় নি। তাই নব্বই দিন পার হলে আপনা আপনি ডিভোর্স হয়ে গেল। ঘর ভাঙানিয়া মানুষেরা মীরা-শফিকের মনোমালিন্যের চাপা আগুনটাকে উসকে দিয়ে শেষ পর্যন্ত ঘরটাতে আগুন ধরাতে সক্ষম হয়েছিল। সম্পর্কটাকে ছাড়াছাড়ি করিয়ে ছেড়েছিল।

টিকাঃ আমাদের সমাজে ডিভোর্স এখন খুব সহজ হয়ে গেছে। অথচ ডিভোর্সের ইস্যুগুলো খুব মারাত্মক কিছু নয়। সামান্য মনোমালিন্য হলে স্বামী-স্ত্রী দুইজনে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা না করে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাথে শেয়ার করে, আর তারাও অতি উৎসাহে কুপরামর্শ দিয়ে চাপা আগুনটাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। অথচ ছোট-খাটো ভুলত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা নিয়ে অন্যদের কাছে বলে বেড়ানো ঠিক নয়, পরনিন্দা, কুধারণা,  গীবত আমাদের ধর্মে পুরোপুরি নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কুরআনুল কারীমে আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’(আল হুজুরাত : ১২)

আবার আমাদের এই ভারত উপমহাদেশীয় কনটেক্সটে ছেলে সন্তানদেরকে একদম প্রতিবন্ধী আর অথর্ব হিসেবে গড়ে তোলা হয়। কাপড় ধোয়া, বিছানা গুছানো, নিজের জুতা পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে এক গ্লাস পানি পর্যন্ত ঢেলে খেতে দেওয়া হয় না। তাদের এমন অথর্ব বানানো হয় যে  তারা নিজের জীবনে সব কিছুতেই অন্যের উপর ডিপেন্ডেন্ট হয়ে পড়ে।

সংসারে তখন স্বামী তার স্ত্রীর সাথে দাসীর মতো আচরণ করতে শুরু করে। অথচ নিজের কাজ নিজে করা সুন্নাহ। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহম্মদ (সা:) নিজের কাজ নিজে করতেন, অন্যকে কখনো কষ্ট দেওয়া তো দূরে থাক বরং তিনি তাঁর স্ত্রীদের গৃহের কাজেও সাহায্য করতেন। এ সম্পর্কে আয়েশা (রা:) বলেন, ‘তিনি ঘরের কাজকর্মে ব্যস্ত থাকতেন আর যখন আযান শুনতেন, তখন বেরিয়ে যেতেন।’ (বুখারী: ৪৯৭২)

নারীর বাহিরে চাকরি আর ভারসাম্যহীন জীবন ব্যবস্থাও অনেক ক্ষেত্রে ডিভোর্সের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নারীরা শিক্ষিত হয়ে উঠছেন। উচ্চ শিক্ষিত চাকরিজীবী নারীরা বাহিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করতে ক্লান্ত হন না, কিন্তু ঘরের কাজ তাদের বিরক্তি এনে দেয়। রান্না, বাথরুম ধোয়া, কাপড় কাচা, ঘর ঝাড়ু দেওয়া এমনকি শিশু সন্তানের ন্যাপি পাল্টানোর কাজটাও তাদের অসহ্য লাগে। আবার অনেক শিক্ষিত নারী শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সামর্থের গরম দেখাতে গিয়ে সংসারই করতে পারছে না, সুখ হারিয়ে যাচ্ছে তার নিজের আত্মঅহমিকায়। শিক্ষার সাথে নিজের মানবিকতা ও মানবতাকে এডাপ্ট করতে না পারায় সংসারের দায়িত্ব তার কাছে বোঝার মতো হয়ে দাঁড়ায়।  পরিণতিতে সংসারে ভাঙন দেখা যায়।

লেখকঃ সাহিত্যিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক

 

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.