শূন্যতার সাতকাহন

ইশরাত জাহান রোজী

চোখের ভিতর এক গভীর সমুদ্রকে লুকিয়ে রেখে বেঁচে থাকাকে কী বেঁচে থাকা বলে? প্রতিনিয়ত সুখ-দুঃখের টানাপোড়েনের সাথে যুদ্ধ করতে করতে বড় ক্লান্ত মন, সুখ খোঁজে জীবনের খাঁজে।

বাস্তবতার দিনলিপিতে যেন প্রতিটি দিন-ই এক অভিশপ্ত দিন! শাহেদ তা ঠিক টের পায়। জীবনের একটা যুদ্ধ শেষ করেই ভেবে নেয়,এটাই শেষ, এখানেই শেষ!  কিন্তু আসলেই শেষ হয় না। টানাপোড়েন চক্রাকারে চলতে থাকে। কখনো জীবনের টানাপোড়েন, কখনো বা মনের। বিচিত্র জীবনের বিচিত্রতায় মাঝেমাঝে তলিয়ে যায় সে। আবারও ভেসে উঠে বাঁচে,বেঁচে থাকতে হয়। বুকভরা আশা বুকে নিয়ে বেঁচে আছে ও।

কতদিন হলো অররাকে দেখে না। হৃপিন্ডের চারপাশে শুধু শূন্যতার হাহাকার! অররা কতটা বদলেছে, কতটা আগের মতো আছে এসব জানতে খুব ইচ্ছে করে। কিন্তু ইচ্ছেগুলো ইচ্ছের খোলসেই বন্দী থাকে।

কিন্তু কোথায় পাবে ও অররাকে। পনেরো বছর হলো মেয়েটাকে দেখেনি শাহেদ। ডিভোর্সের পর রুবাইয়া মেয়েকে নিয়ে চলে গেছে কানাডায়। রুবাইয়া উন্নত জীবন চায়, আধুনিক জীবন চায়। শাহেদের সস্তা, সাধারণ সুখী জীবন রুবাইয়ার অহংকারের তলায় পিষ্ট হয়। কালির আঁচড়ে সমাপ্ত হয় জীবনের এক অধ্যায়। আর শেষ থেকে শুরু হয় শাহেদের হাহাকারের অধ্যায়!

অররা ফিরে আসার স্বপ্ন দেখে শাহেদ। শুষ্ক মরুভূমির মতো বক্ষে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে সুখের প্লাবনে প্লাবিত হতে চায় অন্তত, এক বারের জন্য!
একবার  ‘বাবা’ ডাকে জুড়াতে চায় তৃষ্ণার্ত অন্তরাত্মা!

আরও পড়ুন