বাড়ীর পুরুষরা যেভাবে আগলে রাখে

ইশরাত জাহান রোজী

গতকাল সন্ধ্যায় মানিকদী, ইসিবি, কালশী পেরিয়ে মিরপুর এগারো যাচ্ছিলাম। আমার ব্যক্তিগত পাঠাও সার্ভিসের বাইকের পিছনের সিটে বসেছিলাম। সামনে বাইক ড্রাইভার হাজবেন্ড। বাসা থেকে বের হয়েই বুঝতে পারি শরৎকাল নিজের চেহারা রুপান্তরিত করে ফেলেছে। এখন তার বর্ষা ফ্যাশন ভালো লাগে। তাই ইদানীং রিমঝিম ড্রেস পরে থাকে সে।

যাই হোক, সন্ধ্যার রাস্তা মানেই হাজার কিছু মনের ভিতর জটলা পাকানো। ইসিবি ও কালশীর রাস্তায় জমে থাকা নানান রকম স্মৃতিগুলো আওড়াতে আওড়াতে ছুটে চলা মানুষ দেখি, রাস্তার রঙিন আলো দেখি, বিভিন্ন যানবাহনে মানুষের জীবন দেখি। এলোমেলো নানান ভাবনা আঁকড়ে ধরে আমাকে!

বৃষ্টির পানি জমে থাকা রাস্তায় ভয় পাচ্ছিলাম। যদি, স্লিপ কেটে যায় বাইকের চাকা, কিংবা পানি থাকা জায়গায় গর্ত থাকে, কিংবা পিছন থেকে কোনো গাড়ি ধাক্কা মেরে দেয়, কিংবা হাজবেন্ডের একটু অসতর্কতায় যদি এ্যাকসিডেন্ট হয়? এসব নানান কিছু ভাবি। (আলহামদুলিল্লাহ! তেমন কিছু হয়নি)

আর সেসব ভাবতে ভাবতেই উপলব্ধি হয় আরেক বিষয়ের। বাইরে রাস্তায় বেশির ভাগ পুরুষ মানুষ চোখে পড়ে। সবাই জীবিকার জন্য ছুটে চলেছে। একজন পুরুষ আমাদের বাবা,আমাদের স্বামী, আমাদের সন্তান। আমরা মেয়েরা যারা চাকরি করি না, ঘরে থাকি তারা কত সহজভাবেই পুরুষদেরকে অর্ডার করি এটা আনো,ওটা আনো,এই দরকার, সেই দরকার! আর বাসায় ফেরার পর সেগুলো নিখুঁতভাবে না পেলে অভিমান করি,রাগারাগি করি। অনেক কিছুই হয় এই সামান্য না-পাওয়াটুকু থেকে। অথচ,আমরা বুঝতেই পারি না, বা বুঝতেই চাই না পুরুষ মানুষটি বাইরে থেকে কত রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে এসেছে। কত রকম তিক্ত অভিজ্ঞতা হতে পারে তার চলার পথে। অফিসে নানান রকম ঝামেলা থাকে, সেগুলোর অভিজ্ঞতা সুখকর নাও হতে পারে।

পৃথিবীতে মানুষকে বুঝা সবচেয়ে কঠিন কাজ। জীবনে এমন নানান মানসিকতার মানুষের সাথে একজন পুরুষকে বাইরের জগতটা হ্যান্ডেল করতে হয়। হয়ত অফিসের বস হতে পারে বিপরীত স্বভাবের মানুষ, কিংবা পাশাপাশি কাজ করা কলিগটি হতে পারে একেবারে অসহ্য! এমন হাজারো পরিস্থিতি তাদেরকে সামলে চলতে হয়, উপার্জন করতে হয় প্রিয় পরিবারের জন্য,প্রিয় মানুষগুলোর জন্য। রাত-দিন বাস্তবতার সাথে যুদ্ধ করে ছুটে চলা সেসব আপন পুরুষ মানুষগুলোর কষ্ট, যন্ত্রণা আমার মতো ঘরে বসে থাকা মেয়েরা আমরা তার সত্যিকার মর্ম কতটুকু বুঝি? তবে সত্যিই বুঝা উচিৎ।

হাজারো শ্রদ্ধা আর সম্মান সেই সব সম্মানিত পুরুষ মানুষগুলোর প্রতি,যারা নিজেদেরকে বিলিয়ে দিয়ে পরিবারের মানুষগুলোকে নিরন্তর সুখী রাখার চেষ্টায় নিবেদিত থাকে।
আল্লাহ তাদেরকে ভালো রাখুন।

লেখকঃ কবি ও সাহিত্যিক

 

 

আরও পড়ুন