সুন্দরী রমণীদের সৌজন্যবোধের অভাব

সাইফুল্লাহ সাদেক

সুন্দরী রমনীদের সৌজন্যতাবোধ দেখা যায় না বলে মতব্যক্ত করেছেন দেশের একদল তরুণ গবেষক। তারা বলছেন, বিশেষ করে পুরুষের বেলায় এই ধরনের নারীরা মোটামুটি অভদ্রই বলা চলে। তাদের এই প্রবণতা বেশি কাজ করে মূলত প্রথম কারো সঙ্গে সাক্ষাতের সময়। ঐ পরিস্থিতিতে সুন্দরী নারীরা এতো বেশি অসৌজন্য বা অভদ্র হয়ে পড়েন, যা পুরুষের জন্য অপমানজনক।

অবশ্য গবেষকরা এর জন্য পুরুষদের অনৈতিক এবং কুচেতনাকে প্রধানত দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, সুন্দরী রমনী দেখলে পুরুষদের চোখের পলক পড়তেই চায় না, সমস্ত কুবাসনা, কুচেতনা দিয়ে অদ্ভূত চোখে তাকিয়ে থাকে; যে চাহনিকে সুন্দরী নারীরা নিজেদের জন্য হুমকি মনে করে। আর এই হুমকি থেকে নিজেদের বাঁচানোর প্রবণতা থেকেই অধিকাংশ সুন্দরী রমনী অসৌজন্য আচরণ করেন।

অবশ্য তরুণ গবেষক দল এও বলছেন যে, এধরনের সুন্দরী রমনীরা অতিমাত্রায় সাজসজ্জা করে এতো বেশি খোলামেলা চলাফেরা করে যে, যার দরুণ পুরুষরা চোখ এড়াতে পারে না। তারা বলছেন, চোখ-মন থাকলে তো সুন্দরের দিকে চোখ যাবেই। কেননা, মানুষ সুন্দরের পুঁজারি। এক্ষেত্রে স্মার্ট পুরুষদের দিকে নারীদেরও চোখ যে যায় না, তা ভাবা ভুল-বলছেন গবেষকরা।

তারা আরও বলছেন, অবশ্য অধিকাংশ সুন্দরী রমনীরই এমন প্রত্যাশা থাকে যে, পুরুষরা তাদের দেখুক। যখন কোন পুরুষ সুন্দরী রমনীর দিকে তাকায়. ঐরমনী মনে মনে উৎফুল্ল হলেও ওপরি ভাব নেয়। আর যখনই কোন কথা বলতে চাওয়া হয়, তখনই অসৌজন্য আচরণ করে থাকেন।

গবেষকরা বলছেন, অধিকাংশ সুন্দরী নারীদেরই স্বাভাবিকভাবে অহংকার বেশি কাজ করে। আর সেই অহংকারই তাদের স্বাভাবিক আচরণে ব্যাঘাত ঘটায়। অর্থাৎ, নিজেদের সৌন্দর্য জাহির করতে গিয়েই সুন্দরী রমনীরা অসৌজন্য হয়ে পড়েন। অবশ্য এটাও ঠিক যে, এরা নিজেদের বয়ফ্রেন্ডের ক্ষেত্রে একিবারেই ব্যতিক্রম!

গবেষণায় উঠে আসা আরেকটি আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, এখনকার সুন্দরীদের মাঝে অনৈতিকতার স্ফলন হচ্ছে প্রবলভাবে। অধিকাংশ রমনীই নিজেদের আভিজাত্য, রূপচর্চা, অতিমাত্রায় সাজসজ্জা করার ইচ্ছাপূরণে কিংবা ভাব জমিয়ে চলার প্রবণতা থেকে অনৈতিক কর্মে লিপ্ত হচ্ছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও খুব একটা বাদ যাচ্ছে না। মূলত অতিমাত্রায় ফ্যাশন প্রিয়তা তাদের এধরনের কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করছে। কেননা, এমন চাকচিক্যময় জীবনের জন্য প্রচুর অর্থব্যয় হয়, আর সেই অর্থ সবসময় সবাই একইভাবে কখনো পরিবার থেকে পায় না। আবার এমন অনেকও আছেন যারা মনের একান্ত বাসনা থেকে কুকর্মে লিপ্ত হয়।

গবেষরা বলছেন, সাম্প্রতিকালকালে সাধারনত অনেক সুন্দরী রমনীকে নির্দিষ্ট একজন পুরুষের সঙ্গে প্রেমে জড়ানোর চেয়ে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্নভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে দেখা যাচ্ছে, যা দেশর ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আশঙ্কাজনক। যা একটি অনৈতিক সমাজের অশনি সংকেত মনে করছেন তরুণ এই গবেষকরা।

দেশের একদল তরুণ গবেষক, যারা কিনা দীর্ঘ ৫মাস ধরে প্রায় ২০০শ নারী-পুরুষের মাঝে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই গবেষণা তথ্য দিয়েছেন।  তাদের কাজে সহযোগিতা করেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

লেখকঃ গবেষক ও রিপোর্টার, চ্যানেল আই অনলাইন

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.