নারীর উন্নয়নে প্রতিবন্ধক কে?

নুরুন নাহার লিলিয়ান

নারী ! নির্দিষ্ট কবে থেকে এই শব্দটা আলাদা করে আলাদা সমাজের অধিভুক্ত করা হল আমারও নির্দিষ্ট করে জানা নেই । অথচ একটি সম্পূর্ণ মানব সমাজ গঠনে নারী কে কি আলাদা করে ভাবা যায় ! কিন্তু সমাজে প্রচলিত আছে কতো রকমের ধারণা । একজন ক্ষমতাবান নারীর কাছে যেমন কিছু পুরুষ কিংবা অনেক মানুষ অসহায় তেমনই একজন ক্ষমতাবান পুরুষের কাছে অনেক নারী কিংবা কিছু মানুষ অসহায় হতে পারে যেকোনো প্রেক্ষাপটে । শুধুই কি নারীর জন্য পুরুষ একটি প্রতিপক্ষ কিংবা শত্রু ধারণা বহন করে? এ যাবত কালে এই সময়ে দাড়িয়ে এই ধারণা খুব সাধারণ একটা উপহাস বহন করে ।এখনকার নারী অনেক বেশি ক্ষমতাবান ,দক্ষ, শিক্ষিত ,বিচক্ষণ ।তবে ক্ষমতায় নারী যেমন উদার ,সৌন্দর্য, মহানুভবতার এবং ব্যক্তিত্তের পরিচয় বহন করে কোন কোন যায়গায় সেই চির চেনা অবলা নারী বিশ্বাস ঘাতক, প্রতারক , ক্ষমতার অপব্যবহার ,খুনি এমন ও হাজার ও চরিত্র অঙ্কিত হয়ে আসছে আমাদের প্রতিদিনের কাগজে ,কলমে,দেখায় আর অভিজ্ঞতায়। চারিদিকে এখন অনেক বেশি মানবিক বিপর্যয় ।

নারী উন্নয়নে শুধুই কি পুরুষ বাধা সৃষ্টি করে? হয়তো কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরুষই প্রতিবন্ধক হয় ।  কিন্তু একটা নারী যখন এগিয়ে যায় অনেক দূর তখন প্রতিপক্ষ হিসাবে শুধু পুরুষ থাকে না অনেক বেশি নারীও তার উন্নয়নের পথে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে থাকে । নারীরএগিয়ে যাওয়ার পথে অনেক প্রতিবন্ধকতা । কারণ ছাড়াই একজন নারীর নামে কুৎসা রটনা ,হেয় করে উপস্থাপন,মেধার মূল্যায়ন না করা , নারীর চিন্তা শক্তিতে বাধা এমন অনেক অনেক অজানা প্রতিবন্ধকতা আছে । যা কি না  শুধু একজন পুরুষ কিংবা কিছু পুরুষ করছে তা না এর সাথে অনেক নারীও  অনেক ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত থাকে ।

যখন একটি মেয়ে শ্বশুর বাড়ি নির্যাতিত হয় তখন তার স্বামীর সাথে স্বামীর বোন ,ভাবী, কিংবা শাশুড়িও যুক্ত থাকে কিন্তু দোষটা শুধু স্বামীর উপর দিয়ে যায় । বোন ,ভাবী, শাশুড়ির কথা ঘটনার পরম্পরায় চাপা পড়ে যায় । হয়তো এদেরই কেঊ কেঊ স্বামী-স্ত্রীর সুন্দর ভালোবাসায় কাল বৈশাখী ঝড়ের ভূমিকা পালন করেছে ।

যদি কর্মস্থলে কোন নারী এগিয়ে যায় সেখানে সেই নারীর নামে সব চেয়ে নিকৃষ্ট কোন কুৎসা রটিয়ে দেওয়া শুধু পুরুষ এর কাজ নয় এখানেও দেখা যাবে অনেক বেশী নারীর সম্পৃক্ততা । নারীকে এগিয়ে যেতে হলে নারীর সহজাত বৈশিষ্ট্য নিয়ে পুরুষকে সঙ্গে রেখে এগিয়ে যেতে হবে । পুরুষকে পাশে রাখা বা পুরুষের পাশে থাকা নারী উন্নয়নে এবং মানব সমাজ টিকিয়ে রাখতে অধিকতর জরুরী । কিছু কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা কোন দিন কোন উত্তম উদাহরণ হতে পারে না । এতে সমাজে মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনা ছাড়া আর কোন কিছুই হতে পারে না । প্রকৃতির সুন্দর এবং সহজাত নিয়ম ভেঙে নারী কিংবা পুরুষ কেউই এককভাবে এগিয়ে যেতে পারে না । একটি সুন্দর কবিতার মতো সম্পূর্ণ সমাজ গঠনে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা বোধ ,ভালোবাসাবোধের আরও অনেক বেশি চর্চা দরকার । নারী অধিকারে নারী যেন সত্যি একজন স্বপ্ন কুমারী,দেবী,আর মহীয়সী হয়ে থাকে । পৃথিবীর সকল নারী সম্পূর্ণ জীবন নিয়ে সুন্দর পৃথিবী রচনা করুক ।

 

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.