মেয়েরা আসলে কী চায়?

এস এ জাহান

নারী, নারী মনের রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে কত পুরুষ যে দিশেহারা ; তার হিসেব হয়তো গণিতের গণিতিক সংখ্যায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় । এই নারী মনের রহস্য উদঘাটন করতে না পেরে কোন প্রেমিক পাগল হয়তো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় খালি পায়ে উসকো খুসকো চুলে ।  আবার কেউ কেউ সামান্য মানুষ থেকে হয়ে উঠেন অসামান্য । নারীর মধ্যে যে রহস্যময়তা লুকিয়ে আছে তার কুল কিনারা যেন খুঁজে পায় না অনেক পুরুষ ।

২৬ জানুয়ারি ২০১৪ দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত “নারীর যত চাওয়া” শিরোনামের একটি আর্টিকেলে লেখক বলেছেন- “আকাশের রং আর নারীর মন নাকি ক্ষণে ক্ষণে পাল্টায়! এ কথা হয়তো পুরুষেরাই প্রচার করেছেন। কিন্তু এমন ধারণার নেপথ্যে রয়েছে একজন পুরুষের কাছে নারী কখন কী চান, তার উত্তর খুঁজে না পাওয়ার রহস্য। উত্তর মিলুক বা না মিলুক চিরদিনই পছন্দের নারীর মন পেতে পুরুষেরা মরিয়া হয়ে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছেন।”

বাঙ্গালী নারী বিশেষ করে বাঙ্গালী স্ত্রী যে কি চায় তা বুঝা মুশকিল হয়ে  উঠে একজন বাঙ্গালী স্বামীর জন্য । কোন স্ত্রীকে যদি ব্যস্ততার কারণে স্বামী সময় দিতে না পারে, তাহলে স্ত্রীর কষ্টের সীমা থাকে না । সে নিজেকে ভাবতে থাকে সবচেয়ে অভাগা । আবার কোন স্ত্রীকে স্বামী যদি সব সময় কাছে পেতে চায়, তার সাহচর্য পেয়ে ধন্য হতে চায় তাহলে সেই স্ত্রীর কাছে স্বামীর এই ভালোবাসাময় আবেদন হয়ে উঠে আদিখ্যেতা । সেই স্ত্রীর জন্য হয়ে উঠে চরম বিরক্তির কারণ । এটাও তার কাছে অসহনীয় হয়ে উঠে ।

কোন স্বামী যদি শিক্ষিত কোন স্ত্রীকে চাকুরী করতে বলে বা চাকুরী করার অনুমুতি দেয় তাহলে স্ত্রীর চোখে এটা মনে হয় চরম স্বার্থপরতা । স্ত্রী ভাবতে থাকে যে স্বামী তাকে অর্থ আয়ের হাতিয়ার বানাতে চাচ্ছে । আবার  কোন স্বামী যদি স্ত্রীকে চাকুরী করতে না দিতে চায় তাহলে সে স্ত্রীর স্বাধীনতা হরণ করে । স্ত্রীকে নিজের অধীনে মজলুম করে রাখে বলে অনেক স্ত্রীর অভিমত ।  নারীর এমন দ্বিমুখী অবস্থার কারণে পুরুষরা নিজেরাই দিশেহারা হয়ে পড়ে । তারা বুঝতে পারে না যে কিভাবে নারীদের সাথে পুরুষের সম্পর্কের মহা সম্মীলন ঘটবে ।

কোন কোন সাহাবী স্ত্রীর ব্যবহারে বিরক্ত হয়ে রাসুল সাঃ এর কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলে বারবার  আমাদের প্রিয় রাসুল নারীদের সাথে সদ্ব্যহার করতে বলেছেন । পুরুষ সাহাবীদের শান্তনা দিতে গিয়ে  কোন কোন  সময় বলেছেন যে  নারীরা নাকি বাকা হাড় দিয়ে তৈরি ।

“আবদুল আযীয ইব’ন আবদুল্লাহ (রহঃ) হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নারীরা হচ্ছে পাঁজরের হাড়ের ন্যায়। যদি তোমরা তাকে একেবারে সোজা করতে চাও, তাহলে ভেঙ্গে যাবে। সুতরাং, যদি তোমরা তাদের থেকে লাভবান হতে চাও, তাহলে ঐ বাঁকা অবস্থাতেই লাভবান হতে হবে।” (বুখারী শরীফ -৪৮০৬)

“ইসহাক ইব’ন নসর (রহঃ) আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে আল্লাহ এবং আখিরাতের ওপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন আপন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। আর তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যহার করবে। কেননা, তাদেরকে সৃষ্টী করা হয়েছে পাঁজরের হাড় থেকে এবং সবচেয়ে বাঁকা হচ্ছে পাঁজরের ওপরের হাড়। যদি তুমি তা সোজা করতে যাও, তাহলে ভেঙে যাবে। আর যদি তুমি তা যেভাবে আছে সে ভাবে রেখে দাও তাহলে বাঁকাই থাকবে। অতএব, তোমাদেরকে ওসীয়াত করা হল নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যহার করার।” (সহিহ বুখারী-৪৮০৭)

পুরুষ জাতির প্রাতি রাসুলের পরামর্শ হলো নারীদের সাথে পুরুষের স্বভাবসুলভ আচরণে চললে হবে না  । তাদের সাথে সহাবস্থানের ক্ষেত্রে পুরুষের আচরণগত পরিবর্তনও আনতে হবে । আর এই পরিবর্তন আনতে না পারার কারণে হয়তো কোন কোন পুরুষ নারীর আচল ঘেঁষা হয়ে উঠে আবার কেউ হয়ে উঠে নারী নির্যাতনকারী ।

হিলারি ক্লিনটনের কলেজ জীবনে কলেজের প্রেসিডেন্ট রুথ অ্যাডামসের সাথে আলোচনাকালে রুথ বরাবরই হিলারিকে প্রশ্ন করতেন- “তোমরা মেয়েরা আসলে কি চাও?”“সত্যি বলতে কি আমরা মেয়েরা যে কি চাই তা আমাদের অনেকে ঠিকমত বুঝতাম না । আমরা বাতিল হয়ে যাওয়া অতীত আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মাঝখানে আটকা পড়ে গিয়েছিলাম । ” লিভিং হিষ্ট্রি, হিলারি ক্লিনটন

নারীর এই নিজেকে না বুঝার এবং নিজেকে একক ও অদ্বিতীয় রূপে উপস্থাপন করতে না পারার অক্ষমতা পুরুষের কাছে তাকে অনেক কঠিন করে তুলেছে । তাই তো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারী-পুরুষের সম্পর্কের সরল মিথস্ক্রিয়া আস্তে আস্তে জটিল বিষক্রিয়ায় পরিণত হয়ে যায় ।

 

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.