ফেসবুক এবং ফেক নারীর খপ্পরে

মোঃ ইব্রাহীম খলিল

আমার এক বন্ধু আছে, সোলেমান হক তার নাম। তার নিজের নামে যেমন একটি ফেসবুক আইডি আছে, তেমনি একটি ফেক আইডিও আছে। তবে ফেক আইডিটি একটি মেয়ের নামে। গুগল থেকে একটি গ্রাম্য মেয়ের একাধিক ছবি ডাউনলোড দিয়ে দৈনিক একটি করে ঐ মেয়ের পিক বিভিন্ন ছলা কলা লিখে পুরুষদের আকৃষ্ট করে ছবি পোষ্ট দিতো। এতে নবাগত ছেলে থেকে শুরু করে বয়স্ক পুরুষরাও নানান কমেন্ট করতো। একদিন সোলেমান আমায় দেখালো,তার নারী ফেক আইডিতে২০০+মেসেজ এসেছে, তাও আবার ছেলেদের। সব গুলো মেসেজের কমন ডায়লগ একটাই–হাই, হ্যালো,আমরা কি বন্ধু হতে পারি?আরো নানান হ্যানো তেনো ভুজরুকি লেখা।
একদিন সোলেমান আমায় রাত নয়টায় ফোন দিলো, নানান খোশ গল্প ফোনে চলছিলো। প্রায় ৪০মিনিট কথা বলার পর হুট করে মনে হলো, যে শালা কোনদিন এক কাপ চা খাওয়াইনি, সে আজ দেড় টাকা মিনিটে আমার সাথে এতো আজাইরা আলাপ মারতাছে, কারনটা কি?পরে জানতে পারলাম, বিভিন্ন ছেলেরা তাকে ফোনে টাকা পাঠায়।
এটা শোনে তো আমি অবাক, বেটা বলে কি!ছেলেরা চিরকালই তার প্রিয়তমাকে ফোনে ব্যালেন্স না থাকলে টাকা পাঠায় কিবা বিকাশ করে, কিন্তু একটি ছেলে আরেকটি ছেলেকে হুদাই ফোনে টাকা পাঠাবে কেন?
সোলেমান তখন আমায় বলল,আমি ফেক আইডি খুলে আলাদিনের ছেড়াগ পাইছি।
-ব্যাপারটা খুইলা কয়?
-আমার নারী ফেক আইডিতে কত্ত পোলাপাইন জানেমান দিল দেওয়ানা হইয়া আছে। আমি বিভিন্ন কায়দা করে একটু আবেগের কথা বলিয়াই বিভিন্ন অযুহাতে ব্যালেন্স কিবা বিকাশে টাকা চাই, ছেলেরাও আমার মিষ্টি চ্যাটে পাগল হয়ে অন্ধের মতো ফ্ল্যাক্সি করে। কেউ কেউ বিদেশ থেকে বিকাশেও টাকা পাঠায়।
আমি ভাবতে থাকি এই যদি হয় ফেক আইডির অবস্থা, তাহলে যারা রিয়েল আইডি দিয়ে(সবাই নয়)বিভিন্ন ছেলেদের এভাবে পকেট সাফাই করছে, তাহলে তাদের অবস্থাটাই বা কেমন হতে পারে?
আমি বিভিন্ন ভাবে উপলব্দি করেছি যে, খুব কম মেয়েই ফেক আইডি use করে। তবে শতাধিক ফেক আইডি ছেলেদেরই।
একবার হোসনে আরা নামক এক ফেসবুক ব্যবহারকারী মেয়ের স্ট্যাটাসে আমি বরাবরই মুগ্ধ হয়েছিলাম, সে এত্ত সুন্দর সুন্দর টপিক প্রতিদিন তার আইডিতে শেয়ার করতো, যা পড়ে আমার মতো আরো শতাধিক ছেলে ভিমরুলের মত তার আইডিতে কিবা পোষ্টে কমেন্ট করতো। তার প্রতিটি পোষ্টে দৈনিক ১০০+কমেন্ট আসতো।
একদিন হুট করে সেই হোসনে আরা ওপেন রিলেশনশিপের মতো ফেসবুকে ঘোষনা দিলো–শুরুতেই সরি, যারা আমাকে এত্তদিন মেয়ে ভেবে আমার পোষ্টে নজর দিয়ে লাইক কমেন্ট করে আমাকে ভাইরাল করেছেন, আসলে আমি হোসনে আরা নই। আমি একজন ছেলে, আমার রিয়েল নাম হোসাইন মাহমুদ। ছেলেদের ভালো ভালো পোষ্ট গুলোও কেউ পড়তে চায় না। তাই, মাইয়ার ভাব ধইরা পোষ্ট দিয়েছি এত্তদিন। পরিশেষে এটাই বুঝলাম, মাইয়াগোর মাঝে যে মধ্যাকর্ষন আকর্ষন, সেটা আমরা ছেলেগোর মাঝে নাই, যদি থাকতো, তাহলে ভুল করেও বাবা আদম মা হাওয়ার ফান্দে পড়ে গন্দম খাইয়া কষ্টের এই দুনিয়ায় আমাদের নিক্ষেপ করতো না।
হোসাইন মাহমুদের ওপেন পোষ্টটি পড়ে আমার মতো অনেক অনেক পাঠক,ভক্ত হতাশ হয়েছিলেন। এক ভক্ত তো সরাসরি কমেন্টে লিখেই ফেলেছিলো–দূর মিয়া..আমি তো তোমারে হোসনে আরা ভেবে মনে মনে ভালবেসেই ফেলেছি। তুমি হালা ফেক নাম নিয়া আমার অন্তরে জায়গা নিলা। অহন আমার মনে যে কল্পনার হোসনে আরা ছিলো, তাকে আমি এখন ভুলবো কেমনি?
হা হা হা……
এই হলো আমাদের অবস্থা। এক জরিপে দৈনিক যুগান্তর তাদের আইটি বিভাগে উল্লেখ করেছেন–পৃথিবার একমাত্র বাংলাদেশি ফেসবুক ইউজাররাই ফেক আইডি ব্যবহার করে। বাংলাদেশের পরের স্থানটি ভারত।
আমার ফ্রেন্ড লিস্টেও অনেক মেয়ে ফেসবুকিয় বন্ধু আছে। তবে আমি ঐ হোসনে আরা মতো শংসয়ে থাকি, হোসনে আরার মতো না জানি এই মেয়ে ফেসবুকিয়রাও আড়ালে ছেলে হয়ে আছে। খামোকা কি দরকার, ঘেষে গায়ে পড়ে হাই হ্যালো করার?
যে আসবে আপনি আপনিই আসবে, যদি থাকে নসিবে।

মোঃ ইব্রাহীম খলিল সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন