অভিভাবকদের অসচেতনতা ধর্ষণের অন্যতম কারণ

ফাতেমা জাহান লুবনা

অভিভাবকেরা যদি সচেতন হোন তবে রোধ করা সম্ভব অধিকাংশ ধর্ষণের মতো ঘটনা যা একটি নারী শিশুর জীবনযাত্রা প্রবাহ এবং মন ও মননের উপরে ভীষণভাবে আঘাত হানতে পারে, শিশুদের মানসিক বিকাশের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তার ফুলের মতো নিষ্পাপ এবং সম্ভাবনাময় জীবনকে অন্ধকারে নিক্ষেপ করতে পারে। তাই প্রতিটি অভিভাবকদের এক্ষেত্রে সচেতনতার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। নিন্মে কিছু বাস্তব ঘটনার উল্লেখ করে অভিভাবকদের করণীয় সম্পর্কে আলোকপাত করা হল:

ঘটনা-১

সাত আট বছরের মিম নারী পুরুষের শারীরিক সম্পর্কের বিষয়ে কিছুই তেমন জানে না। একবার তাদের বাড়িতে মেহমান হয়ে বেড়াতে আসে দুঃসম্পর্কের এক ভাই। মিমের মা রান্নাঘরে রান্না করছিলেন। মিম সন্ধ্যার সময় শুয়ে ছিল। সেই লম্পট ছেলেটি বয়স আনুমানিক পঁচিশ তার সঙ্গে খেলা করার নাম করে ধর্ষণ করে। তবে বিষয়টি মিম তখনও বুঝতে পারিনি।

#এক্ষেত্রে তার মায়ের কর্তব্য ছিল :

বাড়িতে আসা মেহমানকে বিশ্বাস না করা। তিনি হয়তোবা ভেবেছিলেন তার মেয়েটি ছোট্ট আর ছেলেটি বয়সে অনেক বড়। তবে লাম্পট্য এমন কিছু যা বয়সের ব্যবধানকে হার মানায়। নারীশিশুদের ব্যাপারেও তাই সাবধানতা অবলম্বন করা কর্তব্য।

ঘটনা -২

নিশাত ভালো ছাত্রী। তার বাবা মা উভয়েরই কর্মজীবী।পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তি পেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে উঠে সে। তার বাবা মা এক গৃহশিক্ষক রাখেন তাকে পড়াশোনা করানোর জন্য। কিন্তু শিক্ষকের সন্ধ্যায় সময় হয় না বিধায় তারা দুপুরের সময় তাকে পড়ানোর জন্য বলে।তবে সেই সময় নিশাতের বাবা মা দুজনেই বাইরে থাকেন কাজে। আর ঘরে কেউই থাকে না এক বৃদ্ধ দাদী ছাড়া। কিছুদিন যেতে না যেতেই লম্পট শিক্ষক তার সাথে কৌশলে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলে। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষককে তারা নিষেধ করে দেন।

# তবে এক্ষেত্রে তাদের আগেই সচেতন হওয়া কর্তব্য ছিল। যখন তারা কেউ বাসায় থাকে না তেমন সময় প্রাইভেট টিউটর বা অন্য ছেলের বাসায় আসতে দেওয়া মোটেই উচিত হয়নি।

ঘটনা -৩

সীমার সরলতায় মুগ্ধ হয়ে সিরাজ তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। তখন সীমা মাত্র অষ্টম শ্রেণীতে উঠেছে। সিরাজকে পছন্দ করলেও সীমা তার অভিভাবকদের কথা বলে। তাদের রাজি করতে সিরাজ তখন সীমার মায়ের পা জড়িয়ে কেঁদে ফেলে। আর বলে সীমা লেখাপড়া শেষ করলে তার অভিভাবকদের রাজি করিয়ে বিয়ে করবে। এরপর সীমার পরিবার ভালো ছাত্র হিসেবে সিরাজকে মেনে নেয়। এরপর থেকে যখন তখন সীমাদের বাসায় আসে সিরাজ। তাকে সময় দেয় । তাকে নিয়ে ঘুরতে যায় এদিক সেদিক। সুযোগ পেলে শারীরিক সম্পর্ক ও করতে থাকে। কিন্তু যখন পরিণত বয়সে পৌঁছাল তখন আর সীমাকে নয় অন্য কাউকে বিয়ের জন্য পাঁয়তারা করে সিরাজ তার অভিভাবকদের অযুহাত দেখিয়ে ।

# আসলে সীমার পরিবারের এতটাই সহজলভ্য করে দেওয়া ঠিক হয়নি সীমার মতো ভালো একটি মেয়েকে।অবশ্যই তাদের ইসলামের সীমারেখাকে স্মরণ রাখা উচিত ছিল।

এমনই ধর্ষণের হাজারো ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন শুধুমাত্র অভিভাবকদের অবহেলা বা অসচেতনতার কারণে। আপনার মেয়ে, বোন, স্ত্রী অথবা মা সব নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনাকে আপনার অবস্থান থেকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে যাতে আপনার অসচেতনতার কারণে তাদের জীবনে কোন রকম দুর্ঘটনা ঘটে না যায়।

আরও পড়ুন