জ্ঞান

বেশ কয়েকবছর আগে আমার এক বন্ধু সাহায্য চেয়ে ফেইসবুকে একটি পৌস্ট দিলো। আর্থিক সাহায্য নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক সাহায্য। অনেকটা পাজল সমাধানের মতো গাণিতিক সমস্যা যা কিনা জীবনের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। বিষয়বস্তুর তাত্ত্বিক দিকটা আমার জানা ছিলো। এরপরও আমি আরো বিভিন্ন সোর্স ব্যবহার করে, ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করে যথেষ্ট পরিশ্রম করে তার সমস্যার যথাসম্ভব নির্ভুল সমাধান বের করে দিলাম।

আমার বন্ধু যে কিনা গ্লাস ভর্তি বিষ হাতে ধরিয়ে দিলেও বিনাবাক্যে গিলে ফেলবে এরকম সম্পর্ক আমাদের সেই বন্ধু আমার করা সমাধান তৎক্ষণাৎ মেনে না নিয়ে সোর্স জানতে চাইলো। কীভাবে সমাধান বের করেছি সেই পদ্ধতি জানতে চাইলো, রেফারেন্স জানতে চাইলো।

আমার পাশে থাকা আরেক বন্ধু চটে গে‌লো। তার ভাষ্যমতে- তুমি এত পরিশ্রম করে, নিজের মেধা, শ্রম, রিসোর্স ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান করে দিলে অথচ সে কিনা তোমার কাছে সোর্স জানতে চায়? সে কি সাহায্য চায় নাকি পরীক্ষা নেয়?

আমি বন্ধুকে নিবৃত্ত করলাম। আমি বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছি। এ কোনো টাকাপয়সা নয় কিংবা বস্তু নয় যে চোখ বন্ধ করে গ্রহণ করে ফেলবে। এখানে জ্ঞানের কথা হচ্ছে, শিক্ষার কথা হচ্ছে। জ্ঞান যারতার কাছ থেকে চোখ বুজে আহরণ করা যায়না। জ্ঞান নেবার আগে দাতার যোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেয়া অত্যাবশ্যক। অস্পষ্ট, অসম্পূর্ণ জ্ঞান মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। ভুল ব্যক্তির কাছ থেকে ভুল শিক্ষা গ্রহণ একটি জাতির মহামারির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নিজের বিবেচনাবোধের উপর একটু কলার নাড়িয়ে এই বন্ধুকে বললাম, “দেখেছো? আমি বন্ধু চিনতে ভুল করিনি, অপাত্রে জ্ঞান দান করিনি। সঠিক মানুষকে জ্ঞান দিয়েছি; আমার জ্ঞানের স্বল্পতা থাকলেও অপপ্রয়োগ হবার সম্ভাবনা ক্ষীণ।”

মনসুর
সাউথ আফ্রিকা।

লেখকঃ সাহিত্যিক ও সহ-সম্পাদক, মহীয়সী।

আরও পড়ুন