ভূটান ও ইসরাইল সম্পর্কের হালচাল

এম আর রাসেল

ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যের অবৈধ সন্তান বলা হয়। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের ১৮১ নং প্রস্তাবের ভিত্তিতে দেশটি জন্মলাভ করে। এই রাষ্ট্রের জন্মের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার বীজ বপিত হয়। ফিলিস্তিনিদের জন্য যে কোনো বিবেকবান মানুষ মাত্রই অনুকম্পা অনুভব করেন।

এক সময় আরব রাষ্ট্রগুলো ফিলিস্তিনদের পাশে ছিল। আরব রাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে এযাবত ৪ টি যুদ্ধ হয়েছে। ১৯৭৩ সালে আরব দেশগুলো ইসরাইলকে ঘায়েল করতে তেল অস্ত্র ব্যবহার করেছিল। ২০০২ সালে আরব শান্তি পরিকল্পনায় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবি জানানো হয়েছিল।

কিন্তু বর্তমানে অবস্থা বদলে যাচ্ছে। আরব রাষ্ট্রের জোট আরব লীগ, ওআইসি এই ইস্যুতে আগের মতো সক্রিয় নেই। অন্যদিকে হামাস – ফাতাহ দ্বন্ধ ফিলিস্তিন আন্দোলনকে দুর্বল করে ফেলেছে। প্রথম ও ২য় ইন্তিফাদা যেভাবে গণজাগরণ সৃষ্টি করেছিল বর্তমানে নতুন ইন্তিফাদা শুরু হলে সেই রকম জাগরণ জাগবে কিনা সন্দেহ আছে।

একের পর এক আরব দেশ ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করছে। এই বছরের অন্যতম আলোচিত ইস্যু ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক স্থাপন। এই আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই ইসরাইল এর সাথে বাহরাইন ও সুদান সম্পর্ক স্থাপন করে। সম্প্রতি মরক্কো ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে।

অনেক বিশ্লেষক মরক্কোর সাথে ইসরাইলের চুক্তিতে উত্তর আফ্রিকায় সংঘাতের আশঙ্কা করছেন। কেননা বিরোধপূর্ণ অঞ্চল পশ্চিম সাহারাকে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে। এই অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে মরক্কোর সাথে আলজেরিয়ার বিরোধ চলছে।

পশ্চিম সাহারা এক সময় স্পেনের উপনিবেশ ছিল। এখানাকার স্থানীয় বাসিন্দারা সাহরাওয়ি নামে পরিচিত। তারা সাহরাওয়ারি আরব ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক নামে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে চায়। এই লক্ষ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠী পলিসারি ফ্রন্ট গত চার দশক ধরে সশস্ত্র সংগ্রাম করছে। এই ফ্রন্টকে সরাসরি সমর্থন দেয় আলজেরিয়া। এই ফ্রন্টের সদর দফতর রয়েছে আলজেরিয়ার টিনডফ শহরে।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির সমর্থন নিঃসন্দেহে মরক্কোর জন্য আশার। রাবাতকে ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র দিবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মরক্কো কতটুকু সুবিধা করতে পারবে তা এখনই বলা যাবে না । এ প্রসঙ্গে লন্ডনে রাজনৈতিক ঝুঁকি সম্পর্কিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান International Interest এর প্রধান এবং মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক সামি হামিদ বলেন,
“পশ্চিম সাহারা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন মরক্কোর জন্য একটি কূটনৈতিক বিজয়, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু এই বিজয়ের ফসল কিভাবে, কত সহজে তারা ঘরে তুলতে পারবে তা অনিশ্চিত।”

অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্রতম দেশ ভূটানের সাথেও ইসরাইল এর স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। ইসরাইলের সাথে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতের সম্পর্ক বেশ পুরনো। সম্প্রতি পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে চাপ বাড়ছে। বাংলাদেশ এখনও ফিলিস্তিনের পক্ষেই রয়েছে। কিছুদিন পূর্বেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে তার মতামত ব্যক্ত করেছেন।

ঐদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারের সাথেও ইসরাইল এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্কের ভিত অনেক মজবুত। বলা হয়ে থাকে মিয়ামনার রোহিঙ্গা সহ অন্য সংখ্যালঘুদের নির্যাতনে ইসরাইলী নীতি অনুসরণ করে থাকে।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে ইচ্ছুক অন্য আরও দেশের সঙ্গে তার দেশ যোগাযোগ করছে। এটা যে অব্যাহত থাকবে তা বেশ বুঝতে পারা যায়।

সামনের দিনগুলোতে বৈশ্বিক রাজনীতিতে ইসরাইল নামটি অন্য সময়ের চেয়ে বেশি উচ্চারিত হবে তা প্রতীয়মান হচ্ছে। তথাকথিত ইনন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইসরাইল কি সফল হবে? এর উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে।

লেখক :আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে বিশ্লেষক

১৩ ডিসেম্বর ২০২০

আরও পড়ুন