আত্মশুদ্ধি ও আত্মউন্নয়নে মনযোগ দেবার সময় কি আসেনি এখনো??

ডাঃ জোবায়ের আহমেদ

অন্যকে নিয়ে আমরা যতটা সোচ্চার, তার সিকিভাগ যদি নিজের আত্মশুদ্ধি ও আত্মউন্নয়নে মনযোগ দিতাম, তবে আমরা অনেক বেশি আধুনিক ও কার্যকর মানুষ হয়ে উঠতাম।

আপনি চুরি করেন,ঘুষ খান,অন্যকে ঠকান, কমিশন খান, মজুতদারী করেন,সুদ খান, অপরাজনীতি করেন,সন্ত্রাস করেন, মাস্তানি করেন,হেডম দেখান, লুটপাট নিজে করেন এবং লুটেরাদের সহযোগী হয়ে উঠেন, আপনি না করলেও আপনার বেস্ট পাপার অনেক অবৈধ ইনকামে কিনে দেওয়া দামী এন্ড্রয়েডে চটাংচটাং পোস্ট লিখেন কিন্ত আপনার সময় কই নিজের দিকে তাকানোর।

এই দেশের ব্যবসায়ীরা কতটা অমানবিক ও লোভী তা পেঁয়াজের কেজি ২৫০ টাকায় সাধারণ ও নিরীহ মানুষ বুঝেছে।
সরকারী চাকুরীজীবীদের মধ্যে ঘুষ খায়না এমন সংখ্যা অতি নগন্য।
একজন ড্রাইভার যেখানে শতকোটি টাকার মালিক হয়ে উঠেন অনায়েসে।

পুলিশের কথা বলা নিষেধ।
হুজুরদের গোসসা হলে হাড্ডি ও মাংস আলাদা করে দিবেন।
ঘুষ ছাড়া পুলিশী কাজ কতটা কঠিন, পুলিশের চাঁদাবাজি ও হয়রানি নিয়ে বলা উচিত কি??
সবাই জানেন সব।

সাংবাদিকরা বিবেক বন্ধক দিয়েছেন অনেক আগেই।

ডাক্তারদের অমানবিক আচরণ নিয়ে অনেক কথা হয়।
টেস্ট বানিজ্য ও ডিব্বা ব্যবসার কথা না বলি।
সবাই এমন নয় এটা যেমন ঠিক আবার অনেকেই এমন।

ইঞ্জিনিয়ার তাও যদি LGRD এবং সড়ক ও জনপদের হন, তবে তো কথাই নেই।

এসিল্যান্ড,ইউএনও, ডিসি, সচিব,অনেস্ট ও ন্যায়পরায়ন মানুষের সংখ্যা কত দেশে আসলে?

শিক্ষকরা অনেক আগেই হারিয়েছেন তাদের মর্যাদার আসন।

রাতে একজন সিএনজি চালক ও আপনার অসহায়ত্বের সুযোগে হয়ে উঠেন ডাকাত।

সমাজের নীঁচু থেকে উঁচু তলায় ধরেছে ভয়ংকর পচন।

যাদের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে, তারাই আমাদের কারো বাবা,কারো স্বামী,কারো ভাই,কারো সন্তান, আমাদেরই আপনজন।

যারা বড় বড় কথা বলেন, বাবাদিবসে নিজের বাবাকে বেস্ট পাপা ভাবেন,তারা কখনো নিজ বাবাকে ঘুষখোর বলেছেন?

নিজের বাবার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিদ্রোহ করেছেন।
নিজ স্বামীকে বলেছেন,মানুষ ঠকানোর খেলা বন্ধ কর‍্যে,ঘুষ না খেতে,অবৈধ টাকার এই সংসার করতে আপত্তি জানিয়েছেন?

নাকি অনেক নারীরা নিজ স্বামীর দূর্নীতিপরায়ন না হবার দরুণ উনাকে কটু কথা শুনাতে দেখা যায়।
জামাই ঘুষ খায়না তাই তিনি জামাইকে ভোদাই ভাবেন এমন নারী কি কম??

আড়ং এর দামী শাড়ি,দামী মোবাইল, দামী জুতা কিনার আগে কখনো জিজ্ঞেস করেছেন সাহেব কোথায় এত টাকা পেলো?

যারা দেশটাকে আজ নরকে রুপান্তর করলো তারা কারা?
তাদের পরিবার ও সন্তানরা কি বিবেকের তাড়নায় কখনো তাদের পথ আগলে দাঁড়িয়েছেন?
পরিবার যদি বলতো তুমি অন্যায় করলে আমরা তোমাকে ত্যাগ করবো,তবে কিছু মানুষ কি হুঁশে ফিরতেন না??

একটা দেশ এভাবে মানবিক হয়ে উঠেনা।
সোনার বাংলাদেশ চোর,ঘুষখোর, বাটপার,ঠকবাজ,কমিশনখোর, দিয়ে হবেনা।
সোনার মানুষ না হলে সোনার বাংলাদেশ এর স্বপ্ন দিবা স্বপ্ন ই থাকবে।

নাগরিকদের নাগরিক দায়িত্ব থাকে।
দেশ থেকে পাওয়ার প্রত্যাশা যেমন থাকবে,দেশকে দেবার প্রচেষ্টা ও থাকতে হবে।।

কে কয়টা বিয়ে করলো,কাকে চুমু দিলো,কাকে নিয়ে রাত কাটালো,কার সাথে প্রেমে জড়ালো এগুলোর সাথে দেশের উন্নয়ন জড়িত নয়।
এগুলো যার যার চয়েজ।
এগুলোতে আমি বা আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হইনা।
প্রত্যেকের জীবনের গল্প আলাদা।

একজন মানুষ জীবনে থিতু হতে পারেননি।
তার সংসার টিকেনি।
নতুন স্বপ্নে নতুন সংসার শুরু করেছেন।
এটা আপনার কটাক্ষের ও হাস্যরসের বিষয় হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।

দেশের সাধারণ মানুষ সেসব কাজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়,ঠকে যায়, নীরবে হাহাকার করে,সেসব কাজ থেকে বিরত থাকতে কাজ করুন নিজ ঘর থেকে।

লেখকঃ সাহিত্যিক, কলামিস্ট ও ডাক্তার
ডাঃ জোবায়ের আহমেদ।

আরও পড়ুন