এ দায় কার……… ?

মো ইব্রাহীম খলিল

আমি যদি একজন আস্ত উন্মাদও হই,তাহলে আমার মুখ দিয়ে কখনোই বের হবে না যে,চলমান এই সংকটে অবলা নারী(মা এর জাত)গুলো তথা ধর্ষনের জন্য ধর্ষিত মেয়ে গুলো দায়ী, কিবা যত্রতত্র এই যে ধর্ষণ হচ্ছে,তার জন্য বেপর্দা পোশাকধারী মেয়ে গুলোই দায়ী। আমরা এমনই এক স্বাধীন দেশে বাস করে পোড়া কপাইল্যা বলে আজ নিজেদের ধিক্কার দেই,যে দেশে শিশু থেকে শুরু করে নানান বয়সী মেয়ে গুলো হরহামেশা ধর্ষিত হচ্ছে। পুরুষের অবস্থান থেকে আজ নিজেকেও পুরুষ ভাবতে লজ্জা লাগে,যখন দেখি বাপ, চাচা, মামা,ইমাম, শিক্ষকের কাছ থেকে আগামীর মা জাতি গুলো ধর্ষিত হচ্ছে। এক শ্রেণীর লোক নন্দলালের মতো ঘরের কোনায় বসে ফতোয়া জারি করেন,ধর্ষণ তো হবেই, কারন একটি স্বাধীন ইসলামী রাষ্ট্রে পর্দার বিধান তো নাই।কিন্তু ঐ ফতোয়াবাজরা এটা জানেনা যে,বাচ্চা মেয়ের তো পর্দা ফরজ হয়নি,তবে তারা কেনো এই ঘৃন্য ছোবলের শিকার হচ্ছে?
আমার মতে,দেশের বিচার ব্যবস্থা খুবই দূর্বল কিংবা একচেটিয়া।এখানে রাষ্ট্রের দায় কিবা পুরুষরুপি নর পশুদের হীনমন্যতা নিয়ে আমাদের সরকারের নতুন করে কিছু ভাবতে হবে।
ইদানিং ফেসবুকে ধর্ষণ নিয়ে এতো মাখামাখি হচ্ছে,তা দেখে অন্য কোনো টপিকে কিছু লিখতেই মন সায় দিচ্ছে না। ধর্ষক সারিতে না পড়লেও আমিও তো পুরুষের অবস্থানে একজন দর্শক।তাই মৌনতায় নিজের ক্ষমতা প্রকাশ করতে না পারলেও কলমের কালিতে সমসাময়িক কিঞ্চিত প্রতিবাদ তো করতে পারবো!

নারী শ্রেনীর কাছে আজ আমরা সুস্থ মস্তিষ্কের সাধারণ মানুষ গুলোও সন্দেহভাজন কিংবা বিতর্কিত। গফ তার বফ কে সহজেই এখন নিতান্তই বন্ধু ভাবতে চায় না।না জানি সেই বন্ধুত্বের অন্তরালে কোনো পশুত্ব মনে ভর করে আছে।
নোংরামী,অসভ্যতা আজ শুধু বখাটেরাই করে না।এদের সাথে যুক্ত হয়েছে নামধারী কিছু ভদ্র সমাজের জ্ঞানদাতারা। এই যে মাদ্রাসার হুজুররা ছেলেদেরকে ধর্ষণ কিবা বলৎকার করে,এগুলোও কিন্তু প্রশাসন কিংবা সোসাল মিডিয়ার চোখ এড়ায় না। আমরা অনেকেই জানি, ইতিমধ্যে কওমি মাদ্রাসায় সমকামিতা মহামারী আকার ধারণ করেছে। তার সাক্ষ্য উক্ত মাদ্রাসার ছোট বাচ্চা গুলোই দিয়েছে। তার মানে কি দাড়ালো?
দু এক জন বিকৃতমনা সমকামী হুজুরদের থেকে রক্ষা পেতে শিশু ছেলে গুলো মাদ্রাসায় বোরখা পরে যেতে হবে?
আমার মতে,যারা ধর্ষনের ঘটনা শোনার পর,কিংবা নিউজ দেখার পর ধর্ষিতা মেয়েকে বিভিন্ন ইস্যুতে দায়ী করতে পারে।তারা আসলেই মনের দিক দিয়ে ধর্ষনের ক্ষমতা রাখেন।
আমরা জানি, পর্দা ধর্ষণ থেকে বাঁচতে অনেক গুলো উপায়ের মধ্যে অন্যতম একটা পন্থা।
আমার মতে,ধর্ষণ থেকে বাঁচার উপায় হিসাবে যদি আপনি অনেক লম্বা একটা তালিকা তৈরি করেন,সেখানে শুধু একটা যৌক্তিক কারণ থাকতে হবে নারীরা পর্দা মেনে চলাফেরা করা। তাই,আমার মতে পর্দাকে কখনোই ছোট করে দেখা যাবে না। আমরা জানি, শুধু মাত্র বেপর্দার কারনে নয়,বরং নানান বিচ্ছিন্ন কারনে হরহামেশা ধর্ষণ হয়ে থাকে।আর ধর্ষনের কোনো সুনির্দিষ্ট কারনও নেই। তবে এই ধর্ষণ হ্রাস পেতো,যদি আমাদের দেশে সুনিশ্চিত বিচার ব্যবস্থা অটুট থাকতো। সব দায় গুলো যদি তালিকা করি,তাহলে ব্যার্থতাগুলো অনেক লম্বা হবে।তাই একটা কারণ দেখিয়ে ধর্মকে আঘাত করে এবং নারীর উপর দোষ চাপিয়ে দেওয়া আদৌ ঠিক হবেনা বলে মনে করি। আমাদের সভ্যতা ও শিষ্টাচার দেখাতে গেলে অবশ্যই নারীর মূল্যায়ন দিতে গেলে ভিউটা অন্যদিকে দিতে হবে।
অনেক হয়েছে,এবার থামুন,এবং থামতে দিন। তা না হলে এই পুরুষ জাতি গুলো উট পাখির মত মাথা নীচু করে থাকতে হবে প্রতিটি নারীর কাছে।

লেখকঃ সাহিত্যিক ও কলামিস্ট

আরও পড়ুন