বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো!

আব্দুল্লাহ আরমান

আমি তাদের সাথে একমত যারা বলে শিশু, শতবর্ষী বৃদ্ধা কিংবা হিজাব পরিহিতা মাদরাসা ছাত্রীও তো ধর্ষিতা হচ্ছে….সুতরাং ধর্ষণের জন্য পোশাক দায়ী নয়,দায়ী “পুরুষের নিকৃষ্ট মানসিকতা”!
আসলেই যদি মানসিকতা দায়ী হয় তবে প্রশ্ন থেকেই যায়,কোনো ছেলে তো ধর্ষক হয়ে জন্মায় না কিংবা ধর্ষণ তো কোনো জেনেটিক রোগ নয় যা সে বংশীয় সূত্রে পূর্ব পুরুষদের থেকে পেয়েছে! তাহলে নিষ্পাপ ছেলে শিশুটি ধীরে ধীরে ধর্ষকে পরিণত হওয়ার কারণ কি?

ধর্ষণের ঘটনা ঘটানো একটা দীর্ঘ মানসিক প্রক্রিয়ার ফলাফল। অসংখ্য অনুঘটক রয়েছে এর পিছনে। এই অনুঘটক গুলোই স্লো পয়জনিংয়ের মতো ধীরে ধীরে তার মস্তিষ্ক পরিবর্তন করতে থাকে, ধর্ষণের ঘটনা তার চূড়ান্ত পর্যায় মাত্র।

যৌন আকর্ষণ একটি স্বাভাবিক সৃষ্টিগত বিষয়। এর উপর ভিত্তি করেই পৃথিবীতে মানব জাতির অস্তিত্ব টিকে আছে। যৌন চর্চার সুস্থ ও সামাজিক প্রক্রিয়া মানুষের শরীর, মন-মস্তিস্ককে আরও সুস্থ এবং পবিত্র করে তোলে। এজন্যই দাম্পত্য জীবনের জৈবিক কার্যে স্বামী-স্ত্রী লজ্জার সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করলেও তা ব্যক্তিজীবনে বিস্ময়করভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে! ফলশ্রুতিতে তারা ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে হয় আরও শালীন ও সভ্য। অথচ একই কাজ অসামাজিকভাবে চর্চা করলে সে কামুক পশুর ন্যায় আরও হিংস্র হয়ে ওঠে!
শুধুমাত্র যৌন চর্চার প্রক্রিয়া ভিন্ন হওয়ায় ফলাফল সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী!!

অবাধ যৌন স্বাধীনতা,ফ্রী মিক্সিং, পর্ণগ্রাফি, অশ্লীল নাটক বা সিনেমা,বই ও পত্রিকায় যৌন উদ্দীপক ছবি-গল্প ও কবিতা,মেয়েদের অশালীন পোশাক, সহশিক্ষা,যৌন শিক্ষার নামে অপরিকল্পিত পাঠদান, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসন এবং আইন ও তার প্রয়োগের দুর্বলতা ইত্যাদি হলো সেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুঘটক যা মানুষের ব্যক্তিত্বে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে তাকে ধর্ষকে পরিণত করে!

এবার আসি ধর্মের কথায়। “পর্দা ধর্ষণের অন্তরায়” বললেই কিছু লোক মৌলবাদী বলে নাক সিটকায়! তাদের কাছে পর্দা মানেই “আপাদমস্তক বোরকা আবৃত নারী ”।
আসলে পর্দার কনসেপ্ট আরও ব্যাপক। পুরুষ-নারী উভয়ের দৃষ্টি ও আচরণের নিয়ন্ত্রণ, বৈধ যৌন চর্চা, মাহরাম-নন মাহরাম মেনে চলা, অশ্লীলতা এড়িয়ে চলা,সুস্থ সামাজিক আচরণ ও নৈতিকতা চর্চা ইত্যাদির সামগ্রিক অর্থ ‘পর্দা’। সেক্ষেত্রে নারী -পুরুষ সবারই পর্দা চর্চা করা ফরজ, এটা কেবল নারীর বোরকার মাঝে সীমাবদ্ধ নয়!

সুতরাং ধর্ষণের তোষনকারী অশ্লীল পাশ্চাত্য/বিজাতীয় সংস্কৃতির চর্চা করে বোরকা বা লোহার বর্ম দিয়েও বিকৃত মানসিকতার পুরুষ থেকে নারীকে রক্ষা সম্ভব নয়! এজন্য শিশুকাল থেকেই অশ্লীলতা মুক্ত সুন্দর মানসিক বিকাশের পরিবেশ, ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে। পাশাপাশি কঠোর আইন ও তার নিরপেক্ষ বাস্তবায়নে সরকারের তৎপরতা অপরিহার্য।

ধর্ষণের বিরুদ্ধে আমাদের সামাজিক ঐক্য এখন সময়ের দাবী। কিন্তু ধর্ষণের অনুঘটকের পথ বন্ধ না করে শুধু মিছিল-মিটিং-মানববন্ধন করে প্রতিবাদকে আমার কাছে মনে হয় “বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো”(ছোটখাট ব্যাপারে বাড়াবাড়ি কিন্তু বড় বিষয়ে উদাসীন)।

আরও পড়ুন