Ads

বিসিএসের প্রশ্নফাঁসের খবরে চাপা পড়বে কি কোটা বিরোধী আন্দোলন?

।। আসাদুল্লাহ ।।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অবস্থা ছাত্র সমাজে বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীন দেশে বাক স্বাধীনতা হারিয়েছে সেই কবেই। পৃথিবীতে কেবল বাংলাদেশেই সম্ভবত একটা সমস্যার সমাধান হয় নতুন সমস্যার সৃষ্টির মধ্য দিয়ে। পূর্ববর্তী সমস্যা মানুষ ভুলে যায় নতুন সমস্যার আগমনে।  যেমনটা চোখের আড়াল হলেই বুঝি মনের আড়াল হয়ে যায়।

চলমান কোটা বিরোধী আন্দোলন, শিক্ষকদের বৈষম্যমূলক পেনশন স্কিমের সাথে এখন যুক্ত হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ পরীক্ষা বিসিএসের কর্তৃপক্ষ পিএসসি কর্মকর্তাদের প্রশ্নফাঁসের বিষয়।চ্যানেল-২৪ এর কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল ইমরানের ৬ বছরের জরিপে মিলেছে ৩৩ তম বিসিএস থেকে ৪৬ তম বিসিএস পর্যন্ত প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি শীগ্রই প্রমাণাদি নিয়ে হাজির হবেন চ্যানেল-২৪।

দিনব্যাপী কোটা বিরোধী আন্দোলন করে যখন শিক্ষার্থীরা আশা ভরসার স্থল পিএসসির এ ধরণের কারনামা দেখতে পায় তখন প্রশ্ন জাগে সত্যিই এ দেশ বসবাসযোগ্য কিনা? কলেজ লাইফ থেকে মনের গহীনের পুষে রাখা বিসিএসের স্বপ্ন যখন কোটা বৈষম্যের শিকার হয় তখন আর সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে ঘরে কিংবা পড়ার টেবিলে বসে থাকা যায় না। সাথে যদি যুক্ত হয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পিএসসির অস্বচ্ছতা, তাহলে দিন শেষে প্রাপ্তির খাতায় শূন্য আর জীবননামায় বেকারত্বকে আপন করে কৃষকের ছেলে কৃষক আর মজুরের ছেলেকে মজুর হিসেবে শেষ কর্মস্থল বেছে নিতে হবে।

গতকাল রাজধানী ঢাকাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ রাজধানীর অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাংলা ব্লকেড স্থাপন করে, দুপুর ৩ টা থেকে সন্ধা ৭ টা পর্যন্ত অবস্থান করে। এরই মাঝে মধ্যস্থতার জন্য কোটা বিরোধী আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক সারজিস আলম, নাহিদ, হাসনাত আবদুল্লাহকে মধ্যস্থতার জন্য শাহবাগে পুলিশি হেফাজতে ডাকা হলে তাদের ফেরা অব্দি সাধারণ শিক্ষার্থীরা জমা হতে থাকে। “বাংলা ব্লকেড” কর্মসূচি নেয়া হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ আন্দলনকে অযৌক্তিক মনে করে বক্তব্য প্রদান করায়। এদিকে যোগাযোগমন্ত্রী বক্তব্যে বলেন এখনও সময় আসেনি সমস্যা সমাধানের৷ এর মাঝে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন-

কোটা প্রথা যেভাবে জাতিকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে  

কিন্তু এত কিছু সমস্যার আগে আমাদের আরও কিছু সমস্যা ছিলো যেগুলোর কোনো সুরাহা হয়নি৷

১. শুরুতে সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদের কারনামা প্রকাশ পায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সমালোচনা হলেও কোনো রকমের ফলাফল সাধারণ জনগণ দেখতে পায়নি।

২. রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমানের ব্যাপারেও আইনি কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

৩. বাংলাদেশে ভারতের রেলওয়েকে ট্রানজিট প্রদান মানুষকে ক্ষুব্ধ করলেও ফলাফল একই৷ সাতপাঁচ বুঝিয়ে ঘটনা নতুন বিষয়ে মোড় নেয়। প্রশ্ন জাগে পদ্মা সেতু সত্যিকার অর্থেই বাংলার মানুষের জন্য করা হয়েছিলো কিনা।

৪. দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।  কিন্তু তদন্তের কোনো ফলাফল নেই। কোনো চক্রের জড়িতের বিষয়ে দায়িত্বশীলদের ভ্রুক্ষেপ নেই।

৫. কোটা বিরোধী আন্দোলন জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে শুরু হলেও সরকার প্রধান সপ্তাহ শেষে বক্তব্য দিয়েছেন এই আন্দোলনকে অযৌক্তিক বলে। অথচ বৈষম্যের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার পর আবার সেই মুক্তিযুদ্ধাদের জন্যই বৈষম্যের দেয়াল তৈরি করা হচ্ছে।

৫. শিক্ষকদের পেনশন স্কিমের বিষয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা সকলে কর্ম-বিরতি জারি করেছেন৷ শিক্ষার্থীদের ক্লাস,পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থী ও জাতি উভয়কেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে কিন্তু দায়িত্বশীলরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন।

৬. সর্বশেষ এই ছাত্র আন্দোলনের মাঝেই আবার প্রশ্নফাঁসের বিষয়টা বেরিয়ে এসেছে। এটা আলোচনায় আসার জন্য পরিকল্পিত ভাবেই করা হয়েছে নাকি আন্দোলনকে স্তিমিত করার জন্য? এখন পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে উত্তর নেই। বিষয়টি আরও কিছুদিন পর আসতে পারতো, দেশে আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি আছে যেগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারে।

আরও পড়ুন-

চাকুরীতে মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব

কিন্তু এই সময়ে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি ২ টি বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারে-

১. হয় শিক্ষার্থীরা মনোবল হারিয়ে মাঠ ছেড়ে দিবে

২. না হয় আন্দোলন আরও বেগবান হবে।

এক্ষেত্রে পিএসসির কর্মকতাদের হয়তো ডিমোশন হবে । কিন্তু বিষয়টির স্থায়ী সুরাহা না হলে একই কাজ বারবার ঘটবে। যদি উদ্দেশ্য প্রণোদীতভাবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় তাহলে অবশ্যই তা ছাত্র আন্দোলনে প্রভাব ফেলবে।

সমস্যা তো একের পর এক লেগেই আছে। কিন্তু সমাধান হচ্ছে না কোনোটিরই। যদি এই ছাত্র আন্দোলন ব্যর্থ হয় তাহলে জাতির ভবিষ্যতে অবস্থান ১৯৪৭-১৯৭১ এর মধ্যবর্তী সময়ের চেয়েও খারাপ হবে। বৈষম্যের দেয়াল এতটাই উঁচু হবে যে শেষ সীমারও দৃষ্টি সীমার বাহিরে চলে যাবে ।

লেখকঃ শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

…………………………………………………………………………………………………………………………

মহীয়সীর প্রিয় পাঠক ! সামাজিক পারিবারিক নানা বিষয়ে লেখা আর্টিকেল ,আত্মউন্নয়নমূলক অসাধারণ লেখা, গল্প  ও কবিতা  পড়তে মহীয়সীর ফেসবুক পেজ মহীয়সী / Mohioshi  তে লাইক দিয়ে মহীয়সীর সাথে সংযুক্ত থাকুন। আর হা মহীয়সীর সম্মানিত প্রিয় লেখক! আপনি আপনার পছন্দের লেখা পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইলে-  [email protected]  ও  [email protected] ; মনে রাখবেন,”জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও উত্তম ।” মহীয়সীর লেখক ও পাঠকদের মেলবন্ধনের জন্য রয়েছে  আমাদের ফেসবুক গ্রুপ মহীয়সী লেখক ও পাঠক ফোরাম ; আজই আপনিও যুক্ত হয়ে যান এই গ্রুপে ।  আসুন  ইসলামী মূূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রজন্ম গঠনের মাধ্যমে সুস্থ,সুন্দর পরিবার ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখি । আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা সৎ কাজে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে চলো ।” (সূরা বাকারা-১৪৮) । আসুন আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখতে সচেষ্ট হই । আল্লাহ আমাদের সমস্ত নেক আমল কবুল করুন, আমিন ।

আরও পড়ুন