বিয়ে বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক সভ্যতা বিলীনের মারাত্মক পদক্ষেপ

ড. সাজেদা হোমায়রা

বিয়ে মানে সংসার, আর সংসার মানেই দায়িত্বপালন। এই দায়িত্বপালনের ঝামেলায় কেই বা যেতে চাইবে, যদি সমাজে নানান রঙে নানান ঢংগে যৌন চাহিদা মেটানোর ব্যবস্হা থাকে!

এই তো কয়েক বছর আগেও আমরা যে জিনিসটাকে ব্যক্তির জন্য অনৈতিক, সমাজের জন্যে ক্ষতিকর ভাবতাম সেটা এখন দুইজন এডাল্ট মানুষের সম্মতি থাকলে কোনো সমস্যা নাই। এই অনৈতিক কাজটাও এখন হয়ে গেছে নৈতিক। ভার্চুয়াল সেক্স, প্রি ম্যারিটাল সেক্স, এক্সট্রা ম্যারিটাল সেক্স অথবা সুগার ড্যাডি কালচার এগুলো এখন আমাদের গা সওয়া হয়ে গেছে।

নারীর শরীর খুব সস্তা একটা জিনিস। তাই সেটাকে নিয়ে যা ইচ্ছা তা করা যায় এবং করে পারও পাওয়া যায়। কারণ আমরাই এটিকে সহজ করেছি। চার অক্ষরের ছোট্ট একটি শব্দ ‘সম্মতি’- এই সম্মতি থাকলে কোনো সমস্যা নাই। সম্মতি নিয়ে দেহ ভোগ করা যাবে। দেহ বিলিয়ে দেয়া যাবে।

দু’জনের সম্মতিতেও যদি সেক্স হয় তবুও কি তা সমর্থনযোগ্য? নিশ্চয়ই সমাজের কোনো সচেতন মানুষ কখনোই একে সমর্থন করবেন না। সমাজকে তিলে তিলে নষ্ট করে দেয় এ ধরনের অবাধ যৌনাচার!

ইসলামে বিয়ে হচ্ছে ফিজিক্যাল রিলেশন স্হাপন করার হালাল উপায়। ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে শারীরিক ও মানসিক পবিত্রতা রক্ষা করা। তাই ফিজিক্যাল রিলেশনের ধারণায়ও এখানে এই পবিত্রতার বিষয়টিই সেন্টার হিসেবে বিবেচিত।

পৃথিবীর সব ধর্মেই বিয়ে ছাড়া ফিজিক্যাল রিলেশন নিষিদ্ধ। এমনকি এ কাজ যে করবে তার জন্য নির্ধারিত রয়েছে কঠিন শাস্তি। এই বিধানের পেছনের কারণটি হলো সামাজিক, ধর্মীয় ও মানসিক অবক্ষয় থেকে মানুষকে দূরে রাখা।

আমাদের সমাজে এমন অনেক পুরুষ রয়েছে যারা শুধুমাত্র নারীদেহ ভোগ করার উদ্দেশ্যেই বিয়ে ছাড়াই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং কাজ হাসিল হয়ে গেলে আর সেই সম্পর্কের দায়ভার নিতে চান না। শুধু পুরুষরাই নয়, অনেক মেয়েরাও এ ধরনের কাজের সাথে জড়িত। আশংকার ব্যাপার হচ্ছে আজকাল অনেক উঠতি বয়সী মেয়েই এই ধরণের বিয়ে ছাড়া শারীরিক সম্পর্ককে আধুনিকতা মনে করে থাকে। না বুঝে, না জেনেই তারা যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে।

শিশুকাল থেকেই নৈতিক শিক্ষার অভাব এবং কাঁচা আবেগকে সংযত করতে না জানা অথবা বিপদ সংকেত না বুঝতে পারার কারণে নিরুপায় হয়ে অনেক মেয়েকেই নিজের জীবন নিঃশেষ করে দিতে হচ্ছে।

খুব প্রয়োজন আজ এ ধরনের অশ্লীলতা বর্জন এবং এর প্রতিরোধে শক্তিশালী সামাজিক ও ধর্মীয় সচেতনতা! তা না হলে ভুগতে হবে আমাদেরকেই!

লেখকঃ সাহিত্যিক, কলাম লেখক ও সেরা মানুষ ছিলেন যাঁরা বইয়ের লেখক

আরও পড়ুন