Ads

ষাণ্মাসিক মূল্যায়ন উৎসবের প্রশ্ন কেন ফাঁস হচ্ছে?

।। হাবিবা মোবাশ্বেরা ।।

গত বছর সপ্তম শ্রেণীর মূল্যায়ন পরীক্ষার তিক্ত অভিজ্ঞতার পর এ বছর যখন জানতে পারলাম ৬৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে তখন আমরা মা ,মেয়ে দুজনেই আশান্বিত হয়েছিলাম ।পরীক্ষার জন্য প্রিপারেশনও নেওয়া শুরু করেছিলাম পাঠ্যবই থেকে। কিন্তু ঈদের ছুটির পর স্কুল খুললে পরীক্ষার রুটিন, বিভিন্ন নির্দেশনা মাউসির পক্ষ থেকে দেয়া হলেও লিখিত পরীক্ষার কোনো মান বন্টন দেয়া হয়নি। পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীরা সম্পূর্ণ অন্ধকারের মধ্যে ছিল। পরের দিন পরীক্ষায় কি আসবে সে সম্পর্কে কারোরই ধারণা ছিল না।

এরপর রাত দশটার দিকে বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে প্রশ্ন প্রকাশ হওয়া। শুরু হয়। সেটাই আসল প্রশ্ন কিনা তা নিশ্চিত না হলেও প্রশ্নের ধরন এবং মানবন্টন জানার জন্য অনেকেই সেই প্রশ্ন দেখা শুরু করে। সত্যি কথা বলতে, প্রশ্ন দেখার পর আমার মতো সচেতন অভিভাবক, যে নিজে মেয়েকে পড়াই এবং পাঠ্যবই সম্পর্কে যার পূর্ণ ধারণা রয়েছে সেও আশাহত হয়ে যাই। কারণ প্রশ্নে আবার সেই একক কাজ, দলগত কাজ ——এসব।

আরও পড়ুন –

জাতি গঠনে শিক্ষকদের মূল্যায়ন যেভাবে অধিক গুরুত্বপূর্ণ

বছরের ছয় মাস যাবত শিক্ষার্থীরা এসব একক কাজ, দলগত কাজ, অ্যাসাইনমেন্ট, ছক পূরণ—— করেই সময় কাটিয়েছে ।এসবের জন্য ৩৫ নম্বর নির্ধারণ করে দেয়া আছে। তারপরও মূল্যায়ন পরীক্ষার ৬৫ নম্বরও যদি এসব করেই পেতে হয় তাহলে আর শিক্ষার্থীদের পাঠ্য বইয়ের সাথে সংশ্লিষ্টতা রইল কই? পরীক্ষার্থীরা তো আশায় ছিল তারা বই পড়বে, সেখান থেকে পরীক্ষা দিবে।

এবারে আসি প্রশ্ন কেন ফাঁস হচ্ছে সেই ব্যাপারে। যেহেতু শিক্ষক, শিক্ষার্থী কেউই প্রশ্নের মানবন্টন জানতো না এবং প্রশ্নে যে সব একক কাজ, দলগত কাজ করতে বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ না জেনে পরীক্ষার হলে বসে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর তৈরি করা সম্ভব নয়, তাই বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা উত্তর দেখে দেখে লিখেছে এবং শিক্ষকেরাও এতে বাঁধা দেয়নি। কারণ ’নৈপুণ্য আপে’ তো তাদেরকে শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্সের ইনপুট দিতে হবে!! এখানে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী —সবাই পরিস্থিতির শিকার এবং এর সম্পূর্ণ দায়ভার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের।

পরীক্ষার একটা সিলেবাস থাকবে, মানবন্টন থাকবে, প্রশ্নপত্র থাকবে, উত্তরপত্র থাকবে, পরীক্ষার্থীরা পাঠ্যবই পড়ে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষা দিয়ে যার যার যোগ্যতার প্রকাশ ঘটাবে—— এই পরীক্ষা পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন –

তারপরও যে কারণে মেয়েকে বাংলা মিডিয়ামে পড়াচ্ছি ।। ১ম পর্ব

হয়তো আমার কথাগুলো ব্যাকডেটেড মনে হবে, কিন্তু পুরানো সবকিছুই বাতিল করে দেওয়াটা আধুনিকতা নয়। গাছের যেমন শিকড় যতো মজবুত হয়, পুরানো হয়, গাছ ততো দৃঢ় হয় আর সেই মজবুত শিকড়ের উপর দাঁড়িয়ে নতুন কচি ডালপালা, ফুল, পাতা জন্মায় তেমনি প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সময়টা একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞানের বেসিক মজবুত করার সময়। এসময় তাদের বেসিক জ্ঞার মজবুত হলে তবেই তারা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যে কোনো পদ্ধতি আয়ত্ত্ব করতে পারবে। আর বেসিক তৈরির জন্য বেসিক কিছু বিষয় মুখস্থ করার এবং পরীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে তা ঝালাই করার কোনো বিকল্প নেই।

মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরীক্ষার বদলে উৎসব চালু করার নামে শিক্ষার্থীদের ব্যাসিক নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এখনো বহু শিক্ষক রয়েছেন যারা শিক্ষার্থীদের বই পড়াতে চান, এমন অভিভাবক রয়েছেন যারা চান তাদের সন্তান বই না পড়ে ইউটিউবে প্রশ্ন -উত্তর দেখে পরীক্ষা দিক, এমনকি অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাও চায় এমনভাবে পরীক্ষা দিতে যেন তাদের মেধার মূল্যায়ন হয়। আর এদেরকে সবাইকে হতাশায় নিমজ্জিত করে প্রশ্ন ফাঁসের মতো অনৈতিক কাজে বাধ্য করার সমস্ত দায়ভার এই অবাস্তব উচাভিলাসী মূল্যায়ন পদ্ধতি যারা প্রণয়ন করেছেন তাদের—একজন সচেতন অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষক হিসেবে এই কথা আমি বরাবর বলেই যাবো।

লেখকঃ প্রাবন্ধিক ও উদ্যোক্তা 

…………………………………………………………………………………………………………………………

মহীয়সীর প্রিয় পাঠক ! সামাজিক পারিবারিক নানা বিষয়ে লেখা আর্টিকেল ,আত্মউন্নয়নমূলক অসাধারণ লেখা, গল্প  ও কবিতা  পড়তে মহীয়সীর ফেসবুক পেজ মহীয়সী / Mohioshi  তে লাইক দিয়ে মহীয়সীর সাথে সংযুক্ত থাকুন। আর হা মহীয়সীর সম্মানিত প্রিয় লেখক! আপনি আপনার পছন্দের লেখা পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইলে-  [email protected]  ও  [email protected] ; মনে রাখবেন,”জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও উত্তম ।” মহীয়সীর লেখক ও পাঠকদের মেলবন্ধনের জন্য রয়েছে  আমাদের ফেসবুক গ্রুপ মহীয়সী লেখক ও পাঠক ফোরাম ; আজই আপনিও যুক্ত হয়ে যান এই গ্রুপে ।  আসুন  ইসলামী মূূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রজন্ম গঠনের মাধ্যমে সুস্থ,সুন্দর পরিবার ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখি । আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা সৎ কাজে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে চলো ।” (সূরা বাকারা-১৪৮) । আসুন আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখতে সচেষ্ট হই । আল্লাহ আমাদের সমস্ত নেক আমল কবুল করুন, আমিন ।

আরও পড়ুন