সম্পর্ক

মোঃরুহুল আমিন

আমরা মানুষ, সামাজিক ভাবে বিভিন্ন বন্ধনের মধ্যে  আমাদের বসবাস। সম্পর্ক গুলো ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে হয়ে থাকে।
প্রয়োজনে অথবা ভালোবাসা থেকে সম্পর্কের সৃষ্টি।
আস্তে আস্তে সম্পর্ক গুলো এগিয়ে যেতে থাকে, থাকে ভালোবাসা,শ্রদ্ধাবোধে।

কিছটাু পথ এগিয়ে যাওয়ার পর যখন চাওয়া পাওয়ার হিসাব মূখ্য হয়ে দাঁড়ায়, তখন ভালোবাসা শ্রদ্ধাবোধ পালিয়ে বেড়ায়।

যেকোন সম্পর্কে যখন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বিকিয়ে দিয়ে স্বার্থ প্রাধান্য পায়,তখন ভালোবাসা শ্রদ্ধাবোধ চিন্তা করা যেনো আকাশ কুসুম।

সম্পর্ক এগিয়ে যায় দুই পক্ষের মানসিকতার উপর। সম্পর্কটা কোথায় নিয়ে যেতে চায়। তার ওপর অনেকটা নির্ভর করে।

ধরুন, আপনাকে কেউ একজন সম্মান করে,ভালোবাসে আপনার জন্যে অনেক কিছুই করে,
কিন্তু তার বিনিময়ে আপনি দায় সারা ভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন, সে হয়তো কিছুদিন চেষ্টা করবে।

যখন সে দেখবে আপনি তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন,
তখন তার মনে উপলব্ধি আসবে,আমি তাকে ভালোবাসা,শ্রদ্ধার আসনে রেখেছি,কিন্তু সে অহংকার বা ব্যক্তিগত স্বার্থে অপমান তাচ্ছিল্য করে যাচ্ছে। তখন
ঠিক ঐ লোকটির কাছ থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে।
এই দূরত্বের জন্যে কিন্তু প্রথম ব্যক্তি দায়ী নয়। দায়ী
দায়ী দ্বিতীয় জন।তার অহমিকা কিংবা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারনে সম্পর্কের পরিসমাপ্তি ঘটে
ঘৃণার পাহাড় জন্ম নেয়, সম্পর্কের ইতি ঘটে।

আমরা শুধু জাতি হিসেবে সবাই কম বেশি অন্যের দোষ
ত্রুটি খুঁজি। কিভাবে কাউকে হেয় করা যায়।কিন্তু কখনো ভাবি না যে, সম্পর্ক গুলো ভেঙে যাচ্ছে। শুধু নিজেকে মহান ভাবতে থাকি। পৃথিবীতে অর্থের দাপটে অনেক কিছু করা যায়। কিন্তু মেধা জ্ঞান নিজের করে নেওয়ার সুযোগ নেই।

বলতে পারেন টাকার কাছে আজ সব বন্ধী। তারপর ও প্রকৃতি কিন্তু মেধার পক্ষে থাকে। শতাব্দীর পর শতাব্দী
সত্যের জয় হয়েছে।

ধরুন, আমার কারো সাথে মতে অমিল হলো,তার মানে কি অপর ব্যক্তিটি ভালো নয়?
সাধারণ ভাবে আমরা তাকে শত্রুতে পরিণত করে ফেলি,একটু বিবেক দিয়া বিবেচনার প্রয়োজন মনে করি না।
সবকিছু নিজের চাওয়ার মতো না হলে অপমান করে থাকি!
কিন্তু নিজের দোষ ত্রুটি গুলোর দিকে একবারের জন্যে
ভেবে দেখেছি কি?
আত্মসমালোচনা করেছি কি?
না, করিনি!!!
আমরা আজব জাতির আজব মানুষ, নিজের দোষ হিংসা,অহমিকা,দেখি না কখনো!
শুধু অন্যের গুলো চোখে পড়ে,পান থেকে চুন খসে পড়লেই  শুরু হলো সমালোচনা, অপমান অপদস্ত।
আসলে তা কখনোই কাম্য ছিলো না!

যে ব্যক্তি নিজের আত্মসমালোচনা করতে পারে না,
এমন লোকের সাথে কোন সম্পর্ক স্থায়ী হয় না।

কারন তার ভেতরটায় অহংকারের দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। তার বিবেক স্বার্থের দেয়ালের ইস্পাতের প্রাচীরে বন্ধী,সম্পর্ক তার কাছে তুচ্ছ, সম্পদের বড়াই
করাটা তার বিলাসিতা।তার চোখে বাকিরা কিছুই নয়।

এমন সব লোকের সাথে বন্ধুত্ব,আত্মীয়তার সম্পর্ক, সামাজিক সম্পর্ক, মোট কথা কোন সম্পর্কে আবদ্ধ করা উচিত নয়।
এরা সম্পর্কের বিচার করে অর্থ সম্পদ ক্ষমতা দিয়ে,যেখানে সম্পর্কের মৌলিক উপাদান গুলো, শ্রদ্ধা,ভালোবাসা, বিশ্বাস অনুপস্থিত।

আরও পড়ুন