Ads

সেলুনসহ যেসব জায়গায় লাইব্রেরি স্থাপন প্রজন্মকে এগিয়ে নিবে

।। ড. মোহাঃ ইয়ামিন হোসেন ।।

তামিলনাড়ুর থুথুকুদি জেলার বাসিন্দা পন মারিয়াপ্পা একজন নাপিত হিসেবে পরিচিত হলেও, তিনি একটি অভিনব এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন যা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক। তিনি তার সেলুনে টিভি রাখার পরিবর্তে একটি মিনি-লাইব্রেরি স্থাপন করেছেন, যেখানে গ্রাহকরা সময় অপচয় না করে বই পড়তে পারেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি সমাজে বই পড়ার সংস্কৃতি জাগ্রত করতে চান।

সেলুনে মিনি-লাইব্রেরির বিশেষত্ব

১. বই পড়ার সুযোগ: সেলুনে বসে থাকার সময় গ্রাহকরা খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন এবং বই পড়তে পারেন।

২. মোবাইল নিষিদ্ধ: সেলুনের ভিতরে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ, যা গ্রাহকদের বই পড়ার প্রতি মনোযোগী হতে সহায়তা করে।

৩. ছাড়ের ব্যবস্থা: যারা বই পড়বেন, তাদের জন্য ৩০% ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা বই পড়ার প্রতি উৎসাহ জাগ্রত করে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগের প্রাসঙ্গিকতা

বাংলাদেশে এই ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরী এবং উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে এমন জায়গায় যেখানে মানুষ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেন, সেখানে বই পড়ার ব্যবস্থা করা হলে সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।

১. হাসপাতাল ও ক্লিনিক

রোগী এবং তাদের স্বজনরা দীর্ঘসময় অপেক্ষা করেন। এই সময়টিকে সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করতে হলে একটি মিনি-লাইব্রেরি স্থাপন করা যেতে পারে।

২. স্কুল ও নার্সারী স্কুল

অভিভাবকরা বাচ্চাদের স্কুলের বাইরে অপেক্ষা করেন। সেখানে একটি মিনি-লাইব্রেরি স্থাপন করলে তারা অপেক্ষার সময়টিতে বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারেন।

৩. দূরপাল্লার যানবাহন

দূরপাল্লার বাস, ট্রেন, এবং স্টিমারে যাত্রীরা দীর্ঘসময় ভ্রমণ করেন। সেখানে মিনি-লাইব্রেরির ব্যবস্থা থাকলে তারা ভ্রমণের সময়টিকে ফলপ্রসূভাবে ব্যয় করতে পারবেন।

আরও পড়ুন-

কেন বই পড়া উচিত 

সম্ভাব্য স্থান/ প্রতিষ্ঠান হতে পারে

বাংলাদেশে বিভিন্ন স্থান ও প্রতিষ্ঠানে মিনি-লাইব্রেরির উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং উপকারী হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান ও জায়গায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করলে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব হবে। নিচে কয়েকটি প্রস্তাবনা দেওয়া হলো:

১. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল

স্কুলের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে এবং লাইব্রেরিতে মিনি-লাইব্রেরি স্থাপন করা যেতে পারে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বিরতির সময় কিংবা ফাঁকা সময়ে বই পড়তে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায়, যেমন ছাত্রাবাস, ক্যান্টিন, এবং সাধারণ ঘরে মিনি-লাইব্রেরি স্থাপন করা যেতে পারে। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ার প্রতি উৎসাহিত করা হবে।

২. স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান

হাসপাতাল ও ক্লিনিক

রোগীদের জন্য অপেক্ষার স্থানে মিনি-লাইব্রেরি স্থাপন করা যেতে পারে। এটি রোগীদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে এবং অপেক্ষার সময়টিকে কার্যকরভাবে ব্যয় করা যাবে।

ফার্মেসি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার

এখানে বই পড়ার ব্যবস্থা রাখা হলে অপেক্ষমান গ্রাহকরা সময় কাটাতে পারবে।

৩. পরিবহন মাধ্যম

দূরপাল্লার বাস ও ট্রেন:

দূরপাল্লার বাস এবং ট্রেনের আসনের পিছনে মিনি-লাইব্রেরি রাখা যেতে পারে। যাত্রীরা ভ্রমণের সময় বই পড়ে সময় কাটাতে পারবে।

স্টিমার ও লঞ্চ:

লঞ্চ ও স্টিমারের ডেকে মিনি-লাইব্রেরি স্থাপন করলে যাত্রীরা ভ্রমণের সময় বই পড়ে নিজেদের মগ্ন রাখতে পারবেন।

৪. সরকারি ও বেসরকারি অফিস

সরকারি অফিস

বিভিন্ন সরকারি অফিসের অপেক্ষমান কক্ষে মিনি-লাইব্রেরি স্থাপন করা যেতে পারে, যেখানে অফিসের কাজের জন্য অপেক্ষারত লোকজন বই পড়ে সময় কাটাতে পারে।

বেসরকারি কোম্পানি:

বিভিন্ন কর্পোরেট অফিসের লবিতে বা বিশ্রামকক্ষে মিনি-লাইব্রেরি স্থাপন করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন-

স্মার্ট ফোনের যুগে শিশুর বই পড়ার অভ্যাস গড়বেন যেভাবে

৫. কমিউনিটি সেন্টার ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান

কমিউনিটি সেন্টার:

কমিউনিটি সেন্টারে মিনি-লাইব্রেরি স্থাপন করে স্থানীয় জনগণের মাঝে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো যেতে পারে।

সামাজিক ক্লাব ও সংগঠন:

বিভিন্ন সামাজিক ক্লাব এবং সংগঠনের কেন্দ্রস্থলে মিনি-লাইব্রেরি স্থাপন করা যেতে পারে, যা সদস্যদের জন্য শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম হিসেবে কাজ করবে।

৬. বিপণি বিতান ও শপিং মল

শপিং মল ও বিপণি বিতান:

শপিং মল ও বিপণি বিতানের বিভিন্ন স্থানে, যেমন কফি শপ, ফুড কোর্ট, এবং বিশ্রামকক্ষে মিনি-লাইব্রেরি স্থাপন করা যেতে পারে। গ্রাহকরা কেনাকাটা করার ফাঁকে বই পড়ে সময় কাটাতে পারবেন।

৭. রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে

রেস্টুরেন্ট:

রেস্টুরেন্টের অপেক্ষমান কক্ষে মিনি-লাইব্রেরি স্থাপন করা যেতে পারে। খাবারের জন্য অপেক্ষার সময় গ্রাহকরা বই পড়ে সময় কাটাতে পারবেন।

ক্যাফে:

ক্যাফেগুলোতে মিনি-লাইব্রেরি স্থাপন করে গ্রাহকদের পড়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন-

যে ১০ টি কারনে প্রতিদিন বই পড়া উচিত

৮. বিনোদন কেন্দ্র

পার্ক ও উদ্যান:

বিভিন্ন পার্ক ও উদ্যানে মিনি-লাইব্রেরি স্থাপন করা যেতে পারে। দর্শনার্থীরা বই পড়ে বিনোদিত হতে পারবেন।

পরিশেষে বলতেই হবে, পন মারিয়াপ্পার উদ্যোগ সমাজে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশেও এই ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে আনতে সাহায্য করা যায়। সমাজে বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য এই ধরণের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রশংসনীয়। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য

বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় মিনি-লাইব্রেরি স্থাপন করা হলে সমাজে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এটি কেবলমাত্র বিনোদন নয়, বরং মানুষের জ্ঞান ও বুদ্ধির বিকাশেও সহায়তা করবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এই ধরণের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

লেখকঃ প্রাবন্ধিক এবং অধ্যাপক, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 

…………………………………………………………………………………………………………………………

মহীয়সীর প্রিয় পাঠক ! সামাজিক পারিবারিক নানা বিষয়ে লেখা আর্টিকেল ,আত্মউন্নয়নমূলক অসাধারণ লেখা, গল্প  ও কবিতা  পড়তে মহীয়সীর ফেসবুক পেজ মহীয়সী / Mohioshi  তে লাইক দিয়ে মহীয়সীর সাথে সংযুক্ত থাকুন। আর হা মহীয়সীর সম্মানিত প্রিয় লেখক! আপনি আপনার পছন্দের লেখা পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইলে-  [email protected]  ও  [email protected] ; মনে রাখবেন,”জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও উত্তম ।” মহীয়সীর লেখক ও পাঠকদের মেলবন্ধনের জন্য রয়েছে  আমাদের ফেসবুক গ্রুপ মহীয়সী লেখক ও পাঠক ফোরাম ; আজই আপনিও যুক্ত হয়ে যান এই গ্রুপে ।  আসুন  ইসলামী মূূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রজন্ম গঠনের মাধ্যমে সুস্থ,সুন্দর পরিবার ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখি । আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা সৎ কাজে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে চলো ।” (সূরা বাকারা-১৪৮) । আসুন আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখতে সচেষ্ট হই । আল্লাহ আমাদের সমস্ত নেক আমল কবুল করুন, আমিন ।

ফেসবুকে লেখক  মোঃ ইয়ামিন হোসেন 

আরও পড়ুন