হিটলারও প্রেম করতেন

আহমেদ জোবায়ের

হিটলারকে চেনেন না এমন মানুষ আজকাল আর নেই। আমরা অনেক সময় পরিচিত ও বন্ধুদের হিটলার বলে গালি দেই। হিটলার হলোকাস্টের মাধ্যমে ৬০ লাখ ইহুদীকে হত্যা করেছিলো। পোলান্ড দখল করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাঁধিয়েছিলো।

আজকে কুমিল্লা থেকে চেম্বারে আসার সময় হঠাৎ হিটলারকে জানার আগ্রহ হলো আমার। হিটলারের কি সবই খারাপ। হিটলারের বাবা ছিলেন একজন জারজ। হিটলার বাবাকে ঘৃণা করতো এবং ভয় করতো। মায়ের প্রতি ছিলো হিটলারের অগাধ ভালবাসা ও ভক্তি।

হিটলার চিত্রশিল্পী হতে চেয়েছিলেন। ভিয়েনার একাডেমি ও ফাইন আর্টসে ভর্তি পরীক্ষাও দিয়েছিলেন কিন্ত সুযোগ পাননি। পোস্টকার্ড ও বিজ্ঞাপনের ছবি একে সামান্য উপার্জন করে জীবনের প্রথম দিনগুলো যাপন করেছেন।

হিটলার তার জীবন নিয়ে বই লিখেছেন। মাইন কাম্ফ নাম সেই বইয়ের। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন। নাৎসী পার্টির নেতৃত্বে চলে আসার পর অভ্যুত্থান করতে গিয়ে জেলেও গিয়েছিলেন।

দারুণ বক্তৃতা জানতেন। কথার মোহনীয় জাদুতে হিটলার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন সেসময়ে।হিটলার ও প্রেম করতেন। ১৪ বছর ইভা ব্রাউনের সাথে প্রেম করেছেন কিন্ত বাইরে ভেতরে তা কাউকে জানতে দেননি।

হিটলারের প্রেমিক জীবনে অনেক নারী এসেছিলো।
এরমধ্যে দুইজন হিটলারকে না পেয়ে আত্মহত্যাও করেছিলেন। যুদ্ধে হেরে ফিউরার বাংকারে ছিলেন হিটলার।

হিটলার আত্মহত্যা করেন ১৯৪৫ সালের ৩০শে এপ্রিল। আত্মহত্যার আগের দিন প্রেমিকা ইভা ব্রাউনকে বিয়ে করেন। বিয়ের ২৪ ঘন্টার মাথায় স্ত্রী সহ আত্মহত্যা করেন ইতিহাসের বহুল আলোচিত সমালোচিত রক্তপিপাসু হিটলার।

হিটলার প্রেমিক পুরুষ ছিলেন। জনপ্রিয় ছিলেন।
ভালো বক্তা ছিলেন, চিত্রশিল্পী ছিলেন। বড় আঁকিয়ে হবার স্বপ্ন দেখেছিলেন এক জীবনে।

তারপর ইতিহাসে হিটলারের মূল্যায়ন কি তা আমরা জানি। বড় হিটলার আত্মহত্যা করে নরকে গেলেও ছোট ছোট হিটবারের ছানাপোনারা যুগে যুগে দেশে দেশে ক্ষমতার জন্য মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে।

মানুষের অধিকার ক্ষুন্ন করেছেন। মানুষের জীবনকে নরক বানিয়েছে। এবং সেসব হিটলারও জনপ্রিয়।তাদেরও অনেক গুণ। তাদের অনুসারীরাও আমাদের নীতিকথা শুনায়।

এক হিটলার লোকান্তরে। লক্ষ হিটলার ঘরে ঘরে।

 

আরও পড়ুন