আলফ্রেড ফাহাদের পশুপ্রেমী প্রেমিকা

ডাঃ জোবায়ের আহমেদ

পশুপ্রেমী সখিনা ধানমন্ডির একটা ক্যাফে রেস্টুরেন্টে গিয়েছেন বয়ফেন্ড আলফ্রেড ফাহাদ কে নিয়ে।। মুখ গম্ভীর করে খাবারের মেন্যুর দিকে তাকিয়ে আছেন সখিনা।
তারপর ওয়েটারকে ডেকে অর্ডার দিলেন।
ফ্রাইড চিকেন,বিফ সিজলিং,থাই চিকেন স্যুপ।
এই ক্যাফেতে আবার স্পেশাল কাচ্চিও পাওয়া যায়।
আসার সময় ছোট বোন জরিনা আবদার করছিল,আপ্পি আমার জন্য কিছু নিয়ে এসো
তাই আদুরের ছোট বোনের জন্য একটা কাচ্চিও অর্ডার দিলেন সখিনা।।

আলফ্রেড ফাহাদ আজ প্রেয়সীর মুড বুঝতে পারছেন না।কখন কি বলে কি বকা খান এই ভয়ে বেচারা তটস্থ।
কিছুক্ষন পর সখিনা বললেন,তুমি যে আমাকে ল্যাদারের পার্স ব্যাগটা দিয়েছিলে গত মাসে সেটা অনেক স্টাইলিশ ছিল।।
জান তোমার চয়েজ আছে।।
এই জান,আমার জন্য এমন আরো দুইটা পিউর ল্যাদারের ব্যাগ আনবে তুমি আবার ব্যাংককে গেলে।
আলফ্রেড সাহেব, মাথা নাড়লেন, ওকে জানু আনবো।

তারপর সখিনা বললেন,তুমি আমাকে ল্যাদারের যেই জুতা কিনে দিয়েছিলে এপেক্স থেকে সেটা ভালো পড়েনি।।
আজকে আবার এপেক্স এ ঢুঁ মারবো কেমন, আগামীকাল কুরবানীর ঈদ না?
এই ঈদে তো কিছু কিনে দাওনি এখনো।

আলফ্রেড সাহেব মনে মনে বললেন,তোরে দুনিয়া দিলেও শান্ত করা যাবেনা।।

ফ্রাইড চিকেন,থাই চিকেন স্যুপ, বিফ সিজলিং চলে আসলো টেবিলে।।।
সখিনা গপাগপ খেলেন।।
আলফ্রেড ফাহাদ অপলক চাহনিতে উনার পশুপ্রেমী প্রেমিকা সখিনার খাবার গলাধকরণের দিকে তাকিয়ে আছেন।।।

খাওয়া শেষে কফি আসলো।
কফিতে চুমুক দিতে দিতে সখিনা বললেন,জান আগামীকাল আমরা কখন মিট করবো?

আলফ্রেড সাহেব বললেন, তুমি তো জানো জান,আব্বা অসুস্থ।এইবার কুরবানীর সব আমাকেই সামলাতে হবে।
সখিনা হুম বলে বললেন,জানো জানু,এই কুরবানীর আগের রাতে আমার খুব ইচ্ছে করে চুপিচুপি সব গরু ছাগলের গলার দড়ি খুলে দিয়ে বলি, পালিয়ে ভাগ বেচারারা।।কিন্ত জান এই প্রাণীগুলো এত বোকা, স্টুপিড যে এদের দড়ি খুলে দিলেও কোথায় পালিয়ে যেতে পারবে বলে মনে হয়না।।
আহারে অবলা প্রাণীগুলো।।
আহারে গরুগুলোর দীঘল কালো মায়াবী চোখ।
কি নিষ্ঠুর মানুষ গুলো।।
কেমনে এদের গলায় চুরি চালায়।।

আলফ্রেড ফাহাদ বড় বড় চোখে তাকিয়ে আছেন পশুপ্রেমী প্রেমিকা সখিনার দিকে।

তারপর নরম গলায় বললেন,জান তুমি তো জানার কথা,কুরবানী কোন পশু হত্যার উৎসব নয়।
এটা একটা পবিত্র ইবাদত।।
আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলেন আলফ্রেড,সখিনা তখন অগ্নিমূর্তি ধারণ করে বললো,রাখো তোমার ইবাদত।।
মুসলিমরা নিষ্ঠুর।
কিভাবে ঈদের দিন এই অবলা পশু গুলোকে হত্যা করে।।

আর কোন ধর্মে এমন নিষ্ঠুরতা আছে দেখাতে পারবে??
ধমকের সুরে সখিনা জিজ্ঞেস করলেন আলফ্রেড ফাহাদ কে।।।

বেচারা আলফ্রেড ফাহাদ বিড়বিড় করে বললো,
জান তুমি নেপালের গাধিমাই উৎসবের নাম শুনেছো?
সখিনা বিরক্তিভাব নিয়ে বললো সেটা আবার কি?
তখন আলফ্রেড ফাহাদ বললেন, গাধিমাই কে বলা হয় শক্তির দেবী।প্রতি পাঁচ বছর পরপর নেপালের দক্ষিন অঞ্চলের ছোট্ট এক গ্রামে গাধিমাই উৎসব হয় যেখানে একদিনে হাজার হাজার পশুকে বলি দেওয়া হয়।
২০০৯ সালে গাধিমাই উৎসবে দেবী গাধিমাইকে সন্তুষ্ট করতে ৫ লক্ষ পশু বলি দেওয়া হয়েছিল।।
তাছাড়া হিন্দু ধর্মে পাঠা বলিদান তো প্রতিনিয়ত হয়।।

চোখ লাল করে সখিনা তাকালো আলফ্রেড এর দিকে।
তুমি আমাকে ইতিহাস শিখাচ্ছো।
মুসলিমরাই বর্বর এটা মানতে তোমার আপত্তি কোথায়।
আলফ্রেড ফাহাদ আর কথা বাড়ালেন না।

মনে মনে বললেন, সারাবছর বিফ ছাড়া কিছু খাইতে চায় না। রেস্টুরেন্টে গেলেই সবার আগে বিফ খায়, ফ্রাইড চিকেন এর ঠ্যাং পর্যন্ত চাবাইয়া খেয়ে ফেলে, শুধু কুরবানী আসলেই পশুপ্রেম জেগে উঠে।

ক্যাফের বিল দিয়ে বের হবার সময় পশুপ্রেমী সখিনা কাচ্চির প্যাকেট দেখিয়ে বললো, এটা নিচ্ছোনা কেন?

তারপর বাইরে এসেই সখিনার আবদার, এই জান, আমাকে নিয়ে এপেক্স এ যাবার কথা ভুলে গেছো?
Nino Rossi এর একজোড়া লেদারের জুতা পছন্দ হইছে।।
অনলাইনে দেখছি।
কিনে দাওনা জান।

আলফ্রেড ফাহাদ মনে মনে গালি দিতে দিতে হাঁটা শুরু করলেন এপেক্স এর শো রুমের দিকে।

লেখকঃ কলামিস্ট ও ডাক্তার

আরও পড়ুন