বাংলাদেশ কল্যাণ রাষ্ট্র হবার অন্তরায় অযাচিত লোভ

ডাঃ জোবায়ের আহমেদ

রাতে ঘুমাতে গিয়ে কিছু ঘটনা মনে আসলো।সেসব ঘটনা গুলোর বিশ্লেষণ করে এটাই বুঝলাম এই দেশের বেশিরভাগ মানুষ এমনকি দায়িত্বশীল পোস্টে থাকা মানুষ ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষা ও লোভের বশবর্তী হইয়া বৃহত্তর কল্যাণে কাজ করা মানুষদের পিছু লাগে।তাদের টেনে নামাতে চায়,বিপদে ফেলতে চায়।তাদের কল্যাণমুখী কাজ করে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।এইজন্য এই দেশের চরম দুরাবস্থা আজ।

বাংলাদেশ এমন একটা দেশ এখানে লোভ ও অবৈধ টাকার কাছে অনেকেই বিক্রি হয়ে যান।অন্তত বিক্রি হতে মরিয়া।সুযোগ পেলে হাতছাড়া করেন না নিজেকে বিক্রি করতে লোভের কাছে।

একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী সমাজের ক্যান্সার।তরুণ তরুণীদের নেশায় বুঁধ করে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎই ধ্বংস করেনা, বরং দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে অন্ধকারে।কিন্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীর টাকার কাছে দায়িত্বশীল লোকরা যখন বিক্রি হয়ে যান, অনেক টাকা ইনকামের লোভ, ফ্ল্যাট, গাড়ি,আয়েশী জীবনের জৌলুশ যখন তাদের পেয়ে বসে,তখন সেই ক্যান্সাররুপী মানুষটা দায়িত্বশীল নাগরিকদের কাছে হয়ে উঠেন আশীর্বাদ স্বরুপ।
যার জন্য এই দেশে মাদক ঠেকাতে এত ক্রসফায়ার দেওয়ার পরেও শহর থেকে অজো পাঁড়া গায়ের ছেলেটা আজ ইয়াবা আসক্ত।

একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক যখন বিক্রি হয়ে যান,তখন তিনি চাটুকার হয়ে উঠেন।তিনি আর জাতির বিবেক থাকেন না।
নিজের বিবেক বন্ধক দিয়ে তিনি টাকার কাছে আত্মা বিক্রি করে দেন।তখন সমাজবিরোধী বেনিয়াদের হাতের পুতুল হয়ে তারা নৃত্য করেন।
ফরমায়েশি সাংবাদিকতা করেন।

পুলিশের কথা আর কি বলবেন বলুন।আপনি টাকা দিলে মামলা খাওয়ার অপরাধ করলেও পার পেয়ে যাবেন।ওসি সাহেব আপনাকে দুধ চা অফার করবে।আবার আপনি আপনার মেরুদণ্ডের সোজা অবস্থান জানান দিলে,ঘুষ দিতে অপারগতা দেখালে,ওসি সাহেবের ইশারায় অভিভূত না হলে অপরাধ না করেও জেলে যাবেন।টাকা দিলে জেলে থাকার লোক মুক্ত পৃথিবীতে ঘুরবে।টাকা না দিলে মুক্ত পৃথিবীর লোক অন্ধকার প্রকোষ্টে পঁচবে।।

ডাক্তাররা কমিশন খেয়ে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছেন।অযাচিত টেস্ট বানিজ্য করছেন কেউ কেউ।ফালতু মেডিসিন লিখে প্রেসক্রিপশন ভরিয়ে ফেলছেন কোম্পানির কাছে আত্মা বিক্রি করে।অথচ মানবিক এই পেশায় ফেরেশতা তুল্য মানুষগুলোর অমানবিক ও অনৈতিক লোভের বলি হয় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষগুলো।

প্রশাসনের লোকদের নিয়ে কিছু বলাই বাহুল্য।সাধারণ মানুষ যাদের কাছে দরদ পাওয়ার কথা আদতে তারা তাদের কাছেই ঘেষতে পারেন না তাদের ভাব ও জৌলুশ আতংকে।

এই দেশের ব্যবসায়ীরা এত অনৈতিক কেন? জনতার দূর্দিনকে পুঁজি করে তারা ধান্ধা করে নিতে মরিয়া।তারা মজুতধারী করে অবৈধ দাম বাড়িয়ে মানুষের জীবন নাভিশ্বাস করে তুলেন।ব্যবসাতো হালাল। তবে এত লোক ঠকানো ব্যবসায়ী কেন চারপাশে?

উকিলদের কথা বলার বাকি কি কিছু থাকে?টাকার জন্য ওসি প্রদীপের মত খুনিদের রক্ষায় উনারা কালো কোট শরীরে জড়িয়ে সাদা টাই পরে আইন যুদ্ধে নেমে পড়েন অনায়াসে।বিচারকরা গোপন আঁতাত করেন রায় নিয়ে।বিচারকরা উপর মহলকে খুশি করতে নিরপেক্ষ থাকেন না।বিচারের বাণী নিভৃতে নয়,উচ্চস্বরেই কান্না করে।

অন্তত সওজ এর প্রকৌশলীদের কথা না বললে গুনাহ হবে।বাকিদের কথা থাকুক তোলা।

যেই দেশে পদের লোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পর্যন্ত বেঁচে দেন তাদের আত্মা, সেই দেশের উন্নয়ন হতে পারে কিভাবে বুঝি না।

সাধারণ মানুষ কি লোভমুক্ত?রাতারাতি বড়লোক হবার লোভে ইউনিপেটু ডেসটিনি কত কো-অপারেটিভ এদেশের লাখো মানুষকে পথে বসিয়েছে সব লুটে নিয়ে।।

লুটেরাদের কাছে আমরা আমাদের লোভের জন্য নিজেদের বিক্রি করে দেই অল্পমূল্যেই।এই লোভ শুধুমাত্র আয়েশি জীবনের লোভ আমাদের অনেক দায়িত্বশীল নাগরিককে আজ অমানুষে পরিনত করছে।অনেকেই আজ দায়িত্ববান নন।আর এর কুফল ভূগছে অতি সাধারণ, ন্যায়বান ও নির্লোভ মানুষগুলো।।

এই অযাচিত লোভ কত মায়ের বুক খালি করলো?কত পরিবারের কান্না ও দীর্ঘশ্বাসের কারণ,কত মানুষের নীরব হাহাকারের কারণ তার খবর রাখে কয়জনা??

অথচ দায়িত্বশীল পোস্টে থাকা মানুষগুলো যদি লোভী ও অমানুষ না হয়ে যেত,তবে বাংলাদেশ একটা কল্যাণ রাষ্ট্র হয়ে যেত অতি দ্রুতই।কিন্ত আফসোস তা হবার লক্ষণ দৃশ্যমান নয়।

লেখকঃ ডাক্তার, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট

 

আরও পড়ুন