আমার বউ কিছু করে না !

আয়েশা সিদ্দিকা

– হ্যালো ভাই, আপনি কি করেন?

– আমি একটা ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার।
– বাহ্! খুব ভালো। তা আপনার স্ত্রী?
– সে কিছুই করে না। স্রেফ গৃহিণী।
– তাই নাকি? তা ভাই, সকালে আপনার ফ্যামিলীর জন্য নাস্তা কে বানান?
– আমার বউই করে। কারণ সে তো কিছু করে না।
– ঠিকি তো। আচ্ছা, এখন বলুন তো, তিনি ঘুম থেকে কখন ওঠেন?
– সে ভোর পাঁচটায় ওঠে। কারণ নাস্তা বানানোর আগে তাকে ঘর-দোর পরিস্কার করতে হয়।
– আপনার বাচ্চাদের কে স্কুলে নিয়ে যায়?
– সে-ই নিয়ে যায়। কারণ, তার তো আর অন্য কোনো কাজ নেই।
– হা হা হা…. বেশ বলেছেন। আচ্ছা এখন বলুন তো, বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে তিনি কোথায় যান? কি করেন?
– বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে সে বাজারে যায়, বাসায় ফিরে কাপড় কাচে, ঘর-মেঝে পরিস্কার করে, রান্না-বান্না করে। এছাড়া তার তো আর কাজ নেই।
– বেশ। এবার বলুন- লাঞ্চের পর তিনি কি করেন?
– তেমন কিছু না। ধোয়া কাপড়-চোপড় ঘরে এনে ইস্ত্রি করে, ঘর-বিছানা গোছায়, বাচ্চাদের স্কুল থেকে নিয়ে আসে, খাওয়ায়, টিউটরের জন্য নাস্তা রেডি করে — এইসব টুকিটাকি কাজ আর কি। এইটুকু না করলে তো শরীর ভারী হয়ে যাবে, অসুখ-বিসুখ বাসা বাঁধবে।
– খুবই খাঁটি কথা বলেছেন। আচ্ছা, বিকেল থেকে রাতে শোয়া পর্যন্ত তিনি আর কি কি করেন?
– হা হা হা … ওই যে বললাম – তেমন কিছু না। টুকিটাকি হালকা কাজ।
– যেমন?
– এই ধরেন, বিকেলের নাস্তা-চা বানায়, ঘর-আঙ্গিনা ঝাট দেয়, রাতের জন্য রান্না করে, বাচ্চাদের পড়াতে বসায়, আত্মীয়-মেহমান এলে তাদের অপ্যায়ন করে, সবাইকে ডিনার করিয়ে নিজে খায়, এঁটো বাসন-কোসন মাজে, বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে নিজে ঘুমায়।

 

– বুঝলাম আপনার বউকে তেমন কিছুই করতে হয় না। অনেক শান্তিতে আছেন তিনি। এবার আপনার রুটিনটা বলুন।
– আমার তো ভাই ম্যালা কাজ, ম্যালা ঝাক্কি-ঝামেলা। সেই সকাল আটটায় উঠি, তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাস্তা করেই অফিসের দিকে ছুটি।
– তারপর?
– সন্ধ্যার আগে আগে বাসায় ফিরি।
– বাসায় ফিরে কি করেন?
– সারাদিনের হাজারো কাজে খুব টায়ার্ড হয়ে যাই, তাই ঘন্টা দুয়েক রেস্ট করি। বউ চা দেয়, চা খেতে খেতে টিভি দেখি, পেপার পড়ি।
– তারপর কি করেন?
– হালকা ড্রেস আপ করে বাজারে বা ক্লাবে যাই। শারীরিক মানসিক পরিশ্রমে বোরড হয়ে যাই। একটু রিক্রিয়েশন না করলে মাথা ঠিক থাকে না।
– বাজারে গিয়ে কি করেন?
– বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আড্ডা দেই, তাস খেলি, চা-কফি, পান-বিড়ি খাই।
– বাসায় ফেরেন ক’টায়?
– এই ধরেন.. সাড়ে দশটা – এগারটা।
– তারপর?
– তারপর আর কি? খেয়ে-দেয়ে টিভি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ি।
– বাচ্চারা জেগে প্রস্রাব-পায়খানা করতে চাইলে কে ওঠেন? আপনি না ভাবী?
– আমার ক্লান্ত শরীর, ঘুম-বিশ্রামের খুব প্রয়োজন। গিন্নী তো কিছুই করে না, তাই সেইই ওঠে। হা হা হা হা হা….

লেখকঃ সাহিত্যিক

 

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.