নারীর সম্মান কখনও অন্যের হাতে !

আব্দুল মতিন

কে জানিত মেয়েটির ভাগ্য এমন নির্মম হইবে। বিরঙ্গনা সেতারা বা তারামনের কথা বলিতেছি না, আমার এক সহকর্মী লাবন্য প্রভার কথা বলিতেছি। বয়স যখন ২৫-২৬ তখনই লাবন্য প্রভার বিয়ে হইয়াছিল মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সরকারী এক শিক্ষকের সঙ্গে। বাবা দস্তুর মত অনুসন্ধান করিয়া বড় মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান করিয়া ছিলেন এবং প্রচুর অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে। লাবণ্যের এক বড় ভাই রহিয়াছে, বাবা মা ভাইজানের মঙ্গলার্থে বাড়িখানা রেজিস্ট্রেশন করিয়া দিয়াছিল। আজ তার বড় দেমাগ হইয়াছে, লাবণ্যর স্বামী জানিত তাহার স্ত্রীর অনেক গুন রহিয়াছে, কাপড় পরিস্কার করা,আন্তরিকতার সাথে রান্না করা, সেলাই করা,আর মনের মতন সেবা করিতে অনেক পটু। লাবণ্যের সামান্য অসুস্থতা তাহার জীবনে কাল হইয়া দাঁড়াইয়াছে।

মেয়েটির শ্বশুর শ্বাশুড়ির উচ্চ আকাঙ্খা পুরন করিতে পারে নাই। এক সময় শিক্ষক মহদয় বাবা মার মন জয় করিতে যাইয়া সোনার মত বউকে ছাড়িয়া দেবার সিদ্ধান্ত গ্রহন করিলেন।একবারও লাবণ্যের কথা ভাবেন নি যাকে দেখিয়া শুনিয়া মধুর বন্ধনে আবদ্ধ হইয়াছে তাহার শেষ পরিনতি কি হইবে। ভাগ্যের নির্মম আঘাতে আহত হইল লাবণ্য। বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিবার পর মেয়েটি ক্লান্ত হইয়া পরিয়াছিল,তাহার ভবিষ্যৎ জীবনের কি হইবে। বছরে ২/১ বার লাবন্যপ্রভাকে ব্লাড দিতে হইত, ডাক্তার বলিয়াছিল! আনন্দ ঘন পরিবেশে থাকিলে তাহার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হইবে। কিন্তু নিয়তি হয়ত তাহার প্রতি জুলুম করিয়াছিল।এখন লাবণ্যর বাবার মৃত্যু ঘটিল, কিছু দিনের ব্যবধানে বাসায় নতুন ভাবি আসিল, দেখতে যথেষ্ট হইলেও আচরন বড়ই নিষ্ঠুর প্রমানিত হইল।

পারিবারিক সিদ্ধান্তে আবার লাবন্যপ্রভার বিবাহ স্থির হইল, জামাই অধ্যক্ষ, সুন্দর সু-শ্রী, আর্থিক অবস্থা আঙুল ফুলে কলা গাছের মতই। অধ্যক্ষ মহদয়ের এক স্ত্রী মারা যাইবার পর তাহার সম্পূর্ন মতামতের, পছন্দের আর জানাশুনার মধ্য দিয়া দ্বিতীয় পানি গ্রহন হইল। সামাজিক ভাবে ভাল মানুষের খোলস থাকিলেও লাবন্যপ্রভার প্রতি মানুষিক নির্যাতন তাহাকে থামাইতে পারে নাই, অর্থলোভী, হীনমন্যতা আর শারীরিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হইয়া উঠিয়াছিল মেয়েটির জীবন। জামাই মশায়ের ১/১ ছেলে মেয়ে থাকিলেও এর সমাধান মেলেনি। মিথ্যা কিছু ঘটনা রটনার মাধ্যমে লাবণ্যের দ্বিতীয় তালাক হইল।কত বৈচিত্র্যময় এ জীবন, মেয়েটি এক বেসরকারি স্কুলে চাকরি করিয়া বর্তমানে জীবন অতিবাহিত করিতেছে! কে জানে তাহার ভবিষ্যৎ জীবনের কতটুকুই সুখ বা দুঃখ অপেক্ষা করিতেছে। তবুও লাবণ্য আমাদের সবার সাথে হাসি ভরা মুখ লইয়া কথা কহেন।

লেখকঃ কবি ও সাহিত্যিক

 

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.