কেন স্ত্রীদের নিয়ে নেগেটিভ প্রোপাগান্ডা?

ফরিদুল ইসলাম নির্জন

আমাদের সমাজে বেশির ভাগ নেগেটিভ চিন্তা ছড়ানো হয় বউদের নিয়ে। এটা সমাজপতি থেকে শুরু করে অনেকেই উৎসাহিত হয়ে এই কাজে যুক্ত হোন। বউ মানে হাতি, রাক্ষুসী, ডাইনীসহ অনেক কুকথা।
এটা সমাজের অনেক দায়িত্ববান মানুষেরাও এমন নেগেটিভ ছড়িয়ে থাকেন। বউ নিয়ে কোনো পজেটিভ গল্প কী সমাজে নেই? আছে। কিন্তু তাঁরা জানেন। তবুও প্রকাশ করেন না।
১৬ তারিখে ফোক ফেস্ট অনুষ্ঠানে গিয়েছি আমি, কবি ও সাংবাদিক হুসাইন আজাদ, লেখকবন্ধু সরোজ মেহেদী।
অনুষ্ঠানটা নাচ দিয়ে হলো শুরু। তারপর জর্জিয়া থেকে আগত ব্যান্ডদল সুন্দর গানের পরিবেশনা। এরপর এলেন বাংলাদেশের বাউলশিল্পী শাহ্ আলম সরকার। প্রথমে বন্দনা দিয়ে গান শুরু। কিছু গান গল্প। গল্পের এক পর্যায়ে তিনি বউ প্রসঙ্গে এলেন। বউ কে দেখে ভয় পান না জগতে এমন পুরুষ কেউ নেই। তার এই কথা শুনে বেশিরভাগ পুরুষ খুশিতে আত্মহারা হলেন। অনেক মেয়েকে দেখলাম কথাটির সাথে করলেন সন্মতি। মেয়েগুলো যেনো ভীষণ খুশি। আত্মহারা হয়েছেন। তাদের এই খুশিকে প্রেরণা দিতে শাহ আলম সরকার একটি গল্প করলেন শুরু। গল্পটি ছিলো এমন, এক মহারাজা ঘোষণা করলেন, বউকে দেখে কে ভয় পায় না। যারা ভয় পান না তাঁরা এক দিকে দাঁড়াতে।

যারা ভয় পান তাঁদের এক দিকে দাঁড়াতে। রাজা নিজেও নাকি বউকে দেখে ভয় পান। তাই সে ভয় পাওয়া দলে দাঁড়ালেন। বউকে দেখে ভয় পান না এমন লাইনে দাঁড়ালেন একজন। লোকটি রোগাটে। শরীরের হার গোনা যায়।
রাজামহাশয় দেখলেন একজন মানুষ যে কিনা বউকে দেখে ভয় পান না।
তিনি সেই রোগাটে লোকটিকে বললেন, ‘তা ভাই আমার সকল রাজসম্পত্তি দিয়ে দেবো। আমি প্রজা হয়ে যাবো। তার আগে বলো তোমার এমন কী গুণ আছে বউকে দেখে তুমি ভয় পাও না। ‘
লোকটি বলল, ‘আমি বাসা থেকে আসার সময় বউ বলে দিয়েছে তুমি রোগাটে। যেখানে ভীড় দেখবে সেখানে যাবে না। তাই দেখলাম ঐ লাইনে বেশি লোকজন। সেখানে ভীড়ের সমগম। তাই ঐ লাইনে দাঁড়ায়নি। ‘

তারপর সবাই হেসে খিলখিল। ভীষণ আনন্দ। বউদের নিয়ে সস্তা কথা। কাল্পনিক গল্প। যার কোনো ভিত্তি নেই। কিন্তু বউদের নিয়ে কথা বলা হয়েছে। অনেক মেয়েও খুশি। নিজেকে রাক্ষুসী, ডাইনী বলাতেও আপনার এতো আনন্দ!
তারপর একটা গান ধরলেন। গানটিতে বোঝানো হয় পুরুষ বিয়ের আগে সিংহ, বিয়ের পর ভেড়া!
এমন অনেক উদ্দেপক ব্যবহার করা হয়। এতেও ছেলেরা ভীষণ খুশি। নিজেদের ভেড়ার দলে ভিড়াতে বেশ খুশি! এতো আয়োজন করে নাচ! আসলে কী পুরুষ বিয়ের পর ভেড়া!

বউ কে?
আমার বোন, ভাগ্নী, খালা, ফুপি, ভাতিজীতো অন্যর ঘরের বউ। ব্যাপারটি এমন। তাই নয় কী?
একজন বউ মানে একজনের মা। একজনের খালা। একজনের ফুপি। একজনের ভাগ্নী। একজনের ভাতিজী। সর্বশেষ একজন সংগ্রামী। একজন মা। কতো সময় বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের গড়ে তোলেন। নিজেকে নিঃশ্বেস করে দিয়ে সন্তানদের আগলে রাখেন। তারপরও কেনো নেগেটিভ ধারনা।
সমাজে, ইতিহাসে, ধর্মীয়মতে বউদের কোনো পজেটিভ কাহিনী বা বাস্তব ধর্মী ঘটনা নেই?
সম্রাট সাজাহান বউযের জন্য গড়েছেন তাজমহল। আইয়ুব নবীকে কীরায় খায়। তার শরীরের মাংস পচন ধরে। সমাজে এতো উপকার করেছেন। তবু মানুষ তাকে সেই সমাজে রাখেননি। সবাই ছোয়াচে রোগ বলে সমাজচ্যুত করে। বিবি রহিমা তাকে ছেড়ে যাননি। কতো বিপদ। তাকে আকড়ে ধরেছেন। পাশে থেকেছেন। ১৮ বছর তাকে সেবা যত্ন করেছেন একা একা। এমন ধর্মীয় নেতাদের বউয়ের পজিটিভ ঘটনা আছে। সেগুলো আমেরা বলতে পারি। এতে করে দুঃসময় স্ত্রীরা স্বামীর পাশে থাকতে প্রেরণা দেবে। নেগেটিভ সবকিছু নেগেটিভ করে তোলে।
রাতের আকাশে যখন গনগনে তারার মাঝে একটি চাঁদকে আপনার কাছে কুৎসিত মনে হবে।
আমাদের সমাজে পজেটিভলি সব আলোচনা করা যেতে পারে। ছোট খাট ভুল ক্রুটি শুধরিয়ে সুন্দর জীবন গঠনে বউদের পজেটিভ কিছু বলি। যা শুনে বা মুগ্ধ হয়ে সকল বউ পজিটিভ ভাববেন।

লেখকঃ সাহিত্যিক 

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.