যেভাবে মায়ার সংসার গড়ে উঠে

ডাঃ জোবায়ের আহমেদ

বাইরে প্রচন্ড শীত।শীতে কাঁপছে দেশ।তারমধ্যে বৃষ্টি।মনে হচ্ছে আকাশ থেকে বরফ পড়ছে।।
সকালে ঘুম থেকে উঠে একটা স্ট্যাটাসে চোখ আটকে গেলো।সেখানে একজন জুনিয়র ডাক্তার মেয়ে লিখেছেন,তার মা ভোর এই শীতেও ভোর ৬ টায় উঠে বাচ্চাদের জন্য রান্না করছেন।ঘরের নিত্য দিনের কাজ করছেন।মায়েদের ৩৬৫ দিনে কোন ছুটি নেই।

আমি একটা কমেন্ট করলাম, বিছানায় কম্বলের নীচে আরামে শুয়ে শুয়ে স্ট্যাটাস না দিয়ে মা কে হেল্প করতে পারো।

তখন সে লিখলো, সে স্ট্যাটাসটা পড়ার টেবিলে বসে দিছে এবং সে তার মাকে কাজে সাহায্য করে।

আমাদের মায়েরা ঘরে যে কাজ করেন তা থ্যাংকসলেস জব।

মায়েদের ছুটি নেই।

বিশ্রাম নেই।

বিনোদন নেই।

সবার আগে ঘুম থেকে উঠা ও সবার পরে ঘুমাতে যাওয়া মানুষটাই আমাদের মা।প্রচন্ড কনকনে শৈত্যপ্রবাহেও মা শীতকে উপেক্ষা করে সবার আগে ঘুম থেকে উঠে সন্তান ও পরিবারের সবার জন্য নাস্তা রেডি করেন।নাস্তা পর্ব শেষ হলে লাঞ্চ এর আয়োজন।লাঞ্চ এর পর বৈকালিক খাবার তৈরী করা তারপর রাতের খাবার রান্না করে ।  সবাইকে খাইয়ে তারপর মা এর ডিউটি শেষ হয়।
এরমধ্যে আমার মত কোন সন্তান যদি মা থেকে দূরে থাকে তারজন্য মায়ের চিন্তা ও হাহাকার।কোন কিছুর প্রত্যাশা ছাড়াই মা দিয়ে যাচ্ছেন আমাদেরতার সবটুকুন উজাড় করে।।

একবার আমার মেডিকেয়ারে এক অজ্ঞান রুগী এডমিট হলো।প্রায় ৪৮ ঘন্টা অজ্ঞান থাকার পর যখন জ্ঞান ফিরলো তখন উনার প্রথম কথা ছিলো ঢাকা থেকে মাকে দেখতে আসা উনার বড় সন্তান কিছু খেয়েছে কিনা।ব্যপারটা আজো আমাকে অভিভূত করে ভাবলে।মানুষটা জীবন ও মৃত্যুর লড়াই এ জয়ী হয়ে প্রথম খবর নিলেন তার সন্তান খাবার খেয়েছে কিনা।।

আমাদের মায়েরা এমন অদ্ভুত মায়ার জগৎ তৈরী করেন।

সেই মমতাময়ী মাকে নিয়ে যদি সত্যি আপনার অনুভূতি থাকে তবে মাকে বাসায় সাহায্য করুন।তার কাজে আপনার হাত তাকে কিছুটা বিশ্রাম ও প্রশান্তি দিবে।

এই শীতে মাকে বলুন না, আজ তুমি ফজর পড়ে ঘুমাবে,আমি সকালের খাবার তৈরী করবো।যদিও মা শুনবেন না নিশ্চিত তারপর ও উনি একটা আত্মিক শান্তি পাবেন।

আমাদের দেশে পুরুষরা ঘরের কাজ করলে অনেকে উৎসাহ না দিয়ে কটাক্ষ করেন।চাকুরী করা নারীকেও চাকুরী সামলিয়ে ঘর সামলাতে হয়।সেখানে পুরুষ যদি তার মায়ার হাত বাড়ায়,তাহলে নারীর জন্য অনেক সহজ ও স্বস্থি হয়।

কিন্ত আমরা পুরুষ জাতি ঘরের কাজে বউকে হেল্প করলে আমাদের ইজ্জত থাকে বলেন??
পুরুষরা ইজ্জত এর বড় ঠিকাদার।।

সংসার টা দুইজন মানুষ শুরু করেন।তারপর সন্তানরা যেই সংসারে শোভা বাড়ায়।
একটা সংসার তখনই সুখী হয়ে উঠে যখন সেই সংসারের প্রত্যেক সদস্য একে অপরের জন্য অনুভূতিপ্রবন হয়ে উঠেন।

ছেলে মেয়ে বলে আলাদা কিছু নাই।আমি ছেলে বলে আমার ঘরের কাজে শুধু বোনেরা খাটবে, আমি শুয়ে বসে পা দুলাবো বা ইনকাম করি বলে নিজেকে দায়মুক্ত রাখবো তা ঠিক চিন্তা নয়।একজন পুরুষ যখন বাইরে কাজ করেন, তখন একজন নারী তার ঘর, বাচ্চা, রান্না সহ সব কিছু সামলান।সুতরাং পরিবারের সবারই সবার প্রতি সহমর্মী হয়ে সবাই সবার কাজে হেল্প করলে একটা পরিবার সুখের সাগরে রুপান্তরিত হয়।।

ভাবুন নিজেকে পরিবর্তন করুন।আপনার প্রিয়জনের কাজে আপনি মায়ার হাত বাড়িয়ে উনার যাপিত জীবনকে সহজ ও প্রশান্তিময় করতে ভূমিকা রাখুন।।এভাবেই মায়ার সংসার গড়ে উঠে।।

লেখকঃ সাহিত্যিক, কলামিস্ট ও ডাক্তার

আরও পড়ুন