মাঃ আমার অনুপম অস্তিত্ব

ড. সালেহ মতীন

নাড়ীর বন্ধনে যার সাথে আমার অস্তিত্ব একাকার হয়ে আছে তিনি আমার মা। আমার এ শরীরের রক্ত প্রবাহে যার নির্ঘাত সঞ্চালনা বিদ্যমান তিনি আমার মা। মাকে নিয়ে লেখার কি শেষ নামানো সম্ভব ? মা প্রত্যেকের কাছে দুনিয়ার সবকিছুর চাইতে প্রিয়। মা প্রত্যেকের কাছে পৃথিবীর অবধারিত অস্তিÍত্ব। কিন্তু কষ্ট পাই এই মাকে যখন বৃদ্ধাশ্রমে দেখতে যাওয়ার খবর শুনি অথচ মাকে নিজের সাথে রাখার অর্থনৈতিক সামর্থ্য সন্তানদের রয়েছে। এটা মায়ের অতুলনীয় ভালোবাসার সাথে নির্মম বিশ্বাসঘাতকতা। এটা নিজের অস্তিত্বের সাথে চরম দুঃখজনক ও আত্মঘাতী আচরণ।

পৃথিবীর সব ভালোবাসা, সব স্নেহ-মমতা জড়ো করে কোটি কোটি গুণ বৃদ্ধি করলেও মায়ের সিন্ধুসম ভালোবাসার এক ফোঁটা পানির সমান হওয়া অসম্ভব। সেই মা যখন সন্তান কর্তৃক নিগৃহীত, বঞ্চিত ও অত্যাচারিত হয় তখন সৃষ্টিকর্তার আরশ সঙ্গত কারণেই প্রকম্পিত হয়ে উঠে।

প্রত্যেক মা তার সন্তানের কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মমতাময়ীদের অন্যতম। দুনিয়ার সবকিছু ভেজালে ছেয়ে গেলেও মায়ের ভালোবাসায় কোন রকম মেকি কিংবা ভেজালের বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই। আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের পক্ষ থেকেই মাতৃত্বের মহান সত্ত্বাকে এভাবেই সৃষ্টি করা হয়েছে। এজন্য মাকে পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ স্বর্গীয় উপহার হিসেবে গণ্য করা হয়। মায়ের সান্নিধ্য দুনিয়ার তাবৎ অশান্তি ও অনিরাপত্তার আবহ দূর করে জান্নাতী প্রশান্তি এনে দেয়। মায়ের স্নেহ পার্থিব সব অমঙ্গল থেকে সন্তানকে আগলে রাখে। সন্তানের জন্য ত্যাগ স্বীকারের ক্ষেত্রে মায়ের যে অবিসম্বাদিত ভূমিকা তা কোন পাল্লায় ওজন করা যায় না।

এমন ঘটনাও আছে যে, মায়ের এক চক্ষু কানা থাকার কারণে বাহ্যত তাকে অসুন্দর দেখা যাওয়ায় কোন কোন সন্তান হীনমন্যতায় ভোগেন কিংবা কোন কোন পরিবেশে মায়ের পরিচয় দিতে ইতস্তত বোধ করেন। অথচ শৈশবের বেপরোয়া দুষ্টুমিতে চোখ হারানো ঐ সন্তান মায়ের দেয়া চোখ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমেই বিশ্ব দেখছেন। মায়ের এ আত্মত্যাগের ঋণ কিছুতেই পরিশোধ হবার নয়। তদুপরি মাকে এ ব্যাপারে অমর্যাদার চোখে দেখা, কষ্ট দেয়া কিংবা তাঁকে উপযুক্ত অধিকার বঞ্চিত করা অক্ষমার্হ অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

মায়ের ঋণ কখনই পরিশোধ করা সম্ভব নয়। এমনকি নিজের জীবন দিয়েও নয়। শিশু অবস্থায় কত শীতার্ত রাতে নিজের অজান্তে মায়ের কাপড় ভিজিয়ে দিয়েছি অথচ মা মোটেও রাগ করেননি বরং ঘুমের ঘোরে যদি আমার বিছানা বদলাতে দেরি হয়েছে, তাহলে মা চোখের পানি ফেলেছেন এই ভেবে যে, না জানি তার কলিজার টুকরা কখন থেকে প্রসাবের ভেজা কাপড়ে শুয়ে আছে, না জানি ঠাণ্ডা লেগে যায়। দুর্গন্ধময় ঘৃণ্য বস্তু মায়ের পরিচ্ছন্ন শুভ্র কাপড়ে মাখিয়ে দিয়েছি হয়ত কোন অনুষ্ঠানে, অনেকের সম্মুখে অথচ মা মোটেও ঘৃণা বোধ করেননি। শৈশবের বেপরোয়া দুষ্টুমিতে মাকে যখন তখন সীমাহীন যন্ত্রণা দিয়েছি, সুলভ-দুর্লভ জিনিসের জন্য কত রকম আবদার মায়ের কাছে করেছি অথচ মা ভুলেও কখনো বিরক্ত বোধ করেননি। বরং সাধ্যের সর্বশেষ প্রান্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন সেই জিনিসটি আমার জন্য সংগ্রহ করতে।

কত দরিদ্র মা সন্তানের মুখে এক মুঠো আহার তুলে দিতে সীমাহীন পরিশ্রম করেছেন অথচ নিজে অনাহারে থেকেছেন। এ ঋণ কি কোনদিন শোধ করা যায়? ঐ যে বলা হয়, ‘মায়ের এক ধার দুধের দাম, কাটিয়া গায়ের চাম, পাপোশ বানালেও ঋণের শোধ হবে না’ – একদম যথার্থ অভিব্যক্তি।

যাদের মা বেঁচে আছেন তাদের কাছে মায়ের অনুভূতি যত বাস্তব ও প্রাণবন্ত, যাদের মা বেঁচে নেই তাদের কাছে তা আরো গভীর। অবশ্য এ কথা ঠিক যে, মা সমগ্র বিশ্বের মধ্যে সৌভাগ্যের প্রতীক। যিনি মাকে সঙ্গে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি অবশ্যই পরম সৌভাগ্যবান। প্রসঙ্গত মায়ের সাথে জড়িয়ে আমার শৈশবের একটি মজার স্মৃতিময় ঘটনা পাঠকগণের সামনে তুলে ধরার লোভ সামলাতে পারছি না।

১৯৭৮-৭৯ সালের দিককার ঘটনা। তখন আমাদের অনেকগুলো (প্রায় দেড়‘শ মতো হবে) খেজুর গাছ ছিল। এলাকায় মাকসূদের (আমার মরহুম আব্বার নাম) খেজুর বাগান নামে আমাদের বাগানের বেশ প্রসিদ্ধিও ছিল। তখন আমাদের গ্রামের বাড়িতে প্রত্যহ ৩-৪ ঠিলে শুকনো গুঁড়ই তৈরি হতো। ২/৩ দিন পর পর তা কেশবপুর, চিনেটোলা কিংবা রাজগঞ্জ বাজারে বিক্রি করা হতো।

একদিন এ রকম ৬ ঠিলে (ভাঁড় বা ছোট সাইজের কলসি) শুকনো খেজুর গুঁড় ঘরে বিক্রির অপেক্ষায় ছিল যার মুখের অংশে চিনির মতো জমে গিয়েছিল। নিরেট শুকনো খেজুর গুঁড়ের ঠিলের উপরের অংশে এমনটিই জমানো হতো। আমার বয়স তখন আট কি নয়। দূরন্ত ডানপিটে শৈশবটা তখন আমার নিত্য সহযাত্রী। তদুপরি পিতা-মাতার ৮ সন্তানের সবার ছোট হওয়ায় আদরের মাত্রাও একটু বেশিই পতিত হতো এই আমার প্রতি- যা ছিল আমার শৈশব চাঞ্চল্যের আরেক ইন্ধনদাতা।

খেলাধূলার দৌঁড়াদৌড়ির এক পর্যায়ে ঘরে গিয়ে যখন দেখলাম লাইন দিয়ে সাজানো ছয়টি গুঁড়ের ঠিলে আমার দিকেই তাকিয়ে হাসছে তখন তা স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা আমর পক্ষে সম্ভব হলো না। এর আগেও এমন গুঁড় বহু দেখেছি কিন্তু এভাবে সারি করে দাঁড়িয়ে থাকা অপেক্ষমান সুন্দরী গুঁড়ের চেহারা একান্তে সম্ভবত আর প্রত্যক্ষ করিনি। আমি একরকম গোপনেই ঠাণ্ডা মাথায় সবগুলোর মুখের চিনি হাত দিয়ে কুরে কুরে খেয়ে নিই। দারুন মজা তো! তারপর স্বাভাবিকভাবেই বাইরে খেলতে চলে যাই।

দুপুর গড়িয়ে যেতেই ভ্যান ডেকে নিয়ে এসে আমার বাবা ঘরে গিয়ে দেখেন যে, গুড়ের মুখ শেষ করে ফেলা হয়েছে। এ দশা দেখে তিনি ভীষণ রাগান্বিত ও অপ্রস্তুত হয়ে যান। কাজটি আমি করেছি তা তিনি নিশ্চিত, কেননা, বাড়ীর সবার ছোট ও অতিরিক্ত দুষ্টু হওয়ার কারণে এটা আমার দ্বারাই সম্ভব।

বাবা ঘর থেকে বের হয়েই আমাকে খুঁজতে থাকলেন। আমি তখন পাশের বাড়ি। ভাতিজী নার্গিস ছুটে গিয়ে আমাকে বলল, ‘চাচা! তুমি কি গুঁড়ের মুখ খেয়েছ?’ বললাম, ‘হ্যাঁ, খেয়েছি।’ শিগগিরই পালাও, দাদা আসছে, তোমাকে পেলে শেষ করে ফেলবে। বলতে না বলতেই আব্বার দেখা পেলাম। তখনও তিনি খানিক দূরে। দেখা মাত্রই দিলাম দৌঁড়। আব্বা আমার পিছু নিলেন, হাতে লাঠি। কিন্তু দৌঁড়ে তিনি আমার কাছে পরাজিত হলেন। অবশেষে লাঠি ছুড়ে মারলেন, কিন্তু ভাগ্য ভালো যে, সেটা আমার গায়ে লাগল না।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল, তারপর সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে, আমি বাড়ি আসতে সাহস পাইনি। অবশেষে সন্ধ্যার পর পরই পাশের বড় চাচার বাসায় এসে আশ্রয় নিই। শ্রদ্ধেয় চাচা এবং একমাত্র চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী যিনি কিনা আমাকে সন্তান স্নেহে আদর করেছেন সেই ভাবী আমাকে বললেন, তুই থাক এখানে, দেখি কে কী করে তোকে। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে ভয় আমার তত বাড়ছে। ঐ যে নার্গিস বলেছিল, ‘দাদা তোমাকে পেলে শেষ করে ফেলবে।’ লম্বা বারান্দার উত্তর কোণে খাটের ওপর চুপচাপ বসে রইলাম।

এদিকে বাড়িতে যা হবার তাই হয়েছে। সন্ধ্যার পরেই মা কাঁদছে আর বাবাকে বলছে, ‘আমি কিছুই জানিনা আমার ছেলেকে এনে দাও।’ বাবাও অনুতপ্ত হলেন, কিন্তু তাতে আমার কী ? আমি তো ঠিকই অভিমান নিয়ে পাশের বাড়িতে লুকানো সময় কাটাচ্ছি। বাড়িতে যাবই না।

অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাবা হারিকেন হাতে (তখনো গ্রামে বিদ্যুৎ আসেনি) মিয়াভাইসহ দলবল নিয়ে অবশেষে এলেন চাচাদের বাড়িতে। ভাবীই আমার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন- ‘ছেলেটা খেয়েছে না হয় একটু গুঁড়, ও বুঝে না বলে খেয়েছে, তাই বলে তাকে দাবড় দিতে হবে?’ এভাবে কথা চলছে। চাচাও কথা বলছেন আমাকে রক্ষা করতে।

এক পর্যায়ে বুঝতে পারলাম, এক্ষুনি বোধ হয় ওরা এদিকে আসবে। কী করা যায়? ভাবীর সাথে পরামর্শও তো করতে পারছি না। তিনি তো ওদের সাথে ওখানে আছেন। নাহ! নিজের নিরাপত্তার ভাবনা এখন নিজেকেই ভাবতে হবে। এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যাতে বাবার নেতৃত্বে আসা অনুসন্ধানী দলের কাছে আমাকে সহজে আত্মসমর্পণ করতে না হয়। বুদ্ধি বের করলাম। খাটের নিচে বারান্দার এ অংশে ছাগলের কোঠা রয়েছে, আস্তে আস্তে নেমে দরজার দড়িটা খুলে ঢুকে পড়লাম ছাগলের কোঠায়। ইয়েস, এটাই নিরাপদ জায়গা। কিন্তু বেরসিক ছাগলগুলো আমাকে মেনে নিতে পারছিল না বোধ হয়, তারা একটু ডাকতে থাকল। এত আপন ছাগলগুলো কেন আমাকে চিনতে পারছে না! বিপদের সময় আপন মানুষগুলোও কি এ রকম পর পর হয়ে যায়!

ওদিকে কিছুক্ষণ পর তারা মিমাংসার চূড়ান্তে পৌঁছাল বলে মনে হলো। এবার বারান্দার উত্তর প্রান্তে আমাকে নিতে এলো তারা। কিন্তু আমাকে না পেয়ে চাচা ও ভাবী দু’জনই টেনশন করছেন, ‘হায় আল্লাহ! এই একটু আগেও এখানে ছিল, ছেলেটা গেল কোথায়?’ সকলের টেনশনে আরেক মাত্রা যুক্ত হলো। সবাই ভাবছিল, ছেলেটাকে কি পেয়েও হারালাম?

ছাগলগুলোর ডাকাডাকি কোনভাবেই থামানো যাচ্ছিল না। টর্চ লাইট জ্বালিয়ে ওদের যদি দেখানো যেত যে, বাড়ির আদরের ছোট ছেলেটা যে তোদের কাঁঠাল পাতা খাওয়ায়, বিপদের দিনে সেই-ই তোদের সাথে বসে আছে! প্লিজ ডাকাডাকি করিস না। না, কোন কাজ হলো না, বার বার অস্বাভাবিক ডাকাডাকিতে অনুসন্ধানী দলের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। তদুপরি ছাগলের কোঠার দরজাটা খোলা দেখে কোন চোর-টোর আবার এলো কিনা সবাই তা দেখতে এগিয়ে আসছে।

এবার মনে হয় আর রক্ষা নেই! ওরা কাছে আসতেই আমি কেঁদে উঠি, আর ওরা সবাই আমাকে খুঁজে পাওয়ার আনন্দে হাসতে থাকে। এই, এখানে কে? আমি বাড়িতে যেতে চাচ্ছি না, কেন বাবা আমার পিছু ধাওয়া করল? তবু আমাকে জোর করে কোলে তুলে নিয়ে বাবা বাড়ির দিকে রওনা দিলেন। আমার পা ছুঁড়াছুঁড়ি চলছিল তখনো- আমি বাড়ি যাবই না। বাবার কোলে এক আদুরে ছোট ছেলের অভিমানী মৃদু কান্না আর ওদিকে চোখের কোণে অশ্রু জমিয়ে বসে থাকা মমতাময়ী মায়ের অপেক্ষার অভিমানী সুর ততক্ষণে অন্ধকার ভেদ করে সারা গাঁয়ে বুঝি ছড়িয়ে পড়েছিল।

 

বাড়িতে গিয়ে দেখি মা কাঁদছেন। আমাকে কোলে নিলেন, আদর করলেন, সমস্ত গালে মুখে বিশ্বের সেরা স্নেহমাখা চুমুগুলো এঁকে দিলেন, পা দু’টি ধুয়ে দিলেন। খাবার মুখে তুলে দিলেন, কিন্তু আমি খাবই না। অভিমান করেছি, বাবা কেন আমাকে বকা দিলেন ?

নতুন করে ডিম ভেজে খাবার মুখে তুলে দিয়ে মা বললেন, ‘খা বাজান, তোর জন্য আমিও দুপুর থেকে খাইনি’। মায়ের মুখখানা একেবারে শুকনো লাগছে তা বুঝবার মতো পরিণত বয়স তখনো আমার হয়নি। কিন্তু কেরোসিনের স্বল্প আলোর চেরাগে দেখা সেদিনের প্রিয় মায়ের মুখখানা আমার কাছে এখন অনেক কিছুর বার্তা যোগান দেয়। আমার অভিমান ধীরে ধীরে ভাঙতে শুরু করলো। মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে বললাম, ‘মা, তুমি আমাকে অনেক ভালোবাস ?’ মা শুধু আমার দিকে ছল ছল নয়নে তাকিয়ে রইলেন। এত আহ্লাদ দেখানোর সময় এখন না। অনেক কাজ এখনো বাকী। আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে ঘরের কাজ একে একে শেষ করে তবেই তিনি ঘুমাবেন।

সেই পরম মমতাময়ী মা আজ আমার বেঁচে নেই। ১৯৯৪ সালে মাকে হারিয়েছি। বাবাকে হারিয়েছি আরো আগে ১৯৮০ সালে। আমি তৃষ্ণার্ত দাঁড় কাকের মতো এখানে ওখানে খুজে ফিরি কিন্তু মাকে পাই না। কত অভিমান করি, কিন্তু কেউ আমার অভিমান ভাঙাতে আসে না। সারাদিন পরিশ্রমের পর ধুলাবালি নিয়ে শুষ্ক মুখে ঘরে ফিরি কিন্তু কেউ আমার মাথায় ধুলি ঝেড়ে দিতে দিতে বলে না, ‘মুখখানি শুকনো দেখা যাচ্ছে দুপুরে খাসনি ? এখনো গ্রামের বাড়িতে গেলে অশ্রুসজল চোখে মাকে খুঁজি, পাই না। বাড়িটাতে মায়ের অভাব প্রতি পদে পদে অনুভব করি। বাড়ি থেকে কাঁদতে কাঁদতে ঢাকায় ফিরে আসি, এখন কেউ আমার পিছে পিছে আসে না, কেউ জিজ্ঞাসা করে না, ‘বাবা আর কবে আসবি ?’

বড় ইচ্ছে করে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে গল্প শুনি, ইচ্ছে করে মায়ের সোহাগমাখা আঁচলে মুখ ঢেকে লুকোচুরি খেলি। ইচ্ছে করে মায়ের মমতা ও স্নেহহপূর্ণ সাগরে একটু অবগাহন করি। কিন্তু সে দিন আর ফিরে আসবে না। আমার মমতাময়ী মা সহ যেসব মায়েরা চলে গেছেন তাদের যেন জান্নাত নসীব হয়। আর যেসব মায়েরা বেঁচে আছেন আল্লাহ যেন তাঁদের সুস্থ ও সুন্দর রাখেন।

ঢাকা

০১ জুন, ২০১২

লেখকঃ কলামিস্ট, গবেষক এবং বিশিষ্ট ব্যাংকার

আরও পড়ুন