নিজস্বতা ছাড়া বেঁচে থাকা স্ত্রীরা

ফারজানা মাহবুবা

গত দুই সপ্তাহে এদিক সেদিক অনেক বেশী খরচ হয়ে গিয়েছে । তাই বড্ডা স্কুলের প্যান্ট কিনতে যাওয়ার আগে সাথে থাকা ছোটু-কে স্ট্রিক্টলি বললাম,

-‘মা, আজকে কোনো টয় কেনা যাবে না, ওকে?’

-কেনো মা? তুমি তো অনেকদিন টয় কিনে দাও নাই।

ছোটু কৌতূহলী চোখ নিয়ে জিজ্ঞাসা করলো ।

-এ সপ্তাহে কেনা যাবে না। নেক্সট উইকে কিনে দিবো ইনশাআল্লাহ।

আমি তাকে সরাসরি বললাম । ছোটু মুখ কালো করে খুব মিনতির সুরে বললো,

-কিন্তু মা আমি তো আজকে একটা টয় চাই!

রেগে গিয়ে বললাম,

-তাহলে আজকে যাবোই না দোকানে।

বড্ডা হলে ঘ্যান ঘ্যান করতো।কিন্তু দুই মেয়ে কীভাবে যেন একদম দুইরকম হয়েছে আমার।ছোটু বললো সে টয় কিনবে না আজকে।দোকানে গিয়ে বড্ডার স্কুলের প্যান্ট কিনতে কিনতে দেখি ছোটু ছোট্ট একটা পুতুল হাতে নিয়ে মুখ কালো করে পুতুলটাকে দেখছে একবার আর আমাকে দেখছে একবার।আমি দেখেও না দেখার ভান করছি দেখে পুতুলটাকে নিয়ে কাছে এসে সুর করে টেনে টেনে বললো,

-‘মাআআ, আমার এই ডলিটা অনেক শুন্দন (সুন্দর) লাগে!’

আমি বললাম,

-‘হু’
তারপর মুখ ফিরিয়ে প্যান্টের পেমেন্ট করার জন্য মোবাইল গুঁতাচ্ছি।মেয়ে দেখি কাপড় ধরে টানছে।
একটু বিরক্ত হয়ে বললাম,

-‘কী?!’
মেয়ে খুব কষ্টে কান্না আটকাচ্ছে এমন চেহারা করে বললো,

-‘তুমি আর বাবা আমাদেরকে অনেকদিন টয় কিনে দাও না মা!’

দ্যাটস ইট। বাচ্চাকে না করারও একটা সীমা থাকে। এই মেয়ে যদি বড্ডার মত ঘ্যান ঘ্যান করতো তাহলে বকা দিয়ে ‘না’ বলে দেয়াটা সহজ হতো।কিন্তু এই মেয়ে ঘ্যান ঘ্যান করে না।এমনভাবে কথা বলে শেষ পর্যন্ত কিনতেই হয়!পুতুলটা কেনার পর হাতে নিয়ে মেয়ের সে কী খুশী!!এক হাতে পুতুল আরেক হাতে আমার হাত ধরে সে লাফিয়ে লাফিয়ে হাঁটছে!

তার খুশী দেখতে দেখতে হঠাৎ একজন আপুর রিসেন্ট একটা কথা মনে হলো। ভাই উনাকে পুরো সপ্তাহের সংসারের হিসাবের খরচের বাইরে শুধু এক্সট্রা পঞ্চাশ ডলার দেন হাত খরচের। আমি এই যে ছোটুর একটা পুতুল কিনলাম, তাই বড্ডার জন্যও একটা কালারিং বই কিনলাম, এর মধ্যে ছোটুর একটা জামা খুব পছন্দ হলো, সেটাও কিনলাম, আর এই যে বড্ডার স্কুল টার্মের মাঝখানে হঠাৎ করে যে এক্সট্রা প্যান্ট লাগবে, তাতো সংসারের উইকলি খরচের মধ্যে হিসাবে ছিলো না, এই কয়েকটা জিনিষ কিনতেই আমার খরচ হয়ে গেলো আটচল্লিশ ডলার!

ঐ আপুর জায়গায় থাকলে আমাকে নিশ্চয়ই কল করতে হতো আমার জামাই কে।

‘হ্যালো? তোমার ছোটো মেয়ে একটা পুতুল কিনতে চাচ্ছে! হ্যা, এত ডলার দাম! নিবো?’

এই যে নিজের বাচ্চাকে নিজে একটা জিনিষ কিনে দিলাম,বাচ্চা জানে মা’র নিজের এজেন্সী আছে, মা’কে সে একজন স্বতন্ত্র মানুষ হিসেবে রেসপেক্ট করতে শিখছে।আমি বাচ্চাকে কিনে দেই বা না দেই, বাচ্চা জানে এটা মা’র সিদ্ধান্ত।
মা’র ক্ষমতা আছে কিনে দেয়ার।না কিনে দিলেও তা একান্তই মা’র সিদ্ধান্ত।

গত স্কুল টার্মে বড্ডা একটা ভাল রেজাল্ট করার পর মেয়েকে সোজা দোকানে নিয়ে গিয়ে তার প্রিয় লেগো সেকশানে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বলেছিলাম,

-‘কোনটা কিনতে চাও, কিনো’।

মেয়ে সব ভুলে কিছুক্ষণ হাঁ করে তাকিয়ে ছিলো আমার মুখের দিকে। কিছুতেই সে বিশ্বাস করতে পারছিলো না সে যে লেগোটাই কিনতে চায় সেইটাই কিনে দিবে মা!

গত প্রায় চার/পাঁচ মাস ধরে যতবার সে দোকানে আসে ততবার সে মা-কে বলে তার যখন অনেক বড় কোনো রিওয়ার্ড পাওনা হবে তখন সে ঐ সবচে’ বড় একশ বিশ ডলারের লেগো সেটটা নিবে। আর ততবারই নিজেই আবার মন খারাপ করে বলে, এত দাম ঐ সেটটা! মা আর বাবা তাকে কোনো দিনও ওটা কিনে দিবে না!

কখনো পাত্তা দেইনি মেয়ের এমন বিলাসী আব্দারকে।কিন্তু সেদিন যখন মেয়েকে বললাম সত্যিই সে যে সেটটাই কিনতে চায় ওটাই কিনে দিবো, মেয়ে ঐ সেটে একবার হাত দেয় একবার আমার দিকে তাকায়!বললো,

-‘মা, সত্যি এটা কিনবো?! এটাতো অনেক দাম!’

আমি হেসে বললাম,

-‘বললাম তো যেটা চাও আজকে দোকান থেকে সেটাই কিনে দিবো’

মেয়ে আবার হাতটা গুটীয়ে নিয়ে বললো

-‘কিন্তু মা! তুমি তো গরীব হয়ে যাবা তাহলে! তোমার টাকা কমে যাবে!’

অনেক কষ্টে পেট ভর্তি হাসি গিলে ফেলে বললাম,

-‘একটু গরীব হলে কিছু হবে না। আল্লাহ আবার টাকা দিবে ইনশাআল্লাহ’।

বড্ডা সেদিন সেই লেগো সেট কেনার পরে এমনভাবে এত বিশাল সেটটাকে দুইহাতে বুকের কাছে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলো! তার ছোটো দুই হাত দিয়ে পুরোটা কাভার করতে পারছিলো না, তাও সে গাড়ীতে সিটে বসেও বুকে জড়িয়ে ধরে বসে ছিলো!

সেদিন গাড়ী চালাতে চালাতে নিজেকে খুব সুখী লাগছিলো মেয়ের এমন রিয়েকশান দেখে।আমি প্রায়ই ভাবি, যাদের জামাইরা তাদেরকে সপ্তাহে হিসাব করে করে বিশ ডলার দেয়, ত্রিশ ডলার দেয়, পঞ্চাশ ডলার দেয়,
বা প্রচুর জামাই যাদেরকে চিনি, যারা কোনো এক্সট্রা টাকাই দেয় না, যা দরকার বলে নিতে হয়,
-‘আমার সবকিছুই তো তোমার, আর আমাকে বললে আমি কি কখনো না বলি?’

এইসব যুক্তিতে যারা বউকে ফাইনানশিয়ালি নিজের উপর ডিপেন্ডেন্ট করে রাখে, আমি প্রায়ই তাদের কথা ভাবি। এই যে ছোটু বা বড্ডাকে মাঝে মাঝে এটা সেটা কিনে দিতে পারি, পৃথিবীর কাউকে জিজ্ঞেস করতে হয় না আমার একশ বিশ ডলারের লেগো সেট কিনে দেয়ার পরও জামাইকে হিসাব দিতে হয় না ‘এই সপ্তাহে একশ’ বিশ ডলার বেশী খরচ হয়েছে’, অথবা যখন বড্ডার পছন্দের স্যুপটা হঠাৎ খাওয়াতে নিয়ে যাই তার প্রিয় রেষ্টুরেন্টে অথবা যখন ছোটূর পছন্দের খেলার যায়গায় নিয়ে যাই হঠাৎ করে, টিকেটের টাকার কথা কাউকে বলে নিতে হয় না,
নিজের যখন কফি খেতে ইচ্ছে করে অথবা ধুমধাম মধ্যরাতে অনলাইন থেকে যখন খুব দামী একটা বই কিনে ফেলি
কিংবা পছন্দের গাছ তা যতই দামী হোক! এইতো গেলো সপ্তাহে জামাইকে দিয়ে এতগুলো গাছ/টব কেনালাম,
তারপর নিজের থেকে আরো প্রায় দুইশ ডলার খরচ করলাম বাসার এটাসেটা কিনতে আমি এসব সময়ে প্রায়ই সেসব আপুদের কথা ভাবীদের কথা ভাবি । ভাবি একটা মানুষকে যখন এই মুহুর্তগুলোতে অন্য কারো থেকে টাকা চেয়ে নিতে হয় বা হিসাব দিতে হয় বা হাতে যা গোনা গোনা টাকা জামাই দেয় তাই থেকে সপ্তাহ’র পর সপ্তাহ একটূ একটু করে জমিয়ে রাখতে হয় এমন মুহুর্তগুলোর জন্য কেমন লাগে সে আপুদের? ভাবীদের?

ইংলিশে ‘এজেন্সী’ বলে একটা কথা আছে। এই মুহুর্তে এটার হুবুহু বাংলা মাথায় আসছে না। মনে হয় এর মানে হচ্ছে নিজস্বতা। নিজের কাছে নিজেই মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারার ক্ষমতা। এই যে মেয়েদের জন্য এটা সেটা কিনতে পারা বা না কিনতে পারার সিদ্ধান্ত একান্তই আমার- এই যে আমার এজেন্সী-যদি ছোট বড় প্রত্যেকটা জিনিষের জন্য,
প্র-ত্যে-ক-টা জিনিসের জন্য, তা আমার পিরিয়ডের প্যাড থেকে শুরু করে, চোখের আইলাইনার থেকে শুরু করে, মেয়েদের এটা সেটা খেলনা থেকে শুরু করে, রাস্তা দিয়ে যেতে আসতে সেভেন ইলেভেন থেকে চান্স পেলেই কিনে ফেলা সবচে’ প্রিয় কফিটা থেকে শুরু করে, বাসার জন্য কেনা দামী বিছানার চাদরটা থেকে শুরু করে যদি এভরি সিংগল জিনিসের জন্য আমাকে কাউকে ফোন করতে হতো সময়ে অসময়

‘এই শুনছো, এটা দেখলাম এমাত্র, বাসায় এটা দরকার, কিনবো?’

‘এই শুনছো, মেয়েরা এই খেলনাটা কিনতে চাচ্ছে, কিনবো?’

অথবা সপ্তাহের শুরুতে যদি জামাইকে বলতে হতো, ‘এই সপ্তাহে আমার পিরিয়ডের প্যাড কিনতে হবে ।’

‘এই সপ্তাহে আমার এক্সট্রা ত্রিশ ডলার লাগবে একটা বই কেনার জন্য ।’

‘এই সপ্তাহে গেষ্টরা আসবে তাদের খাবারের খরচের জন্য এক্সট্রা এত ডলার লাগবে ।’
আমার প্রায়ই মনে হয়, যাদেরকে এভাবে প্রতিদিন প্রত্যেকটা ডলারের জন্য কারো উপর ডিপেন্ড করে থাকতে হয় । সেই মানুষটা এই খরচকে কীভাবে দেখবে তা ভাবতে হয় । ভেবে দ্বিধা করতে হয় । দ্বিধা করে অনেক কিছু খুব ইচ্ছা করলেও সে ইচ্ছেটাকে গিলে খেয়ে ফেলতে হয় ।

যে আপুদেরকে ভাবীদেরকে এভাবে প্রায়ই ছোট ছোট ইচ্ছেগুলোকে নিজের মনের ভিতরেই কবর দিয়ে ফেলতে হয় প্রতিনিয়তঃ

কেমন লাগে উনাদের?

কেমন লাগে উনাদের নিজস্ব এই এজেন্সী ছাড়া বেঁচে থাকতে?

উনারা কি কখনো এই যে বড্ডাকে সবচে’ দামী লেগোটা কিনে দেয়ার পর মেয়ের যেন সে পৃথিবীর সবচে দামী ট্রেজার পেয়ে গিয়েছে এমন রিএকশান দেখার সৌভাগ্য হয়?

মেয়ের এমন খুশী দেখে বুকের ভিতর অসম্ভব ভাল লাগাটা অনুভব করার সুযোগ হয়?

আশেপাশে অনেক দেখি-

উনি বছরে হান্ড্রেড কের চেয়ে বেশী কামান, কিন্তু বউকে সপ্তাহে এক্সট্রা দশ ডলার দিলেও পরের সপ্তাহে তা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন কেনো তোমাকে তো গত সপ্তাহেই দশ ডলার বেশী দিলাম!

বন্ধুরা ফ্যামিলি নিয়ে যখন তখন বাসায় এলে উনি খাবার দাবার ঘুরাঘুরির পিছনে তিনশ’/ চারশডলার খরচ করে ফেলতে একটা সেকেন্ড দ্বিধা করেন না, কিন্তু বউকে কেনো সপ্তাহে পঞ্চাশ ডলার এক্সট্রা দিতে হবে, তাই নিয়ে লোকাল মসজিদের ইমামকে নিয়ে পর্যন্ত সালিশ বসিয়েছেন বাসায়!

উনি অস্ট্রেলিয়াতেই দুই বাড়ীর মালিক, কিন্তু একটা বাড়ীর নামেও বউ’র নাম নেই! একলা উনার নাম। উনার সোজা কথা, ‘আমার বাড়ী মানেই তো বউ’র বাড়ী। নাকি বউ’র মনে কু আছে? কু না থাকলে তো বাড়ীর নাম নিয়ে কথা বলার কথা না! আমি মরে গেলে কে পাবে? সেইইতো পাবে!’

উনি অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে বউকে টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা পাঠান নিজের মায়ের কাছে। উনার বউকে শ্বাশুড়ীর কাছ থেকে প্রতি মাসে চেয়ে নিতে হয় সে টাকা। তাও সে টাকার পাই পাই হিসাব দিতে হয় শ্বাশুড়ীকে। উনাকে বুঝাতে গেলেই উনি বলেন, ‘ওর নিজের মা হলে কি ও কমপ্লেইন করতো? বউরা কখনোই আসলে শ্বাশুড়ীকে নিজের মা’র মত দেখতে পারে না। কিন্তু তাই বলে আমি তো আমার মাকে ছোট করতে পারি না’! বউ’র খরচ বউকে আর মা’র খরচ মাকে আলাদা করে দেয়ার মধ্যে উনার মা কীভাবে ছোট হবেন- তার কোনো লজিক্যাল ব্যাখ্যা আমি আজো খুঁজে পাইনি!

যারা আপুরা, ভাবীরা, এ লেখা পড়ছেন, আপনার যদি ছেলে থাকে প্লীজ তাকে ছোট বেলা থেকেই শেখাবেন সে যেন তার বউ’র এজেন্সীকে রেসপেক্ট করতে শিখে।

যে মানুষের নিজস্ব এজেন্সী নেই, তার কোনো সেলফ রেসপেক্ট থাকে না।আর যার সেলফ রেসপেক্ট থাকে না, সে মানুষ থাকে না, লোওলি ক্রিয়েচার হয়ে যায় আস্তে আস্তে।সে লোওলি ক্রিয়েচার আর যাই হোক, নিজের বাচ্চাদেরকে গায়ে গতরে মানুষ বানাতে পারবে, কিন্তু মানসিক দিক থেকে মানুষ হওয়ার মত কনফিডেন্স দিতে পারবে না।
আপনার যদি বউ থাকে নিজের বাচ্চাদের স্বার্থেই নিজের বউকে তার এজেন্সী নিয়ে চলতে দিন। সে আপনার কাজের মানুষ না যে তাকে হিসাব করে করে সপ্তাহের বেতন দিবেন।আপনার সামর্থ্যের ভিতরে ফুল এক্সটেন্টে তাকে ফাইনানশিয়াল স্বাধীনতা দিন। সবচে’ ফুল স্কেলে। যেন আপনার সামর্থ্যের ভিতরে আপনার বউ নিজেকে রানী হিসেবে দেখতে পায়।তাহলেই সে তার রাজা-কে সম্মান করবে। আপনাকে রেসপেক্ট করবে।

এই যে সিডনীতে ক’দিন ধরে থম মেরে ঝিমঝিম বৃষ্টি পড়েই যাচ্ছে, নিজে যখন সেভেন ইলেভেন থেকে কফিটা নিয়ে গাড়ীতে বসে গরম কাপটা দু’হাতে ধরে উষ্ণতাটা চোখ বন্ধ করে নিজের ভিতর টেনে নেই, কাউকে হিসাবের খাতায় বলতে হয় না, ‘আমার কফির খরচ এত টাকা’

না, আমার জামাই’র প্রতি কৃতজ্ঞতায় না । আল্লাহ’র প্রতি কৃতজ্ঞতায় মনটা ভরে আসে। না, কফি’র জন্য না ।এমন জামাই দেয়ার জন্য  । যে জামাই অন্ততঃ এটা জানে আমার কোনো ধরনের এজেন্সীতে সে ভুলেও এক পা মাড়ালে

সংসারে কেয়ামত থেকে কেয়ামত শুরু হয়ে যাবে!

যে জামাই অন্ততঃ এটা জানে তার বউ পৃথিবীর সবকিছু ছাড়া বাঁচতে পারলেও তার দুই মেয়ে আর তার নিজস্ব স্বাধীনতা ছাড়া এক মুহুর্ত বাঁচবে না! মনে হয় আওয়াজ করে বলে ফেলেছিলাম ‘আলহামদুলিল্লাহ!’

বড্ডা পিছন সিট থেকে বললো,

-‘হোয়াই ডীড ইয়্যু সে আলহামদুলিল্লাহ মা?’

খেঁকিয়ে উঠে বললাম,

– ‘তোমাকে না বলেছি বাংলা বলতে? দিবো একটা কানের নীচে থাপ্পড়!’

মুখ কালো করে সে আবার বাংলায় বললো

-‘আলহামদুলিল্লাহ কেনো বলছো মা?’

কফির কাপটা সাইডে রেখে গাড়ী স্টার্ট দিতে দিতে এবার হালকা হাসি মুখে বললাম,

-‘এমনি বলেছি মা! সবকিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ!’

 

লেখকঃ মোটিভেশনাল লেখক ও অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী

 

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.